সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সিঙ্গারটেক এলাকায় বনরক্ষীদের সঙ্গে বনদস্যু ‘শরীফ বাহিনী’র বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত চার জেলেকে হাত-পা শিকলবন্দি অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে একটি বন্দুক, এক রাউন্ড গুলি, চারটি ওয়াকিটকি ও একটি ট্রলার।
বুধবার (১৩ মে) সকালে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শেলারচর টহল ফাঁড়ি ও স্মার্ট পেট্রোলিং টিমের যৌথ অভিযান চলাকালে এই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।
উদ্ধার হওয়া জেলেরা হলেন-বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সোনাতলা গ্রামের মাসুম খান (২৫), দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামের মো. হাসান (২৮), খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার বুজবুনিয়া গ্রামের নাসিম (৩০) এবং দাকোপ উপজেলার ইরাক শেখ (৩২)।
বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, বুধবার সকাল ১০টার দিকে শেলারচর টহল ফাঁড়ি ও স্মার্ট পেট্রোলিং টিমের সদস্যরা সিঙ্গারটেক খালের মুখে একটি সন্দেহভাজন ফিশিং ট্রলার দেখতে পান। বনরক্ষীরা ট্রলারটির দিকে এগিয়ে গেলে বনদস্যুরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। বনরক্ষীরাও পাল্টা গুলি চালালে দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে বন্দুকযুদ্ধ চলে। একপর্যায়ে দস্যুরা ট্রলার ফেলে বনের গহিনে পালিয়ে যায়।
বন কর্মকর্তারা জানান, ফেলে যাওয়া ট্রলারটির পাটাতনের নিচে মাছ রাখার খোলের ভেতর থেকে শিকলবন্দি অবস্থায় চার জেলেকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় ট্রলার তল্লাশি করে একটি একনলা বন্দুক, এক রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও দুটি ওয়াকিটকি পাওয়া যায়।
মালামালসহ জেলেদের নিয়ে ফেরার পথে দস্যুরা দ্বিতীয় দফায় আবারও বনরক্ষীদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। বনরক্ষীরাও পাল্টা গুলি চালালে দস্যুরা পিছু হটে। পুরো অভিযানে বনরক্ষীরা সাত রাউন্ড গুলি ছোড়েন।
উদ্ধার হওয়া জেলেরা জানিয়েছেন, গত ১১ মে বিকেলে সুন্দরবনের শেলারচর এলাকা থেকে শরীফ বাহিনীর সদস্যরা অস্ত্রের মুখে তাঁদের অপহরণ করেছিল। মুক্তিপণের দাবিতে তাদের ট্রলারের খোলে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হতো।
উদ্ধার করা জেলেদের বর্তমানে শেলারচর টহল ফাঁড়িতে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে বন বিভাগ জানিয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন