সংবাদ

শিলিগুড়ি করিডর ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার


দীপক মুখার্জী, কলকাতা
দীপক মুখার্জী, কলকাতা
প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬, ০৮:৪৫ এএম

শিলিগুড়ি করিডর ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডকে যুক্ত করে রাখা সরু স্থলপথ-শিলিগুড়ি করিডর, যাকে সাধারণভাবে “চিকেনস নেক” বলা হয়। এই করিডরের ভৌগোলিক অবস্থানই তাকে করে তুলেছে দেশের সবচেয়ে সংবেদনশীল অঞ্চলের একটি।

নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ এবং চিন—চারদিক থেকে ঘেরা এই এলাকা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই করিডরে কোনও রকম বিঘ্ন ঘটলে উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে দেশের সংযোগই কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। এ কারণেই বহুদিন ধরেই বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের নজরে রয়েছে শিলিগুড়ি করিডর।

এর পাশাপাশি, গোয়েন্দা সূত্রে আশঙ্কা-এই করিডরের খুব কাছেই বাংলাদেশে চিন নিজেদের প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছে। যা ভবিষ্যতে ভারতের নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ ভারত সরকার।

ইতিমধ্যেই শিলিগুড়ি করিডরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং তৈরি করা হচ্ছে একটি বিশেষ নিরাপত্তা বলয়।

তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বেশ কিছু সমস্যার মুখেও পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে সীমান্তের একাধিক এলাকায় এখনও ফেন্সিং না থাকায় নিরাপত্তা বাহিনীকে বাড়তি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে। রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার অভিযোগও উঠেছে এই প্রসঙ্গে।

এই পরিস্থিতিতে উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী নিশীথ প্রামানিক জানান, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন—আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ করে কেন্দ্রের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

যেসব এলাকায় এখনও বেড়া নেই, সেখানে দ্রুত ফেন্সিংয়ের কাজ সম্পন্ন করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, অনুপ্রবেশের প্রসঙ্গেও কড়া বার্তা দেন নিশীথ প্রামাণিক।

তার দাবি, “এই নির্বাচন ছিল দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা মজবুত করার লড়াই। দেশের ডেমোগ্রাফিক পরিবর্তন রুখতেই মানুষ বিজেপিকে সমর্থন করেছেন।”

তিনি আরও দাবি করেন, অতীতে সীমান্তবর্তী এলাকায় কাঁটাতারের অভাবকে কাজে লাগিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা হয়েছে, যা দেশের নিরাপত্তা এবং জনসংখ্যার ভারসাম্যের উপর প্রভাব ফেলেছে।

সরকারের পক্ষ থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার এলাকায় ফেন্সিং করার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।

এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

“চিকেনস নেক-শুধু একটি করিডর নয়, এটি ভারতের কৌশলগত লাইফলাইন। তাই এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে কোনও আপস নয়—এটাই এখন কেন্দ্র ও রাজ্যের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।”

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ১৩ মে ২০২৬


শিলিগুড়ি করিডর ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার

প্রকাশের তারিখ : ১৩ মে ২০২৬

featured Image

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডকে যুক্ত করে রাখা সরু স্থলপথ-শিলিগুড়ি করিডর, যাকে সাধারণভাবে “চিকেনস নেক” বলা হয়। এই করিডরের ভৌগোলিক অবস্থানই তাকে করে তুলেছে দেশের সবচেয়ে সংবেদনশীল অঞ্চলের একটি।

নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ এবং চিন—চারদিক থেকে ঘেরা এই এলাকা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই করিডরে কোনও রকম বিঘ্ন ঘটলে উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে দেশের সংযোগই কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। এ কারণেই বহুদিন ধরেই বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের নজরে রয়েছে শিলিগুড়ি করিডর।

এর পাশাপাশি, গোয়েন্দা সূত্রে আশঙ্কা-এই করিডরের খুব কাছেই বাংলাদেশে চিন নিজেদের প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছে। যা ভবিষ্যতে ভারতের নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ ভারত সরকার।

ইতিমধ্যেই শিলিগুড়ি করিডরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং তৈরি করা হচ্ছে একটি বিশেষ নিরাপত্তা বলয়।

তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বেশ কিছু সমস্যার মুখেও পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে সীমান্তের একাধিক এলাকায় এখনও ফেন্সিং না থাকায় নিরাপত্তা বাহিনীকে বাড়তি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে। রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার অভিযোগও উঠেছে এই প্রসঙ্গে।

এই পরিস্থিতিতে উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী নিশীথ প্রামানিক জানান, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন—আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ করে কেন্দ্রের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

যেসব এলাকায় এখনও বেড়া নেই, সেখানে দ্রুত ফেন্সিংয়ের কাজ সম্পন্ন করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, অনুপ্রবেশের প্রসঙ্গেও কড়া বার্তা দেন নিশীথ প্রামাণিক।

তার দাবি, “এই নির্বাচন ছিল দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা মজবুত করার লড়াই। দেশের ডেমোগ্রাফিক পরিবর্তন রুখতেই মানুষ বিজেপিকে সমর্থন করেছেন।”

তিনি আরও দাবি করেন, অতীতে সীমান্তবর্তী এলাকায় কাঁটাতারের অভাবকে কাজে লাগিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা হয়েছে, যা দেশের নিরাপত্তা এবং জনসংখ্যার ভারসাম্যের উপর প্রভাব ফেলেছে।

সরকারের পক্ষ থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার এলাকায় ফেন্সিং করার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।

এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

“চিকেনস নেক-শুধু একটি করিডর নয়, এটি ভারতের কৌশলগত লাইফলাইন। তাই এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে কোনও আপস নয়—এটাই এখন কেন্দ্র ও রাজ্যের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।”




সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত