সংবাদ

মধুপুরে নালা দখল করে চাষাবাদ, জলাবদ্ধতায় ডুবল হাওদা বিলের ধান


প্রতিনিধি, মধুপুর (টাঙ্গাইল)
প্রতিনিধি, মধুপুর (টাঙ্গাইল)
প্রকাশ: ৪ মে ২০২৬, ০৭:১৮ পিএম

মধুপুরে নালা দখল করে চাষাবাদ, জলাবদ্ধতায় ডুবল হাওদা বিলের ধান
মধুপুরের হাওদা বিলে বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়া পাকা ধান তুলে আনছেন কৃষকরা। ছবি : সংবাদ

টানা কয়েক দিনের বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার হাওদা বিলের কয়েক হাজার বিঘা জমির পাকা বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বিলের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র নালাটি প্রভাবশালীরা ভরাট করে আবাদি জমি তৈরি করায় এই ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

মধুপুর শহর থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে অরণখোলা ও কুড়াগাছা ইউনিয়নের পিরোজপুর, কাকরাইদ, আকালিয়াবাড়ি, জলছত্র ও গাছাবাড়ি এলাকায় এই হাওদা বিলের অবস্থান। বিলটি এই অঞ্চলের প্রধান শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত। সারা বছরের খোরাকের জন্য এই বিলের ধানের ওপরই নির্ভর করেন কয়েক হাজার কৃষক।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিলের মাঝখান দিয়ে প্রবাহিত নালাটির উজানে ক্ষীরু নদী এবং ভাটিতে গোঁজা খাল হয়ে বংশী নদীতে মিশেছে। কিন্তু গাছাবাড়ি থেকে আকালিয়াবাড়ি পর্যন্ত নালার বড় একটি অংশ প্রভাবশালীরা দখল করে ভরাট করে ফেলেছেন। ১৪ হাত প্রশস্ত নালাটি এখন সরু ড্রেনে পরিণত হয়েছে। ফলে বৃষ্টির সময় বনাঞ্চল ও উজানের পানি নামতে না পেরে বিলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, অনেকে কোমর সমান পানিতে নেমে ভেলা বা নৌকায় করে ধান কাটার চেষ্টা করছেন।

পিরোজপুর গ্রামের কৃষক দুদু মিয়া (৪৫) বলেন, ‘আড়াই বিঘা জমির ধান পানির নিচে। ১৪ হাজার টাকা চুক্তিতে শ্রমিক নিয়েছি ধান কেটে পাড়ে তোলার জন্য। যে খরচ হচ্ছে, ধানের দামে তা পোষাবে না। এবার বড় লোকসান গুনতে হবে।’

আরেক কৃষক আকবর হোসেন জানান, শ্রমিকের মজুরি এখন আকাশচুম্বী। বিঘা প্রতি ৬-৭ হাজার টাকা দিলেও পানি থেকে ধান তুলে শুকানোর জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না।

মধুপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও অরণখোলা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সরকার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, ‘ঐতিহ্যবাহী এই বিলটি ধান ও মাছের জন্য বিখ্যাত। কিন্তু নালাটি দখল হয়ে যাওয়ায় প্রতিবছর কৃষকের সর্বনাশ হচ্ছে। দ্রুত খালটি উদ্ধার ও খনন করা প্রয়োজন।’

এ বিষয়ে মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রকিব আল রানা বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে হাওদা বিলের নিচু অংশের ধান তলিয়ে গেছে। কৃষকেরা কষ্ট করে ধান তোলার চেষ্টা করছেন। নালাটি খনন করা হলে এই স্থায়ী জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জুবায়ের হোসেন বলেন, ‘হাওদা বিলের নালাসহ মধুপুরের ২২টি খাল খননের জন্য তালিকা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত খননকাজ শুরু করা হবে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ০৪ মে ২০২৬


মধুপুরে নালা দখল করে চাষাবাদ, জলাবদ্ধতায় ডুবল হাওদা বিলের ধান

প্রকাশের তারিখ : ০৪ মে ২০২৬

featured Image

টানা কয়েক দিনের বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার হাওদা বিলের কয়েক হাজার বিঘা জমির পাকা বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বিলের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র নালাটি প্রভাবশালীরা ভরাট করে আবাদি জমি তৈরি করায় এই ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

মধুপুর শহর থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে অরণখোলা ও কুড়াগাছা ইউনিয়নের পিরোজপুর, কাকরাইদ, আকালিয়াবাড়ি, জলছত্র ও গাছাবাড়ি এলাকায় এই হাওদা বিলের অবস্থান। বিলটি এই অঞ্চলের প্রধান শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত। সারা বছরের খোরাকের জন্য এই বিলের ধানের ওপরই নির্ভর করেন কয়েক হাজার কৃষক।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিলের মাঝখান দিয়ে প্রবাহিত নালাটির উজানে ক্ষীরু নদী এবং ভাটিতে গোঁজা খাল হয়ে বংশী নদীতে মিশেছে। কিন্তু গাছাবাড়ি থেকে আকালিয়াবাড়ি পর্যন্ত নালার বড় একটি অংশ প্রভাবশালীরা দখল করে ভরাট করে ফেলেছেন। ১৪ হাত প্রশস্ত নালাটি এখন সরু ড্রেনে পরিণত হয়েছে। ফলে বৃষ্টির সময় বনাঞ্চল ও উজানের পানি নামতে না পেরে বিলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, অনেকে কোমর সমান পানিতে নেমে ভেলা বা নৌকায় করে ধান কাটার চেষ্টা করছেন।

পিরোজপুর গ্রামের কৃষক দুদু মিয়া (৪৫) বলেন, ‘আড়াই বিঘা জমির ধান পানির নিচে। ১৪ হাজার টাকা চুক্তিতে শ্রমিক নিয়েছি ধান কেটে পাড়ে তোলার জন্য। যে খরচ হচ্ছে, ধানের দামে তা পোষাবে না। এবার বড় লোকসান গুনতে হবে।’

আরেক কৃষক আকবর হোসেন জানান, শ্রমিকের মজুরি এখন আকাশচুম্বী। বিঘা প্রতি ৬-৭ হাজার টাকা দিলেও পানি থেকে ধান তুলে শুকানোর জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না।

মধুপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও অরণখোলা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সরকার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, ‘ঐতিহ্যবাহী এই বিলটি ধান ও মাছের জন্য বিখ্যাত। কিন্তু নালাটি দখল হয়ে যাওয়ায় প্রতিবছর কৃষকের সর্বনাশ হচ্ছে। দ্রুত খালটি উদ্ধার ও খনন করা প্রয়োজন।’

এ বিষয়ে মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রকিব আল রানা বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে হাওদা বিলের নিচু অংশের ধান তলিয়ে গেছে। কৃষকেরা কষ্ট করে ধান তোলার চেষ্টা করছেন। নালাটি খনন করা হলে এই স্থায়ী জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জুবায়ের হোসেন বলেন, ‘হাওদা বিলের নালাসহ মধুপুরের ২২টি খাল খননের জন্য তালিকা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত খননকাজ শুরু করা হবে।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত