কানাডায় ইরানি ফুটবল কর্মকর্তাদের ভিসা না দেওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছে তেহরান। ২০২৬ বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি দিয়ে ফিফাকে তিনটি শর্ত জুড়ে দিয়েছে ইরান ফুটবল ফেডারেশন। স্বাগতিক দেশগুলোর অন্যতম কানাডার সঙ্গে এই কূটনৈতিক টানাপড়েন মাঠের লড়াই শুরুর আগেই ফুটবল অঙ্গনে তৈরি করেছে উত্তাপ।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি মাত্র কয়েক সপ্তাহ। কিন্তু মাঠের খেলা শুরুর আগেই মাঠের বাইরের রাজনীতিতে উত্তাল ফুটবল বিশ্ব। কানাডার সঙ্গে কূটনৈতিক তিক্ততার জেরে বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি দিয়েছে ইরান। দেশটির ফুটবল ফেডারেশন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তাদের দেওয়া শর্ত পূরণ না হলে এবং মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা হলে তারা এ আসরে অংশ নেবে না।
২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজক তিন দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা। স্বাগতিক দেশগুলোর একটি হিসেবে কানাডা এই আসরে বেশ কয়েকটি ম্যাচ আয়োজন করবে। অভিযোগ উঠেছে, কানাডীয় সরকার ইরান ফুটবল ফেডারেশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের এবং টেকনিক্যাল কমিটির সদস্যদের ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। বিশেষ করে ইরানের ফুটবল প্রধানের ভিসা বাতিল করাকে নিজেদের জাতীয় সম্মানের ওপর আঘাত হিসেবে দেখছে তেহরান।
কানাডার পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক কারণ দেখানো হলেও ইরান একে ‘খেলার মাঠে রাজনীতির নোংরা অনুপ্রবেশ’ বলে আখ্যা দিয়েছে। ইরান ফুটবল ফেডারেশনের এক মুখপাত্র সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, আয়োজক দেশগুলো অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দলের কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা ও প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে বাধ্য। কিন্তু কানাডা এখানে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে।’
ইরান শুধু একটি প্রতিবাদী চিঠি দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি। তারা তিনটি শর্ত জুড়ে দিয়েছে। প্রথমত, ফুটবল প্রধানসহ সব প্রতিনিধিকে অনতিবিলম্বে নিঃশর্ত ভিসা প্রদান। দ্বিতীয়ত, টুর্নামেন্ট চলাকালে ইরানি ফুটবলার ও কর্মকর্তাদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তৃতীয়ত, রাজনৈতিক কারণে ভবিষ্যতে কোনো ফুটবলার বা কর্মকর্তাকে হয়রানি করা হবে না বলে লিখিত গ্যারান্টি।
ইরান ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, তারা ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে। তেহরানের সাফ কথা- যদি তাদের কর্মকর্তাদের কানাডায় প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়, তবে তারা টুর্নামেন্ট থেকে নিজেদের সরিয়ে নেবে।
এ অবস্থায় বড় বিপাকে পড়েছে ফিফা। ফিফা সাধারণত তাদের ইভেন্টে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ পছন্দ করে না। তবে কানাডার সরকার তাদের দেশের সার্বভৌম আইন ও নিরাপত্তা ইস্যুকে সামনে আনায় পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো এখনো ইস্যুতে নীরব।
ইরান এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী ফুটবল দল। এবারের বিশ্বকাপকে ঘিরে তাদের ভক্তদের প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। যদি শেষ পর্যন্ত ইরান বিশ্বকাপ বয়কট করে, তবে গ্রুপ পর্বের সূচি ও সময়সূচি রদবদল করতে বাধ্য হবে ফিফা। পাশাপাশি স্পনসরশিপ ও সম্প্রচার স্বত্ব নিয়েও সংকট তৈরি হতে পারে।
কানাডার পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এমন কোনো ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি যে তারা ভিসা নীতি পরিবর্তন করতে আগ্রহী। তবে ফুটবলপ্রেমীদের এখন একটাই চাওয়া এখন রাজনীতির উর্ধ্বে উঠে ফুটবল স্বাভাবিক গতিতে চলুক।

শনিবার, ০৯ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬
কানাডায় ইরানি ফুটবল কর্মকর্তাদের ভিসা না দেওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছে তেহরান। ২০২৬ বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি দিয়ে ফিফাকে তিনটি শর্ত জুড়ে দিয়েছে ইরান ফুটবল ফেডারেশন। স্বাগতিক দেশগুলোর অন্যতম কানাডার সঙ্গে এই কূটনৈতিক টানাপড়েন মাঠের লড়াই শুরুর আগেই ফুটবল অঙ্গনে তৈরি করেছে উত্তাপ।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি মাত্র কয়েক সপ্তাহ। কিন্তু মাঠের খেলা শুরুর আগেই মাঠের বাইরের রাজনীতিতে উত্তাল ফুটবল বিশ্ব। কানাডার সঙ্গে কূটনৈতিক তিক্ততার জেরে বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি দিয়েছে ইরান। দেশটির ফুটবল ফেডারেশন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তাদের দেওয়া শর্ত পূরণ না হলে এবং মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা হলে তারা এ আসরে অংশ নেবে না।
২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজক তিন দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা। স্বাগতিক দেশগুলোর একটি হিসেবে কানাডা এই আসরে বেশ কয়েকটি ম্যাচ আয়োজন করবে। অভিযোগ উঠেছে, কানাডীয় সরকার ইরান ফুটবল ফেডারেশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের এবং টেকনিক্যাল কমিটির সদস্যদের ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। বিশেষ করে ইরানের ফুটবল প্রধানের ভিসা বাতিল করাকে নিজেদের জাতীয় সম্মানের ওপর আঘাত হিসেবে দেখছে তেহরান।
কানাডার পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক কারণ দেখানো হলেও ইরান একে ‘খেলার মাঠে রাজনীতির নোংরা অনুপ্রবেশ’ বলে আখ্যা দিয়েছে। ইরান ফুটবল ফেডারেশনের এক মুখপাত্র সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, আয়োজক দেশগুলো অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দলের কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা ও প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে বাধ্য। কিন্তু কানাডা এখানে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে।’
ইরান শুধু একটি প্রতিবাদী চিঠি দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি। তারা তিনটি শর্ত জুড়ে দিয়েছে। প্রথমত, ফুটবল প্রধানসহ সব প্রতিনিধিকে অনতিবিলম্বে নিঃশর্ত ভিসা প্রদান। দ্বিতীয়ত, টুর্নামেন্ট চলাকালে ইরানি ফুটবলার ও কর্মকর্তাদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তৃতীয়ত, রাজনৈতিক কারণে ভবিষ্যতে কোনো ফুটবলার বা কর্মকর্তাকে হয়রানি করা হবে না বলে লিখিত গ্যারান্টি।
ইরান ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, তারা ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে। তেহরানের সাফ কথা- যদি তাদের কর্মকর্তাদের কানাডায় প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়, তবে তারা টুর্নামেন্ট থেকে নিজেদের সরিয়ে নেবে।
এ অবস্থায় বড় বিপাকে পড়েছে ফিফা। ফিফা সাধারণত তাদের ইভেন্টে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ পছন্দ করে না। তবে কানাডার সরকার তাদের দেশের সার্বভৌম আইন ও নিরাপত্তা ইস্যুকে সামনে আনায় পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো এখনো ইস্যুতে নীরব।
ইরান এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী ফুটবল দল। এবারের বিশ্বকাপকে ঘিরে তাদের ভক্তদের প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। যদি শেষ পর্যন্ত ইরান বিশ্বকাপ বয়কট করে, তবে গ্রুপ পর্বের সূচি ও সময়সূচি রদবদল করতে বাধ্য হবে ফিফা। পাশাপাশি স্পনসরশিপ ও সম্প্রচার স্বত্ব নিয়েও সংকট তৈরি হতে পারে।
কানাডার পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এমন কোনো ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি যে তারা ভিসা নীতি পরিবর্তন করতে আগ্রহী। তবে ফুটবলপ্রেমীদের এখন একটাই চাওয়া এখন রাজনীতির উর্ধ্বে উঠে ফুটবল স্বাভাবিক গতিতে চলুক।

আপনার মতামত লিখুন