বগুড়ার শেরপুরে শনিবার (৯ মে) রাত দুইটার দিকে আঘাত হানা মাত্র ৩০ মিনিটের ঝড়ে ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে গাছ উপড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় দীর্ঘ সময় অন্ধকারে ছিল বিশাল এলাকা।
উপজেলার শাহ-বন্দেগী ইউনিয়নের সাধুবাড়ি ঘুটু বটতলা এলাকায় ফয়সাল হোসেন নামের এক ব্যবসায়ীর গুদামঘরের টিনের চাল উড়ে গিয়ে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে একটি উচ্চ ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক টাওয়ারের ওপর ঝুলে থাকে। ফয়সাল হোসেন জানান, এতে তার প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া এলাকার অনেক বাড়ির চাল উড়ে যাওয়ায় ভেতরে থাকা খাদ্যশস্য ও আসবাবপত্র ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে।
পৌর শহরের নয়াপাড়া এলাকায় একটি বড় আম গাছ বৈদ্যুতিক তারের ওপর পড়লে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্থানীয়রা জানান, ঝড়ের শুরুতেই বিদ্যুৎ চলে গিয়েছিল, কিন্তু লাইনের ওপর গাছ পড়ে থাকায় প্রায় ৬ ঘণ্টা ওই এলাকা বিদ্যুৎহীন ছিল। এ ছাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় ও কৃষ্ণপুর এলাকায় বেশ কিছু বড় গাছ উপড়ে পড়েছে।
ঝড়ে কৃষিরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কুসুম্বি, মির্জাপুর, গাড়িদহ, ভবানীপুর ও বিশালপুর ইউনিয়নের ধানখেত বাতাসের তোড়ে মাটিতে হেলে পড়েছে। অনেক নিচু জমিতে বৃষ্টির পানি জমে পাকা ধান তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকেরা দিশাহারা হয়ে পড়েছেন।
শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, “ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে আমরা কাজ করছি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
আপনার মতামত লিখুন