সংবাদ

রোহিঙ্গা সংকট: প্রত্যাবাসনের পথ খুঁজে পাওয়া জরুরি


প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৩:৩১ পিএম

রোহিঙ্গা সংকট: প্রত্যাবাসনের পথ খুঁজে পাওয়া জরুরি

বিশ্বে বর্তমানে এক কোটির বেশি মানুষ শরণার্থী জীবন যাপন করছেন। যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে তাদের বড় অংশ বাস্তুহারা হয়েছেন। গতকাল ছিল বিশ্ব শরণার্থী দিবস। বাস্তুচ্যুত মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদার কথা স্মরণ করিয়ে দিতে প্রতি বছর ২০ জুন এ দিবস পালিত হয়। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ছিল, ‘সবাই নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত’ কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারকেই তুলে ধরেছে। 

দিবসটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। ২০১৭ সালে মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযানের পর বড় সংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসেন। তার আগেও অনেক রোহিঙ্গা শরণার্থী এখানে আশ্রয় নিয়েছেন। আজও তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন শুরু হয়নি। 

রোহিঙ্গারা নিজের দেশে প্রত্যাবাসনের অপেক্ষায় আছেন। সমস্যা হচ্ছে, নাগরিকত্বের স্বীকৃতি, নিরাপত্তা এবং মৌলিক অধিকার নিশ্চিত না হওয়ায় মায়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে একাধিক উদ্যোগ নেয়া হলেও তা বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। 

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও জোরদার করা জরুরি। রোহিঙ্গা সংকট কোনো একক দেশের সমস্যা নয়। এটি একটি আন্তর্জাতিক মানবিক ও রাজনৈতিক সংকট। তাই এর সমাধানের দায়িত্ব বাকিরা এড়াতে পারে না। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সক্রিয়, কার্যকর এবং দৃশ্যমান ভূমিকা নিতে হবে। মায়ানমারের ওপর প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে হবে। রোহিঙ্গাদের অধিকার নিশ্চিত করা এবং নিরাপদ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিশ্বশক্তিগুলোর আন্তরিক উদ্যোগ অপরিহার্য। 

বিশ্ব শরণার্থী দিবসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হলো, দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তায় থাকা লাখো রোহিঙ্গার মানবিক মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ খুঁজে বের করা। তারা নাগরিক অধিকার নিয়ে নিজ দেশে ফিরে যেতে আগ্রহী। সেই লক্ষ্য অর্জনেই এখন প্রয়োজন সমন্বিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগ। বাস্তবধর্মী কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেয়া গেলে এই সংকটের টেকসই সমাধান করা সম্ভব হতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ২১ জুন ২০২৬


রোহিঙ্গা সংকট: প্রত্যাবাসনের পথ খুঁজে পাওয়া জরুরি

প্রকাশের তারিখ : ২১ জুন ২০২৬

featured Image

বিশ্বে বর্তমানে এক কোটির বেশি মানুষ শরণার্থী জীবন যাপন করছেন। যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে তাদের বড় অংশ বাস্তুহারা হয়েছেন। গতকাল ছিল বিশ্ব শরণার্থী দিবস। বাস্তুচ্যুত মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদার কথা স্মরণ করিয়ে দিতে প্রতি বছর ২০ জুন এ দিবস পালিত হয়। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ছিল, ‘সবাই নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত’ কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারকেই তুলে ধরেছে। 

দিবসটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। ২০১৭ সালে মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযানের পর বড় সংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসেন। তার আগেও অনেক রোহিঙ্গা শরণার্থী এখানে আশ্রয় নিয়েছেন। আজও তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন শুরু হয়নি। 

রোহিঙ্গারা নিজের দেশে প্রত্যাবাসনের অপেক্ষায় আছেন। সমস্যা হচ্ছে, নাগরিকত্বের স্বীকৃতি, নিরাপত্তা এবং মৌলিক অধিকার নিশ্চিত না হওয়ায় মায়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে একাধিক উদ্যোগ নেয়া হলেও তা বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। 

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও জোরদার করা জরুরি। রোহিঙ্গা সংকট কোনো একক দেশের সমস্যা নয়। এটি একটি আন্তর্জাতিক মানবিক ও রাজনৈতিক সংকট। তাই এর সমাধানের দায়িত্ব বাকিরা এড়াতে পারে না। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সক্রিয়, কার্যকর এবং দৃশ্যমান ভূমিকা নিতে হবে। মায়ানমারের ওপর প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে হবে। রোহিঙ্গাদের অধিকার নিশ্চিত করা এবং নিরাপদ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিশ্বশক্তিগুলোর আন্তরিক উদ্যোগ অপরিহার্য। 

বিশ্ব শরণার্থী দিবসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হলো, দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তায় থাকা লাখো রোহিঙ্গার মানবিক মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ খুঁজে বের করা। তারা নাগরিক অধিকার নিয়ে নিজ দেশে ফিরে যেতে আগ্রহী। সেই লক্ষ্য অর্জনেই এখন প্রয়োজন সমন্বিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগ। বাস্তবধর্মী কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেয়া গেলে এই সংকটের টেকসই সমাধান করা সম্ভব হতে পারে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত