সংবাদ

ত্রাণমন্ত্রী

হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত ১ লাখ পরিবার খাদ্য ও অর্থ সহায়তা পাবে


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৪ মে ২০২৬, ০৭:৪৮ পিএম

হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত ১ লাখ পরিবার খাদ্য ও অর্থ সহায়তা পাবে

  • বজ্রপাত থেকে রক্ষায় আশ্রয়কেন্দ্র বানানো হবে
  • সুনামগঞ্জ যাচ্ছেন দুই মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখ্য সচিব

হাওরাঞ্চলে অতি বৃষ্টি ও হঠাৎ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় এক লাখ পরিবারকে তিন মাস সরকারের তরফে আর্থিক ও খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। প্রাকৃতিক দুর্যোগে গত কয়েকদিন হাওর ও নিম্নাঞ্চলে ব্যাপক ফসলডুবির ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে ছয় জেলার ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

মঙ্গলবার (৪ মে) ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের এক অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসব কথা জানান তিনি।

কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার মঙ্গলবার সুনামগঞ্জের বন্যাকবলিত হাওরাঞ্চল সফরে যাবেন। দুর্যোগ মন্ত্রী জানান, তিনি নিজেও এ সফরে সঙ্গী হবেন।

গত কয়েকদিনের ভারি বৃষ্টিপাতে সুনামগঞ্জসহ হাওরাঞ্চলে বন্যায় ‘হেক্টর হেক্টর জমির’ ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দুর্যোগ মন্ত্রী সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শনে তাদের সুনামগঞ্জ সফরে যাওয়ার তথ্য দেন।

তিনি বলেন, “আপনারা তো ইতিমধ্যে জেনেছেন এবং গণমাধ্যম থেকে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে যে হাওর অঞ্চল বিশেষ করে কয়েকটি জেলায় ব্যাপক ক্ষতিসাধিত হয়েছে অতিরিক্ত বৃষ্টি এবং উজানের পানি আসার কারণে। কোনো কোনো জেলায় দেখা যাচ্ছে যে, ৪০ ভাগ ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ৬০ ভাগ ফসল পানির নিচে ডুবে গেছে। আমরা যেহেতু দুর্যোগ নিয়ে কাজ করি, দুর্যোগ হলে সেখানে কাজ করতে যাচ্ছি।”

দুর্যোগ মন্ত্রী বলেন, “আমরা সেখানে একটা তালিকা তৈরি করার চেষ্টা করেছি এই ছয়টি জেলায়। প্রায় এক লাখ পরিবারকে চিহ্নিত করেছি কম-বেশি কোনো কোনো জেলায়। আগামী তিন মাস তাদেরকে কিছু সহায়তা দান করব আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে। আর্থিক সহায়তা দেব এবং কিছু খাদ্য দেব সেই অঞ্চলে।”

তিনি বলেন, পরবর্তীতে কৃষি পুনর্বাসনের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়কে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন জানিয়ে দুর্যোগ মন্ত্রী বলেন, “পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে কাজ করছেন, এই যে বারবার হাওর অঞ্চলে যে ক্ষতি হচ্ছে, এটি একটি গবেষণার বিষয় কিন্তু।”

বজ্রপাতে ক্ষয়ক্ষতি সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে দুর্যোগ মন্ত্রী বলেন, “বজ্রপাত সম্প্রতি কয়েক বছর ধরে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এ বছরও হচ্ছে। এখানে কৃষকরা যাতে ওই সময়ে বিশেষ করে যারা ধান কাটার অবস্থায় থাকেন, তাদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র বানাব আগামী বছর। এইটা আজকে জেলা প্রশাসকদের বলছি, ওনারা অ্যাসেসমেন্ট করবেন। হাওর এবং উত্তর অঞ্চলে এটা ব্যাপকভাবে হয়।”

মন্ত্রী বলেন, “সেখানে আশ্রয়কেন্দ্র বানাব এবং সেখানে টাওয়ার করে দেব যাতে বজ্রপাতের নিরোধ হয় এবং তারা ওই সময় আশ্রয় নিতে পারে এবং সেখানে সাইরেন দিয়ে সমস্ত কৃষককে অ্যালার্ট করে দেব।”

বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলার প্রস্তুতির বিষয়ে ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, “আমরাতো তিনটা স্তরে কাজ করে থাকি। দুর্যোগ শুরু হওয়ার পূর্বকালীন কিছু সতর্কবাণী দিয়ে থাকি। প্রস্তুতির মধ্যে বলি যে এই সমস্ত আশ্রয় কেন্দ্র যেগুলো নির্মাণ করেছি, অথবা যেগুলো স্কুল-প্রতিষ্ঠানে আছে, সেখানে আশ্রয় নিতে বলি।”

মন্ত্রী বলেন, “দুর্যোগ চলাকালীন তাদের খাদ্য সামগ্রী দিয়ে সহায়তা দান করি। আবার দুর্যোগের পরে পুনর্বাসনের কাজগুলো করি। তিনটা স্তরে কাজ করে থাকি।

এ সময় ক্ষতি মোকাবিলায় যাবতীয় প্রস্তুতি সরকারের আছে বলেও জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ০৪ মে ২০২৬


হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত ১ লাখ পরিবার খাদ্য ও অর্থ সহায়তা পাবে

প্রকাশের তারিখ : ০৪ মে ২০২৬

featured Image

  • বজ্রপাত থেকে রক্ষায় আশ্রয়কেন্দ্র বানানো হবে
  • সুনামগঞ্জ যাচ্ছেন দুই মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখ্য সচিব

হাওরাঞ্চলে অতি বৃষ্টি ও হঠাৎ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় এক লাখ পরিবারকে তিন মাস সরকারের তরফে আর্থিক ও খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। প্রাকৃতিক দুর্যোগে গত কয়েকদিন হাওর ও নিম্নাঞ্চলে ব্যাপক ফসলডুবির ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে ছয় জেলার ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

মঙ্গলবার (৪ মে) ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের এক অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসব কথা জানান তিনি।

কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার মঙ্গলবার সুনামগঞ্জের বন্যাকবলিত হাওরাঞ্চল সফরে যাবেন। দুর্যোগ মন্ত্রী জানান, তিনি নিজেও এ সফরে সঙ্গী হবেন।

গত কয়েকদিনের ভারি বৃষ্টিপাতে সুনামগঞ্জসহ হাওরাঞ্চলে বন্যায় ‘হেক্টর হেক্টর জমির’ ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দুর্যোগ মন্ত্রী সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শনে তাদের সুনামগঞ্জ সফরে যাওয়ার তথ্য দেন।

তিনি বলেন, “আপনারা তো ইতিমধ্যে জেনেছেন এবং গণমাধ্যম থেকে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে যে হাওর অঞ্চল বিশেষ করে কয়েকটি জেলায় ব্যাপক ক্ষতিসাধিত হয়েছে অতিরিক্ত বৃষ্টি এবং উজানের পানি আসার কারণে। কোনো কোনো জেলায় দেখা যাচ্ছে যে, ৪০ ভাগ ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ৬০ ভাগ ফসল পানির নিচে ডুবে গেছে। আমরা যেহেতু দুর্যোগ নিয়ে কাজ করি, দুর্যোগ হলে সেখানে কাজ করতে যাচ্ছি।”

দুর্যোগ মন্ত্রী বলেন, “আমরা সেখানে একটা তালিকা তৈরি করার চেষ্টা করেছি এই ছয়টি জেলায়। প্রায় এক লাখ পরিবারকে চিহ্নিত করেছি কম-বেশি কোনো কোনো জেলায়। আগামী তিন মাস তাদেরকে কিছু সহায়তা দান করব আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে। আর্থিক সহায়তা দেব এবং কিছু খাদ্য দেব সেই অঞ্চলে।”

তিনি বলেন, পরবর্তীতে কৃষি পুনর্বাসনের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়কে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন জানিয়ে দুর্যোগ মন্ত্রী বলেন, “পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে কাজ করছেন, এই যে বারবার হাওর অঞ্চলে যে ক্ষতি হচ্ছে, এটি একটি গবেষণার বিষয় কিন্তু।”

বজ্রপাতে ক্ষয়ক্ষতি সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে দুর্যোগ মন্ত্রী বলেন, “বজ্রপাত সম্প্রতি কয়েক বছর ধরে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এ বছরও হচ্ছে। এখানে কৃষকরা যাতে ওই সময়ে বিশেষ করে যারা ধান কাটার অবস্থায় থাকেন, তাদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র বানাব আগামী বছর। এইটা আজকে জেলা প্রশাসকদের বলছি, ওনারা অ্যাসেসমেন্ট করবেন। হাওর এবং উত্তর অঞ্চলে এটা ব্যাপকভাবে হয়।”

মন্ত্রী বলেন, “সেখানে আশ্রয়কেন্দ্র বানাব এবং সেখানে টাওয়ার করে দেব যাতে বজ্রপাতের নিরোধ হয় এবং তারা ওই সময় আশ্রয় নিতে পারে এবং সেখানে সাইরেন দিয়ে সমস্ত কৃষককে অ্যালার্ট করে দেব।”

বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলার প্রস্তুতির বিষয়ে ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, “আমরাতো তিনটা স্তরে কাজ করে থাকি। দুর্যোগ শুরু হওয়ার পূর্বকালীন কিছু সতর্কবাণী দিয়ে থাকি। প্রস্তুতির মধ্যে বলি যে এই সমস্ত আশ্রয় কেন্দ্র যেগুলো নির্মাণ করেছি, অথবা যেগুলো স্কুল-প্রতিষ্ঠানে আছে, সেখানে আশ্রয় নিতে বলি।”

মন্ত্রী বলেন, “দুর্যোগ চলাকালীন তাদের খাদ্য সামগ্রী দিয়ে সহায়তা দান করি। আবার দুর্যোগের পরে পুনর্বাসনের কাজগুলো করি। তিনটা স্তরে কাজ করে থাকি।

এ সময় ক্ষতি মোকাবিলায় যাবতীয় প্রস্তুতি সরকারের আছে বলেও জানান তিনি।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত