নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার বুড়িতিস্তা, নাউতারা, কুমলাই ও ধুম নদী চারটি আজ অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে। একসময় খরস্রোতা এই নদীগুলো এখন বালু, পলি ও দখলদারদের কবলে প্রায় নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে। নদীর বুকে ফসল চাষ হচ্ছে। অনেক জায়গায় বাঁধ দিয়ে জমি তৈরি করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী ব্যক্তি ও বালুখেকো চক্র নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করে দিয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন চলছে প্রকাশ্যে। প্রশাসনের নজরদারি অপর্যাপ্ত বলে অনেকে মনে করেন।
গত তিন বছর আগে প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নাউতারা ও ধুম নদীর ৪০ কিলোমিটার খনন করা হয়েছিল। অভিযোগ আছে, খননের পর উত্তোলিত বালু পাড়ে ফেলে রাখায় বর্ষার পানিতে তা আবার নদীতে পড়ে ভরাট করে দিয়েছে। ফলে নদীর নাব্য ফেরেনি।
নদী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু খনন করলেই চলবে না। নদীর প্রকৃত প্রস্থ, পানিপ্রবাহ ও বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। নিয়মিত তদারকি, সীমানা নির্ধারণ এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদ ছাড়া নদী রক্ষা সম্ভব নয়।
জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে দখলদারদের তালিকা তৈরি করেছে। কিন্তু তা কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ এখনও চোখে পড়ছে না।
নদ-নদী শুধু পানির উৎস নয়, পরিবেশ ও জীবিকারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ছোট নদীগুলোর গুরুত্ব অবহেলা করলে দীর্ঘমেয়াদে কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও স্থানীয় অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ডিমলার নদীগুলো রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার বুড়িতিস্তা, নাউতারা, কুমলাই ও ধুম নদী চারটি আজ অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে। একসময় খরস্রোতা এই নদীগুলো এখন বালু, পলি ও দখলদারদের কবলে প্রায় নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে। নদীর বুকে ফসল চাষ হচ্ছে। অনেক জায়গায় বাঁধ দিয়ে জমি তৈরি করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী ব্যক্তি ও বালুখেকো চক্র নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করে দিয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন চলছে প্রকাশ্যে। প্রশাসনের নজরদারি অপর্যাপ্ত বলে অনেকে মনে করেন।
গত তিন বছর আগে প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নাউতারা ও ধুম নদীর ৪০ কিলোমিটার খনন করা হয়েছিল। অভিযোগ আছে, খননের পর উত্তোলিত বালু পাড়ে ফেলে রাখায় বর্ষার পানিতে তা আবার নদীতে পড়ে ভরাট করে দিয়েছে। ফলে নদীর নাব্য ফেরেনি।
নদী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু খনন করলেই চলবে না। নদীর প্রকৃত প্রস্থ, পানিপ্রবাহ ও বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। নিয়মিত তদারকি, সীমানা নির্ধারণ এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদ ছাড়া নদী রক্ষা সম্ভব নয়।
জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে দখলদারদের তালিকা তৈরি করেছে। কিন্তু তা কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ এখনও চোখে পড়ছে না।
নদ-নদী শুধু পানির উৎস নয়, পরিবেশ ও জীবিকারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ছোট নদীগুলোর গুরুত্ব অবহেলা করলে দীর্ঘমেয়াদে কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও স্থানীয় অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ডিমলার নদীগুলো রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন