সংবাদ

পরশুরামে সবজির দামে নাভিশ্বাস, স্বস্তি নেই বাজারে


প্রতিনিধি, ফেনী
প্রতিনিধি, ফেনী
প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬, ০৪:২০ পিএম

পরশুরামে সবজির দামে নাভিশ্বাস, স্বস্তি নেই বাজারে
পরশুরামে কাঁচাবাজারে সবজির দাম আকাশছোঁয়া। ছবি : সংবাদ

ফেনীর পরশুরামে কাঁচাবাজারে সব ধরনের সবজির দাম লাগামহীনভাবে বেড়েছে। পাইকারি ও খুচরা কোনো পর্যায়েই স্বস্তি নেই ক্রেতাদের। নিত্যপণ্যের এই মূল্যস্ফীতির সঙ্গে পাল্লা দিতে না পেরে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি ও গ্যাসের সংকটের প্রভাব পড়েছে বাজারে। সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে বেশির ভাগ সবজিই এখন প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১৪০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে কাঁকরোল, শসা ও বেগুনের দাম সবচেয়ে বেশি।

পরশুরাম বাজারে প্রতি কেজি কাঁকরোল ১২০ টাকা, গোল বেগুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা, দেশি শসা ১২০ টাকা ও হাইব্রিড শসা ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ঝিঙা, কলা ও পেঁপের দামও ১০০ টাকার কাছাকাছি। অন্যান্য সবজির মধ্যে ধুন্দল ৮০ থেকে ১০০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা ও কাঁচা মরিচ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কয়েক দিন আগে ২৫-৩০ টাকা দরে বিক্রি হওয়া পেঁপে এখন ৮০ থেকে ১০০ টাকায় ঠেকেছে। মাত্র ৫ টাকার কলমি শাক বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়।

বাজারে আসা সরকারি চাকরিজীবী আব্দুল কাইয়ুম আক্ষেপ করে বলেন, “৮০-১০০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই। সাধারণ মানুষের কিনে খাওয়া এখন অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে। এভাবে চললে ছেলেমেয়ের পড়াশোনার খরচ চালানোই অসম্ভব হবে।”

সবজি বিক্রেতারা জানান, বৃষ্টির কারণে অনেক এলাকার ফলন নষ্ট হয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় সবজির দাম বাড়াতে হয়েছে।

সবজির পাশাপাশি অস্থির ডিমের বাজারও। সপ্তাহের ব্যবধানে ডজনে ১০ টাকা বেড়ে লাল ডিম ১৪০ ও সাদা ডিম ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুরগির বাজারে ব্রয়লার ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা, দেশি মুরগি ৬৫০ থেকে ৭৫০ টাকা ও সোনালি মুরগি ৩৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তবে গরু ও খাসির মাংসের দাম স্থিতিশীল রয়েছে।

রহিম নামের এক অটোরিকশা চালক বলেন, “সংসারে আটজন মানুষ। কিস্তিতে অটো নিয়েছি। দ্রব্যমূল্য বাড়ায় মানুষ এখন অটোতে কম চড়ে। কিস্তি দেব না সংসার চালাব, মাথায় কিছুই ধরছে না।”

নিত্যপণ্যের বাজারে চিনির দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ১১০ টাকায় দাড়িয়েছে। খোলা আটা ৫৫ ও ময়দা ৬৫-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে এলাচের দাম। কেজিতে ৪০০ টাকা বেড়ে মানভেদে এলাচ বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৮০০ থেকে ৫ হাজার ৪০০ টাকায়।

দিনমজুর করিম মিয়া বলেন, “বৃষ্টির কারণে কাজ ছিল না। বাজারে সবকিছুর দাম শুধু বাড়ছেই। একবার দাম বাড়লে আর সহজে কমে না।”

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১০ মে ২০২৬


পরশুরামে সবজির দামে নাভিশ্বাস, স্বস্তি নেই বাজারে

প্রকাশের তারিখ : ১০ মে ২০২৬

featured Image

ফেনীর পরশুরামে কাঁচাবাজারে সব ধরনের সবজির দাম লাগামহীনভাবে বেড়েছে। পাইকারি ও খুচরা কোনো পর্যায়েই স্বস্তি নেই ক্রেতাদের। নিত্যপণ্যের এই মূল্যস্ফীতির সঙ্গে পাল্লা দিতে না পেরে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি ও গ্যাসের সংকটের প্রভাব পড়েছে বাজারে। সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে বেশির ভাগ সবজিই এখন প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১৪০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে কাঁকরোল, শসা ও বেগুনের দাম সবচেয়ে বেশি।

পরশুরাম বাজারে প্রতি কেজি কাঁকরোল ১২০ টাকা, গোল বেগুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা, দেশি শসা ১২০ টাকা ও হাইব্রিড শসা ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ঝিঙা, কলা ও পেঁপের দামও ১০০ টাকার কাছাকাছি। অন্যান্য সবজির মধ্যে ধুন্দল ৮০ থেকে ১০০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা ও কাঁচা মরিচ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কয়েক দিন আগে ২৫-৩০ টাকা দরে বিক্রি হওয়া পেঁপে এখন ৮০ থেকে ১০০ টাকায় ঠেকেছে। মাত্র ৫ টাকার কলমি শাক বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়।

বাজারে আসা সরকারি চাকরিজীবী আব্দুল কাইয়ুম আক্ষেপ করে বলেন, “৮০-১০০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই। সাধারণ মানুষের কিনে খাওয়া এখন অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে। এভাবে চললে ছেলেমেয়ের পড়াশোনার খরচ চালানোই অসম্ভব হবে।”

সবজি বিক্রেতারা জানান, বৃষ্টির কারণে অনেক এলাকার ফলন নষ্ট হয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় সবজির দাম বাড়াতে হয়েছে।

সবজির পাশাপাশি অস্থির ডিমের বাজারও। সপ্তাহের ব্যবধানে ডজনে ১০ টাকা বেড়ে লাল ডিম ১৪০ ও সাদা ডিম ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুরগির বাজারে ব্রয়লার ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা, দেশি মুরগি ৬৫০ থেকে ৭৫০ টাকা ও সোনালি মুরগি ৩৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তবে গরু ও খাসির মাংসের দাম স্থিতিশীল রয়েছে।

রহিম নামের এক অটোরিকশা চালক বলেন, “সংসারে আটজন মানুষ। কিস্তিতে অটো নিয়েছি। দ্রব্যমূল্য বাড়ায় মানুষ এখন অটোতে কম চড়ে। কিস্তি দেব না সংসার চালাব, মাথায় কিছুই ধরছে না।”

নিত্যপণ্যের বাজারে চিনির দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ১১০ টাকায় দাড়িয়েছে। খোলা আটা ৫৫ ও ময়দা ৬৫-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে এলাচের দাম। কেজিতে ৪০০ টাকা বেড়ে মানভেদে এলাচ বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৮০০ থেকে ৫ হাজার ৪০০ টাকায়।

দিনমজুর করিম মিয়া বলেন, “বৃষ্টির কারণে কাজ ছিল না। বাজারে সবকিছুর দাম শুধু বাড়ছেই। একবার দাম বাড়লে আর সহজে কমে না।”


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত