টানা কয়েকদিন ধরে দর্শকদের ভালোবাসায় ভাসছেন অভিনেতা-নির্মাতা নাদের চৌধুরী। দীর্ঘ কয়েক দশকের অভিনয়জীবনে বহু কাজ করলেও সাম্প্রতিক সময়ে তিনি যে পরিমাণ সাড়া পাচ্ছেন, তা তার নিজের কাছেও এক অনন্য অভিজ্ঞতা।
সম্প্রতি শেষ হয়েছে
মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালিত বহুল আলোচিত নাটক ‘এটা আমাদেরই গল্প’। নাটকের
শেষদিকে বাবা চরিত্রে অভিনয় করা নাদের চৌধুরীর মৃত্যুর দৃশ্য দর্শকদের গভীরভাবে নাড়া
দেয়। তার এই আবেগঘন বিদায়ের মধ্য দিয়েই নাটকটি নতুন এক আলোচনার জন্ম দেয় এবং সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমসহ নানা মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
নাটকটিতে তার বড়
সন্তানের চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইরফান সাজ্জাদ এবং স্ত্রীর চরিত্রে ছিলেন মনিরা মিঠু—দুজনের
অভিনয়ও দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। নাদের চৌধুরী জানান, নাটকের শেষ অংশ প্রচারের পর
থেকেই তিনি অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছেন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালেও প্রবাসী দর্শকদের
কাছ থেকে পেয়েছেন একইরকম ভালোবাসা।
তিনি বলেন, “নাটকের
শেষের দিকে আমার মৃত্যুর দৃশ্য প্রচারের পর যেন একটা ঝড় বয়ে যাচ্ছে। ফোন, মেসেজ—সবখানেই
মানুষ তাদের অনুভূতি জানাচ্ছেন। অনেকেই জানতে চাইছেন আমি কেমন আছি। এই ভালোবাসা আমাকে
ভীষণভাবে আবেগাপ্লুত করেছে।”
তিনি আরও বলেন,
“মানুষের প্রিয়জন হারানোর যে অনুভূতি, সেটাই যেন নাটকের মাধ্যমে ফুটে উঠেছে। আমার এই
দৃশ্য দর্শকদের এতটা কাঁদাবে, তা সত্যিই ভাবিনি। এর জন্য আমি নির্মাতা মোস্তফা কামাল
রাজের প্রতি কৃতজ্ঞ। তিনি বাংলা নাটকে নতুন এক ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন।”
নাদের চৌধুরীর মতে,
এই নাটকের অন্যতম বড় সাফল্য হলো—নতুন প্রজন্মকে আবারও টেলিভিশনের পর্দার সামনে ফিরিয়ে
আনা। তার ভাষায়, “অনেকদিন পর দেখা গেল, নতুন প্রজন্ম টিভির সামনে বসে নাটক দেখার জন্য
অপেক্ষা করছে—এটাই সবচেয়ে বড় অর্জন।”
উল্লেখ্য, ১৯৮৯
সালে টেলিভিশন নাটকের মাধ্যমে অভিনয়জীবন শুরু করেন নাদের চৌধুরী। ‘বারোরকম মানুষ’ নাটকের
মাধ্যমে তিনি প্রথম আলোচনায় আসেন। পরে ‘বিশ্বনেত্রী’, ‘মেড ইন বাংলাদেশ’, ‘মেহেরজান’সহ
একাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। পরিচালনায়ও সফল এই শিল্পীর নির্মিত ‘জ্বীন’, ‘লালচর’
ও ‘মেয়েটি এখন কোথায় যাবে’ চলচ্চিত্রগুলো দর্শকপ্রিয়তা পায়।
এর মধ্যে ‘মেয়েটি এখন কোথায় যাবে’ চলচ্চিত্রটি পাঁচটি বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করে। সব মিলিয়ে ‘এটা আমাদেরই গল্প’ নাটকের মাধ্যমে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন নাদের চৌধুরী, আর দর্শকদের ভালোবাসাই হয়ে উঠেছে তার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

শনিবার, ০৯ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬
টানা কয়েকদিন ধরে দর্শকদের ভালোবাসায় ভাসছেন অভিনেতা-নির্মাতা নাদের চৌধুরী। দীর্ঘ কয়েক দশকের অভিনয়জীবনে বহু কাজ করলেও সাম্প্রতিক সময়ে তিনি যে পরিমাণ সাড়া পাচ্ছেন, তা তার নিজের কাছেও এক অনন্য অভিজ্ঞতা।
সম্প্রতি শেষ হয়েছে
মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালিত বহুল আলোচিত নাটক ‘এটা আমাদেরই গল্প’। নাটকের
শেষদিকে বাবা চরিত্রে অভিনয় করা নাদের চৌধুরীর মৃত্যুর দৃশ্য দর্শকদের গভীরভাবে নাড়া
দেয়। তার এই আবেগঘন বিদায়ের মধ্য দিয়েই নাটকটি নতুন এক আলোচনার জন্ম দেয় এবং সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমসহ নানা মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
নাটকটিতে তার বড়
সন্তানের চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইরফান সাজ্জাদ এবং স্ত্রীর চরিত্রে ছিলেন মনিরা মিঠু—দুজনের
অভিনয়ও দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। নাদের চৌধুরী জানান, নাটকের শেষ অংশ প্রচারের পর
থেকেই তিনি অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছেন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালেও প্রবাসী দর্শকদের
কাছ থেকে পেয়েছেন একইরকম ভালোবাসা।
তিনি বলেন, “নাটকের
শেষের দিকে আমার মৃত্যুর দৃশ্য প্রচারের পর যেন একটা ঝড় বয়ে যাচ্ছে। ফোন, মেসেজ—সবখানেই
মানুষ তাদের অনুভূতি জানাচ্ছেন। অনেকেই জানতে চাইছেন আমি কেমন আছি। এই ভালোবাসা আমাকে
ভীষণভাবে আবেগাপ্লুত করেছে।”
তিনি আরও বলেন,
“মানুষের প্রিয়জন হারানোর যে অনুভূতি, সেটাই যেন নাটকের মাধ্যমে ফুটে উঠেছে। আমার এই
দৃশ্য দর্শকদের এতটা কাঁদাবে, তা সত্যিই ভাবিনি। এর জন্য আমি নির্মাতা মোস্তফা কামাল
রাজের প্রতি কৃতজ্ঞ। তিনি বাংলা নাটকে নতুন এক ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন।”
নাদের চৌধুরীর মতে,
এই নাটকের অন্যতম বড় সাফল্য হলো—নতুন প্রজন্মকে আবারও টেলিভিশনের পর্দার সামনে ফিরিয়ে
আনা। তার ভাষায়, “অনেকদিন পর দেখা গেল, নতুন প্রজন্ম টিভির সামনে বসে নাটক দেখার জন্য
অপেক্ষা করছে—এটাই সবচেয়ে বড় অর্জন।”
উল্লেখ্য, ১৯৮৯
সালে টেলিভিশন নাটকের মাধ্যমে অভিনয়জীবন শুরু করেন নাদের চৌধুরী। ‘বারোরকম মানুষ’ নাটকের
মাধ্যমে তিনি প্রথম আলোচনায় আসেন। পরে ‘বিশ্বনেত্রী’, ‘মেড ইন বাংলাদেশ’, ‘মেহেরজান’সহ
একাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। পরিচালনায়ও সফল এই শিল্পীর নির্মিত ‘জ্বীন’, ‘লালচর’
ও ‘মেয়েটি এখন কোথায় যাবে’ চলচ্চিত্রগুলো দর্শকপ্রিয়তা পায়।
এর মধ্যে ‘মেয়েটি এখন কোথায় যাবে’ চলচ্চিত্রটি পাঁচটি বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করে। সব মিলিয়ে ‘এটা আমাদেরই গল্প’ নাটকের মাধ্যমে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন নাদের চৌধুরী, আর দর্শকদের ভালোবাসাই হয়ে উঠেছে তার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

আপনার মতামত লিখুন