সংবাদ

সংকটে ব্যাংক খাত

ডিএসইর ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে ১৮টি ব্যাংক, বাড়ছে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ


রেজাউল করিম
রেজাউল করিম
প্রকাশ: ৪ মে ২০২৬, ১২:১৪ এএম

ডিএসইর ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে ১৮টি ব্যাংক, বাড়ছে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ

দেশের অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত ব্যাংক খাত এখন গভীর সংকটের মুখে পড়েছে। প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যাংকিং খাতে মোট তালিকাভুক্ত ব্যাংকের সংখ্যা বর্তমানে ৩৬টি।

সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে অর্ধেক অর্থাৎ ১৮টি ব্যাংকই এখন ‘জেড’ বা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ক্যাটাগরিতে অবস্থান করছে। এটি গত এক দশকের মধ্যে ব্যাংক খাতের জন্য সবচেয়ে বড় নেতিবাচক রেকর্ড।

পুঁজিবাজারের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো কোম্পানি যদি নির্ধারিত সময়ে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) করতে ব্যর্থ হয়, শেয়ারহোল্ডারদের জন্য লভ্যাংশ (ডিভিডেন্ড) ঘোষণা না করে, অথবা টানা ছয় মাস বা তার বেশি সময় উৎপাদন বা ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ থাকে, তবে তাকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করা হয়। ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে মূলত সময়মতো লভ্যাংশ দিতে না পারায় এবং আর্থিক প্রতিবেদনে স্বচ্ছতার অভাবই এই অবনমনের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

বেশ কিছুদিন আগে থেকে ৮টি ব্যাংক জেড ক্যাটাগরিতে ছিল। আর গত কয়েকদিনে আরও ১০টি ব্যাংক জেড ক্যাটাগরিতে নেমেছে। বর্তমানে ডিএসইর ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে থাকা ব্যাংকগুলো হলো: এবি ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক।

ডিএসই সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে দেশের শেয়ারবাজারে (ডিএসই ও সিএসই) ব্যাংকিং খাতে তালিকাভুক্ত মোট ৩৬টি ব্যাংকের মধ্যে বড় একটি অংশের অবস্থা খুবই খারাপ। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের একমাত্র ব্যাংক হিসেবে রূপালী ব্যাংকও ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অবস্থান করছে। অথচ কয়েক বছর আগেও ব্যাংক খাতকে শেয়ারবাজারের সবচেয়ে শক্তিশালী ও নিরাপদ বিনিয়োগের খাত হিসেবে বিবেচনা করা হতো। বর্তমানে ৩৬টি ব্যাংকের মধ্যে মাত্র কয়েকটি ব্যাংক নিয়মিত লভ্যাংশ ঘোষণা ও সুশাসন বজায় রেখে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে টিকে থাকতে পেরেছে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যাংক খাতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, সুশাসনের চরম ঘাটতি এবং লাগামহীন খেলাপি ঋণ এখন পুঁজিবাজারে প্রতিফলিত হচ্ছে। অনেক ব্যাংকের তারল্য সংকট এতটাই প্রকট যে, তারা শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ন্যূনতম লভ্যাংশ দেওয়ার সামর্থ্যও হারিয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ব্যাংকের পর্ষদ পুনর্গঠন এবং ঋণের নামে অর্থ আত্মসাতের তথ্য ফাঁস হওয়ার পর সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

একটি কোম্পানি যখন ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে যায়, তখন সেই শেয়ারের বিপরীতে বিনিয়োগকারীরা কোনো মার্জিন ঋণ সুবিধা পান না। এছাড়া এই শেয়ারগুলো বিক্রি করতেও সময় বেশি লাগে এবং কোম্পানিগুলোর ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়ায় বাজারে শেয়ারের দাম ব্যাপকভাবে কমে যায়। ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পোর্টফোলিও এখন বড় ধরনের লোকসানের মুখে।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও সরকারি প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান আবু আহমেদ সংবাদকে বলেন, ‘এসব ব্যাংক অটোমেটিক জেড ক্যাটাগরিতে নেমেছে। অনেক ব্যাংকের খেলাপি ঋণ অনেক বেশি। তারা ডিভিডেন্ড দিতে পারেনি। তাই নেমে গেছে। আর খুব দ্রুত এখান থেকে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে বলে আমার মনে হয় না। হয়তো পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। একের পর এক কোম্পানির খবর আসছে যে, তাদের অবস্থা নেগেটিভ  দিকে যাচ্ছে।’

একটা দেশের অর্থনীতির প্রতিচ্ছবি সেই দেশের শেয়ারবাজার, এমনটা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শেয়ারবাজার তো আকাশ থেকে পড়বে না। একটা দেশের আর্থিক অবস্থা ভালো হলে শেয়ারবাজার অটোমেটিক ভালো হয়ে যাবে। দেশের অর্থনীতি তো বর্তমানে খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে আছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা সব সরকারের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করেছি। আগের আওয়ামী লীগ সরকারও বিষয়টি জানতো, ইউনুস সরকারও জানতো, এখন বিএনপি সরকারও খুব ভালো করে জানে শেয়ারবাজারে ভালো করতে হলে কি কি করতে হবে। এখন সরকার কতটা করবে, কিভাবে করবে সেটাই দেখার বিষয়।’

দেশের অর্থনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে ব্যাংকগুলোর এই অবনমনকে কেবল শেয়ারবাজারের সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি সামগ্রিক অর্থনৈতিক শৃঙ্খলার জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা বলে জানান তিনি। এই পরিস্থিতিতে, সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এখন তাকিয়ে আছেন নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কঠোর পদক্ষেপের দিকে যাতে তাদের কষ্টার্জিত মূলধন অন্তত সুরক্ষিত থাকে।

কথা হয় ফয়সাল হোসেন নামের একজন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর সঙ্গে। হতাশা জানিয়ে তিনি সংবাদকে বলেন, ‘আশা করেছিলাম, নতুন সরকার এলো, হয়তো শেয়ারবাজার ভালো হবে। কিন্তু একদিন সূচক উঠলে দুই দিন পড়ে। এভাবে দিন দিন অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছে। এই অবস্থায় সরকার ও বিএসইসি কি করছে বুঝতে পারছি না।’

শেয়ারবাজার থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার খুব বেশি বিনিয়োগ নেই। তবে যেটুকুই আছে, আমার পুঁজিটা উঠে এলেই আমি শেয়ার বিক্রি করে বেরিয়ে যাবো। কিন্তু এখনও পুঁজি উঠার মতো পরিস্থিতে নেই। তাই এখনও অপেক্ষা করছি।’

রবিবার ডিএসইতে সূচকের পতন হয়েছে। এদিন ডিএসইর প্রধান সূচক ‘ডিএসইএক্স’ ২১ দশমিক ৪৮ পয়েন্ট কমেছে। বর্তমানে সূচকটি অবস্থান করছে ৫ হাজার ২৬৫ পয়েন্টে। এছাড়া, ডিএসইর অপর সূচক ‘ডিএসইএস’ ২ দশমিক ৪৫ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৫০ পয়েন্ট এবং ‘ডিএস-৩০’ সূচক ১ দশমিক ৮৮ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

রবিবার ডিএসইতে ৮২৯ কোটি ৩৭ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিলো ৮৬৪ কোটি ০২ লাখ টাকা টাকা।

রবিবার ডিএসইতে মোট ৩৯৬ টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে। লেনদেনে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ১৬৫ টি কোম্পানির, বিপরীতে ১৮০ টি কোম্পানির দর কমেছে। পাশাপাশি ৫১ টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ০৪ মে ২০২৬


ডিএসইর ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে ১৮টি ব্যাংক, বাড়ছে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ

প্রকাশের তারিখ : ০৪ মে ২০২৬

featured Image

দেশের অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত ব্যাংক খাত এখন গভীর সংকটের মুখে পড়েছে। প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যাংকিং খাতে মোট তালিকাভুক্ত ব্যাংকের সংখ্যা বর্তমানে ৩৬টি।

সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে অর্ধেক অর্থাৎ ১৮টি ব্যাংকই এখন ‘জেড’ বা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ক্যাটাগরিতে অবস্থান করছে। এটি গত এক দশকের মধ্যে ব্যাংক খাতের জন্য সবচেয়ে বড় নেতিবাচক রেকর্ড।

পুঁজিবাজারের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো কোম্পানি যদি নির্ধারিত সময়ে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) করতে ব্যর্থ হয়, শেয়ারহোল্ডারদের জন্য লভ্যাংশ (ডিভিডেন্ড) ঘোষণা না করে, অথবা টানা ছয় মাস বা তার বেশি সময় উৎপাদন বা ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ থাকে, তবে তাকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করা হয়। ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে মূলত সময়মতো লভ্যাংশ দিতে না পারায় এবং আর্থিক প্রতিবেদনে স্বচ্ছতার অভাবই এই অবনমনের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

বেশ কিছুদিন আগে থেকে ৮টি ব্যাংক জেড ক্যাটাগরিতে ছিল। আর গত কয়েকদিনে আরও ১০টি ব্যাংক জেড ক্যাটাগরিতে নেমেছে। বর্তমানে ডিএসইর ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে থাকা ব্যাংকগুলো হলো: এবি ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক।

ডিএসই সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে দেশের শেয়ারবাজারে (ডিএসই ও সিএসই) ব্যাংকিং খাতে তালিকাভুক্ত মোট ৩৬টি ব্যাংকের মধ্যে বড় একটি অংশের অবস্থা খুবই খারাপ। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের একমাত্র ব্যাংক হিসেবে রূপালী ব্যাংকও ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অবস্থান করছে। অথচ কয়েক বছর আগেও ব্যাংক খাতকে শেয়ারবাজারের সবচেয়ে শক্তিশালী ও নিরাপদ বিনিয়োগের খাত হিসেবে বিবেচনা করা হতো। বর্তমানে ৩৬টি ব্যাংকের মধ্যে মাত্র কয়েকটি ব্যাংক নিয়মিত লভ্যাংশ ঘোষণা ও সুশাসন বজায় রেখে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে টিকে থাকতে পেরেছে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যাংক খাতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, সুশাসনের চরম ঘাটতি এবং লাগামহীন খেলাপি ঋণ এখন পুঁজিবাজারে প্রতিফলিত হচ্ছে। অনেক ব্যাংকের তারল্য সংকট এতটাই প্রকট যে, তারা শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ন্যূনতম লভ্যাংশ দেওয়ার সামর্থ্যও হারিয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ব্যাংকের পর্ষদ পুনর্গঠন এবং ঋণের নামে অর্থ আত্মসাতের তথ্য ফাঁস হওয়ার পর সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

একটি কোম্পানি যখন ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে যায়, তখন সেই শেয়ারের বিপরীতে বিনিয়োগকারীরা কোনো মার্জিন ঋণ সুবিধা পান না। এছাড়া এই শেয়ারগুলো বিক্রি করতেও সময় বেশি লাগে এবং কোম্পানিগুলোর ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়ায় বাজারে শেয়ারের দাম ব্যাপকভাবে কমে যায়। ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পোর্টফোলিও এখন বড় ধরনের লোকসানের মুখে।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও সরকারি প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান আবু আহমেদ সংবাদকে বলেন, ‘এসব ব্যাংক অটোমেটিক জেড ক্যাটাগরিতে নেমেছে। অনেক ব্যাংকের খেলাপি ঋণ অনেক বেশি। তারা ডিভিডেন্ড দিতে পারেনি। তাই নেমে গেছে। আর খুব দ্রুত এখান থেকে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে বলে আমার মনে হয় না। হয়তো পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। একের পর এক কোম্পানির খবর আসছে যে, তাদের অবস্থা নেগেটিভ  দিকে যাচ্ছে।’

একটা দেশের অর্থনীতির প্রতিচ্ছবি সেই দেশের শেয়ারবাজার, এমনটা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শেয়ারবাজার তো আকাশ থেকে পড়বে না। একটা দেশের আর্থিক অবস্থা ভালো হলে শেয়ারবাজার অটোমেটিক ভালো হয়ে যাবে। দেশের অর্থনীতি তো বর্তমানে খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে আছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা সব সরকারের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করেছি। আগের আওয়ামী লীগ সরকারও বিষয়টি জানতো, ইউনুস সরকারও জানতো, এখন বিএনপি সরকারও খুব ভালো করে জানে শেয়ারবাজারে ভালো করতে হলে কি কি করতে হবে। এখন সরকার কতটা করবে, কিভাবে করবে সেটাই দেখার বিষয়।’

দেশের অর্থনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে ব্যাংকগুলোর এই অবনমনকে কেবল শেয়ারবাজারের সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি সামগ্রিক অর্থনৈতিক শৃঙ্খলার জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা বলে জানান তিনি। এই পরিস্থিতিতে, সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এখন তাকিয়ে আছেন নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কঠোর পদক্ষেপের দিকে যাতে তাদের কষ্টার্জিত মূলধন অন্তত সুরক্ষিত থাকে।

কথা হয় ফয়সাল হোসেন নামের একজন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর সঙ্গে। হতাশা জানিয়ে তিনি সংবাদকে বলেন, ‘আশা করেছিলাম, নতুন সরকার এলো, হয়তো শেয়ারবাজার ভালো হবে। কিন্তু একদিন সূচক উঠলে দুই দিন পড়ে। এভাবে দিন দিন অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছে। এই অবস্থায় সরকার ও বিএসইসি কি করছে বুঝতে পারছি না।’

শেয়ারবাজার থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার খুব বেশি বিনিয়োগ নেই। তবে যেটুকুই আছে, আমার পুঁজিটা উঠে এলেই আমি শেয়ার বিক্রি করে বেরিয়ে যাবো। কিন্তু এখনও পুঁজি উঠার মতো পরিস্থিতে নেই। তাই এখনও অপেক্ষা করছি।’

রবিবার ডিএসইতে সূচকের পতন হয়েছে। এদিন ডিএসইর প্রধান সূচক ‘ডিএসইএক্স’ ২১ দশমিক ৪৮ পয়েন্ট কমেছে। বর্তমানে সূচকটি অবস্থান করছে ৫ হাজার ২৬৫ পয়েন্টে। এছাড়া, ডিএসইর অপর সূচক ‘ডিএসইএস’ ২ দশমিক ৪৫ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৫০ পয়েন্ট এবং ‘ডিএস-৩০’ সূচক ১ দশমিক ৮৮ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

রবিবার ডিএসইতে ৮২৯ কোটি ৩৭ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিলো ৮৬৪ কোটি ০২ লাখ টাকা টাকা।

রবিবার ডিএসইতে মোট ৩৯৬ টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে। লেনদেনে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ১৬৫ টি কোম্পানির, বিপরীতে ১৮০ টি কোম্পানির দর কমেছে। পাশাপাশি ৫১ টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দর অপরিবর্তিত রয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত