সংবাদ

আটলান্টিকে ভাসছে ‘ডেথ শিপ’, উদ্ধারে ডব্লিউএইচও প্রধান


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৯ মে ২০২৬, ০৮:০২ পিএম

আটলান্টিকে ভাসছে ‘ডেথ শিপ’, উদ্ধারে ডব্লিউএইচও প্রধান
আটলান্টিক মহাসাগরে ভাসমান প্রমোদতরী ‘এমভি হন্ডিয়াস’

আটলান্টিক মহাসাগরে ভাসমান প্রমোদতরী ‘এমভি হন্ডিয়াস’-এ হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর পরিস্থিতি নিজ হাতে তদারকি করতে স্পেনের তেনেরিফে পৌঁছেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান ড. টেড্রোস আধানম গেব্রেয়াসুস।

ডাচ পতাকাবাহী এই জাহাজটিতে এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। জাহাজটি রোববার (১০ মে) ভোরে তেনেরিফ বন্দরে পৌঁছালে ১৪০-এর বেশি যাত্রী ও ক্রুকে নিরাপদে নামানোর তদারকি করবেন ডব্লিউএইচও প্রধান। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস

জাহাজটিতে মোট ১৪৭ জন যাত্রী ও ক্রু সদস্য রয়েছেন। এদের মধ্যে এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। পাঁচজন সংক্রমিত অবস্থায় জাহাজ ছেড়েছেন। ছয়জনের শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে, যা অ্যান্ডিস ভাইরাস স্ট্রেইন হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।

অ্যান্ডিস ভাইরাস খুবই বিশেষ পরিস্থিতিতে মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত জাহাজে থাকা কারও মধ্যে উপসর্গ দেখা যায়নি। আক্রান্তদের সাধারণত এক থেকে আট সপ্তাহের মধ্যে উপসর্গ দেখা দেয়।

জাহাজটির যাত্রা শুরু হয় গত ১ এপ্রিল আর্জেন্টিনার উশুয়াইয়া থেকে। এটি দক্ষিণ আটলান্টিকের অ্যান্টার্কটিকা, দক্ষিণ জর্জিয়া, সেন্ট হেলেনা ও অ্যাসেনশন দ্বীপসহ বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে যাত্রাবিরতি করে। সন্দেহ করা হচ্ছে, দক্ষিণ আমেরিকায় অবস্থানের সময় আক্রান্তরা কোনোভাবে বন্য ইঁদুরের সংস্পর্শে এসেছিলেন।

জাহাজটি রোববার ভোরের দিকে স্পেনের তেনেরিফ বন্দরে পৌঁছাবে। যাত্রীদের নামানোর জন্য সেখানে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ও কর্ডন করে রাখা একটি স্থান তৈরি করা হয়েছে। স্পেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও জরুরি বিভাগের প্রধান সেখানে উপস্থিত থাকবেন।

স্পেনের জরুরি বিভাগের প্রধান জানিয়েছেন, যাত্রীদের নামানোর পর একটি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ও কর্ডন করে রাখা এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে ইতিমধ্যে বিশেষ বিমান পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। যারা কোনো উপসর্গ দেখাচ্ছেন না, তাদের ছয় সপ্তাহের জন্য বাড়িতে কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।

ডব্লিউএইচও প্রধান বলেছেন, এই মুহূর্তে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ এবং বিশ্বের জন্য ঝুঁকি অত্যন্ত কম। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘এটি নতুন কোভিড নয়। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।’ সংস্থাটি পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সদস্য দেশগুলোকে নিয়মিত আপডেট দিচ্ছে বলে জানান তিনি।

জাহাজটি ডাচ পতাকাবাহী হওয়ায় নেদারল্যান্ডস সরকার স্পেন ও জাহাজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করে ডাচ যাত্রীদের প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করবে। উপসর্গ নেই এমন যাত্রীরা বাড়িতে গিয়ে ছয় সপ্তাহ কোয়ারেন্টিনে থাকবেন।স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ তাদের মনিটরিং করবে। নেদারল্যান্ডস অন্যান্য দেশের নাগরিকদের জন্যও প্রয়োজনে কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা রাখতে পারে।

আক্রান্ত যাত্রীদের কেউ জাহাজ থেকে নামার পর দক্ষিণ আফ্রিকা, নেদারল্যান্ডস, ব্রিটেন ও স্পেনে যাওয়ার সময় পেয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকা ও দক্ষিণ আটলান্টিকের প্রত্যন্ত দ্বীপে থাকা কয়েক ডজন যাত্রীর খোঁজ করছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।

যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্য বলছে, জাহাজ থেকে বাড়ি ফেরা তাদের কয়েকজন বাসিন্দাকে তারা মনিটরিং করছে। কারও মধ্যেই এখনো উপসর্গ দেখা যায়নি।

গত শুক্রবার এক ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টের দেহে ভাইরাস শনাক্তের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তিনি ওই জাহাজের এক আক্রান্ত যাত্রীর সংস্পর্শে এসেছিলেন। তবে তার পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এসেছে। এটি আশ্বস্ত করার মতো, কারণ তা না হলে হান্টাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা আরেক দফা বাড়ত।

সবশেষ ২ এপ্রিল জাহাজে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত হতে পেরেছে মাত্র কয়েক দিন আগে। ইতিমধ্যে অন্তত ১২টি দেশের ২৫ জন যাত্রী জাহাজ থেকে নেমেছেন, যাদের অনেকের সঙ্গেই যোগাযোগ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এখন সব দেশের স্বাস্থ্য বিভাগকে সতর্ক করে দিয়েছে।

হান্টাভাইরাস সাধারণত ইঁদুরের মূত্র বা বিষ্ঠা থেকে বাতাসে ছড়ানো কণার মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। এতে আক্রান্ত হলে হান্টাভাইরাস পালমোনারি সিনড্রোম (এইচপিএস) দেখা দেয়, যা ফুসফুসের মারাত্মক ক্ষতি করে। অ্যান্ডিস ভাইরাসের ক্ষেত্রে এটি বিরল পরিস্থিতিতে মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি সহজে ছড়ায় না এবং সচেতন থাকলে সংক্রমণ এড়ানো সম্ভব।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ০৯ মে ২০২৬


আটলান্টিকে ভাসছে ‘ডেথ শিপ’, উদ্ধারে ডব্লিউএইচও প্রধান

প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬

featured Image

আটলান্টিক মহাসাগরে ভাসমান প্রমোদতরী ‘এমভি হন্ডিয়াস’-এ হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর পরিস্থিতি নিজ হাতে তদারকি করতে স্পেনের তেনেরিফে পৌঁছেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান ড. টেড্রোস আধানম গেব্রেয়াসুস।

ডাচ পতাকাবাহী এই জাহাজটিতে এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। জাহাজটি রোববার (১০ মে) ভোরে তেনেরিফ বন্দরে পৌঁছালে ১৪০-এর বেশি যাত্রী ও ক্রুকে নিরাপদে নামানোর তদারকি করবেন ডব্লিউএইচও প্রধান। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস

জাহাজটিতে মোট ১৪৭ জন যাত্রী ও ক্রু সদস্য রয়েছেন। এদের মধ্যে এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। পাঁচজন সংক্রমিত অবস্থায় জাহাজ ছেড়েছেন। ছয়জনের শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে, যা অ্যান্ডিস ভাইরাস স্ট্রেইন হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।

অ্যান্ডিস ভাইরাস খুবই বিশেষ পরিস্থিতিতে মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত জাহাজে থাকা কারও মধ্যে উপসর্গ দেখা যায়নি। আক্রান্তদের সাধারণত এক থেকে আট সপ্তাহের মধ্যে উপসর্গ দেখা দেয়।

জাহাজটির যাত্রা শুরু হয় গত ১ এপ্রিল আর্জেন্টিনার উশুয়াইয়া থেকে। এটি দক্ষিণ আটলান্টিকের অ্যান্টার্কটিকা, দক্ষিণ জর্জিয়া, সেন্ট হেলেনা ও অ্যাসেনশন দ্বীপসহ বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে যাত্রাবিরতি করে। সন্দেহ করা হচ্ছে, দক্ষিণ আমেরিকায় অবস্থানের সময় আক্রান্তরা কোনোভাবে বন্য ইঁদুরের সংস্পর্শে এসেছিলেন।

জাহাজটি রোববার ভোরের দিকে স্পেনের তেনেরিফ বন্দরে পৌঁছাবে। যাত্রীদের নামানোর জন্য সেখানে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ও কর্ডন করে রাখা একটি স্থান তৈরি করা হয়েছে। স্পেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও জরুরি বিভাগের প্রধান সেখানে উপস্থিত থাকবেন।

স্পেনের জরুরি বিভাগের প্রধান জানিয়েছেন, যাত্রীদের নামানোর পর একটি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ও কর্ডন করে রাখা এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে ইতিমধ্যে বিশেষ বিমান পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। যারা কোনো উপসর্গ দেখাচ্ছেন না, তাদের ছয় সপ্তাহের জন্য বাড়িতে কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।

ডব্লিউএইচও প্রধান বলেছেন, এই মুহূর্তে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ এবং বিশ্বের জন্য ঝুঁকি অত্যন্ত কম। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘এটি নতুন কোভিড নয়। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।’ সংস্থাটি পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সদস্য দেশগুলোকে নিয়মিত আপডেট দিচ্ছে বলে জানান তিনি।

জাহাজটি ডাচ পতাকাবাহী হওয়ায় নেদারল্যান্ডস সরকার স্পেন ও জাহাজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করে ডাচ যাত্রীদের প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করবে। উপসর্গ নেই এমন যাত্রীরা বাড়িতে গিয়ে ছয় সপ্তাহ কোয়ারেন্টিনে থাকবেন।স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ তাদের মনিটরিং করবে। নেদারল্যান্ডস অন্যান্য দেশের নাগরিকদের জন্যও প্রয়োজনে কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা রাখতে পারে।

আক্রান্ত যাত্রীদের কেউ জাহাজ থেকে নামার পর দক্ষিণ আফ্রিকা, নেদারল্যান্ডস, ব্রিটেন ও স্পেনে যাওয়ার সময় পেয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকা ও দক্ষিণ আটলান্টিকের প্রত্যন্ত দ্বীপে থাকা কয়েক ডজন যাত্রীর খোঁজ করছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।

যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্য বলছে, জাহাজ থেকে বাড়ি ফেরা তাদের কয়েকজন বাসিন্দাকে তারা মনিটরিং করছে। কারও মধ্যেই এখনো উপসর্গ দেখা যায়নি।

গত শুক্রবার এক ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টের দেহে ভাইরাস শনাক্তের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তিনি ওই জাহাজের এক আক্রান্ত যাত্রীর সংস্পর্শে এসেছিলেন। তবে তার পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এসেছে। এটি আশ্বস্ত করার মতো, কারণ তা না হলে হান্টাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা আরেক দফা বাড়ত।

সবশেষ ২ এপ্রিল জাহাজে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত হতে পেরেছে মাত্র কয়েক দিন আগে। ইতিমধ্যে অন্তত ১২টি দেশের ২৫ জন যাত্রী জাহাজ থেকে নেমেছেন, যাদের অনেকের সঙ্গেই যোগাযোগ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এখন সব দেশের স্বাস্থ্য বিভাগকে সতর্ক করে দিয়েছে।

হান্টাভাইরাস সাধারণত ইঁদুরের মূত্র বা বিষ্ঠা থেকে বাতাসে ছড়ানো কণার মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। এতে আক্রান্ত হলে হান্টাভাইরাস পালমোনারি সিনড্রোম (এইচপিএস) দেখা দেয়, যা ফুসফুসের মারাত্মক ক্ষতি করে। অ্যান্ডিস ভাইরাসের ক্ষেত্রে এটি বিরল পরিস্থিতিতে মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি সহজে ছড়ায় না এবং সচেতন থাকলে সংক্রমণ এড়ানো সম্ভব।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত