খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় বুড়িভদ্রা নদী খননের কাজ শুরু হওয়ার পর সেখানকার আশ্রয়ণ প্রকল্পের দুটি এলাকায় মানবিক সংকট তীব্র হয়ে উঠেছে। চুকনগর ও কাঁঠালতলা-বরাতিয়া এলাকায় ২০২১ সালে যে শতাধিক পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছিল, তাদের একটি বড় অংশ এখন আশ্রয় হারিয়ে খোলা মাঠে দিন কাটাচ্ছে। যে মানুষগুলো নদীভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে রাষ্ট্রের আশ্রয়ে ঠাঁই পেয়েছিলেন, তারা আবারও গৃহহীন হয়ে পড়েছেন।
সংবাদ-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, চুকনগর অংশে ˆতরি করা ১৪৫টি ঘরের মধ্যে ১৪৩টি উচ্ছেদ করা হয়েছে। সেখানকার বাসিন্দারা এখন চুকনগর বাজারের পাশে সাপ্তাহিক গরুর হাটের মাঠে পলিথিন আর টিনের ঝুপড়িতে বাস করছেন। সেখানে নেই বিদ্যুৎ, নেই বিশুদ্ধ পানি। নিরাপত্তারও ঘাটতি রয়েছে। প্রায় এক হাজার মানুষ কয়েক মাস ধরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।
কাঁঠালতলা-বরাতিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের অবস্থাও উদ্বেগজনক। সেখানে নদী খননের মাটি ঘরগুলোর পাশে স্তূপ করে রাখায় অন্তত ১২টি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃষ্টিতে মাটি ধুয়ে ঘরের দেয়াল ও মেঝেতে ফাটল ধরেছে। একটি শিশু মাটির ধসে চাপা পড়েছিল, ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছে। বর্ষায় ঘর নদীতে ধসে পড়ার আশঙ্কা বাসিন্দাদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে।
নদী খনন করা জরুরি। ভবদহ এলাকায় দীর্ঘ বছর ধরে জলাবদ্ধতার কারণে বোরো আবাদ বন্ধ। সেখানকার বহু বাসিন্দা অনেক দিন ধরে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। পলি পড়া নদীগুলো খননের বিকল্প নেই। তবে নদী খননের মাটি কোথায় রাখা হবে, সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা কী হবে সেটা আগেই নিশ্চিত করা দরকার ছিল। এই সমন্বয়হীনতার মূল্য দিতে হচ্ছে অসহায় মানুষদেরকে।
রাষ্ট্রের দুটি প্রকল্পের মধ্যে সমন্বয়হীনতা দূর করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। আশ্রয়ণ প্রকল্পের উদ্দেশ্য গৃহহীন মানুষকে স্থায়ী ঠিকানা দেয়া। কোনো কারণে সেই মানুষগুলো যদি আবার বাস্তুহারা হয়ে পড়েন, তাহলে প্রকল্পের মূল লক্ষ্যই ব্যর্থ হয়। আমরা বলতে চাই, চুকনগরের উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। বরাতিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত ঘরগুলো মেরামত করে বাসযোগ্য করতে হবে।

শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ জুন ২০২৬
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় বুড়িভদ্রা নদী খননের কাজ শুরু হওয়ার পর সেখানকার আশ্রয়ণ প্রকল্পের দুটি এলাকায় মানবিক সংকট তীব্র হয়ে উঠেছে। চুকনগর ও কাঁঠালতলা-বরাতিয়া এলাকায় ২০২১ সালে যে শতাধিক পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছিল, তাদের একটি বড় অংশ এখন আশ্রয় হারিয়ে খোলা মাঠে দিন কাটাচ্ছে। যে মানুষগুলো নদীভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে রাষ্ট্রের আশ্রয়ে ঠাঁই পেয়েছিলেন, তারা আবারও গৃহহীন হয়ে পড়েছেন।
সংবাদ-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, চুকনগর অংশে ˆতরি করা ১৪৫টি ঘরের মধ্যে ১৪৩টি উচ্ছেদ করা হয়েছে। সেখানকার বাসিন্দারা এখন চুকনগর বাজারের পাশে সাপ্তাহিক গরুর হাটের মাঠে পলিথিন আর টিনের ঝুপড়িতে বাস করছেন। সেখানে নেই বিদ্যুৎ, নেই বিশুদ্ধ পানি। নিরাপত্তারও ঘাটতি রয়েছে। প্রায় এক হাজার মানুষ কয়েক মাস ধরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।
কাঁঠালতলা-বরাতিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের অবস্থাও উদ্বেগজনক। সেখানে নদী খননের মাটি ঘরগুলোর পাশে স্তূপ করে রাখায় অন্তত ১২টি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃষ্টিতে মাটি ধুয়ে ঘরের দেয়াল ও মেঝেতে ফাটল ধরেছে। একটি শিশু মাটির ধসে চাপা পড়েছিল, ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছে। বর্ষায় ঘর নদীতে ধসে পড়ার আশঙ্কা বাসিন্দাদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে।
নদী খনন করা জরুরি। ভবদহ এলাকায় দীর্ঘ বছর ধরে জলাবদ্ধতার কারণে বোরো আবাদ বন্ধ। সেখানকার বহু বাসিন্দা অনেক দিন ধরে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। পলি পড়া নদীগুলো খননের বিকল্প নেই। তবে নদী খননের মাটি কোথায় রাখা হবে, সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা কী হবে সেটা আগেই নিশ্চিত করা দরকার ছিল। এই সমন্বয়হীনতার মূল্য দিতে হচ্ছে অসহায় মানুষদেরকে।
রাষ্ট্রের দুটি প্রকল্পের মধ্যে সমন্বয়হীনতা দূর করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। আশ্রয়ণ প্রকল্পের উদ্দেশ্য গৃহহীন মানুষকে স্থায়ী ঠিকানা দেয়া। কোনো কারণে সেই মানুষগুলো যদি আবার বাস্তুহারা হয়ে পড়েন, তাহলে প্রকল্পের মূল লক্ষ্যই ব্যর্থ হয়। আমরা বলতে চাই, চুকনগরের উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। বরাতিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত ঘরগুলো মেরামত করে বাসযোগ্য করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন