এপ্রিল মাসজুড়ে ৫২৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫১০ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ১ হাজার ২৬৮ জনেরও বেশি মানুষ। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হলেও সংগঠনটির আশঙ্কা, প্রকৃত নিহতের সংখ্যা বাস্তবে আরও অনেক বেশি হতে পারে।
গতকাল
বুধবার প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে
এই প্রতিবেদনের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন
সংগঠনের মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী। তিনি
বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশের পরিবহন খাতের পরিচালনা পদ্ধতি ‘আপাদমস্তক’ সংস্কারের জোর দাবি জানিয়েছেন।
পরিবহন খাতের বিশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ
করে মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন,
‘আমলাতন্ত্রের পরিবর্তে দেশি-বিদেশি পরিবহন
বিশেষজ্ঞদের নিয়ন্ত্রণে পরিবহন খাত পরিচালনা করা
গেলে সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা,
যাতায়াতের দুর্ভোগ নিরসন এবং প্রতিবছর হাজার
হাজার মানুষের মৃত্যুর মিছিল থামানো সক্ষম হবে।’ তিনি সরকারকে বিদ্যমান
পুরনো ও সেকেলে পরিবহন
পরিচালনা পদ্ধতি থেকে দ্রুত বেরিয়ে
আসারও আহ্বান জানান।
প্রতিবেদনের
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, এপ্রিলে
সড়ক, রেল ও নৌপথ
মিলিয়ে মোট ৫৮৬টি দুর্ঘটনা
ঘটেছে। এতে সব মিলিয়ে
৫৬৩ জন নিহত এবং
১ হাজার ২৭৯ জন আহত
হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু
সড়কেই প্রাণ গেছে ৫১০ জনের।
বিভাগওয়ারি তথ্যে দেখা গেছে, সবচেয়ে
বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রাম বিভাগে। সেখানে ১৩৫টি দুর্ঘটনায় ১৩৭ জন প্রাণ
হারিয়েছেন। অন্যদিকে, সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে
ময়মনসিংহ বিভাগে, যেখানে ১৭টি দুর্ঘটনায় ১৮
জন নিহত হয়েছেন। বিশেষ
করে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে;
১৩৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৪২ জন নিহত
হয়েছেন, যা মোট প্রাণহানির
২৭.৮৪ শতাংশ।
নিহতদের
পরিচয় বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সড়কে
প্রাণ হারানোদের মধ্যে ৯৯ জন বিভিন্ন
বাহনের চালক, ৮২ জন পথচারী,
৫৬ জন শিক্ষার্থী এবং
৫২ জন নারী রয়েছেন।
এছাড়া ৪৭ জন শিশু
ও ২৫ জন পরিবহন
শ্রমিকও এই তালিকায় আছেন।
দুর্ঘটনায় কবলিত যানবাহনের মধ্যে ২৬.৪৫ শতাংশ
ছিল ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান ও লরি এবং
২১.৮৬ শতাংশ ছিল
মোটরসাইকেল। এছাড়া ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইক ও বাসের সংখ্যাও
উল্লেখযোগ্য।
দুর্ঘটনার
কারণ হিসেবে যাত্রী কল্যাণ সমিতি মহাসড়কে ছোট যানবাহনের অবাধ
চলাচল, রোড সাইন ও
ডিভাইডার না থাকা, ফিটনেসবিহীন
গাড়ি, অদক্ষ চালক এবং বেপরোয়া
গতিকে দায়ী করেছে। এছাড়া
সড়কে চাঁদাবাজি ও চালকের অতিরিক্ত
কর্মঘণ্টাকেও অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত
করা হয়েছে। দুর্ঘটনা রোধে সংগঠনটি বেশ
কিছু জরুরি সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে
সড়কে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশার
নিবন্ধন বন্ধ করা, বিআরটিএ-এর সক্ষমতা বৃদ্ধি
এবং সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে
একটি ‘সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা
ইউনিট’ চালু করা। একই
সঙ্গে চালকদের বেতন ও কর্মঘণ্টা
সুনিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ
করা হয়েছে।

বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ মে ২০২৬
এপ্রিল মাসজুড়ে ৫২৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫১০ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ১ হাজার ২৬৮ জনেরও বেশি মানুষ। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হলেও সংগঠনটির আশঙ্কা, প্রকৃত নিহতের সংখ্যা বাস্তবে আরও অনেক বেশি হতে পারে।
গতকাল
বুধবার প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে
এই প্রতিবেদনের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন
সংগঠনের মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী। তিনি
বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশের পরিবহন খাতের পরিচালনা পদ্ধতি ‘আপাদমস্তক’ সংস্কারের জোর দাবি জানিয়েছেন।
পরিবহন খাতের বিশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ
করে মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন,
‘আমলাতন্ত্রের পরিবর্তে দেশি-বিদেশি পরিবহন
বিশেষজ্ঞদের নিয়ন্ত্রণে পরিবহন খাত পরিচালনা করা
গেলে সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা,
যাতায়াতের দুর্ভোগ নিরসন এবং প্রতিবছর হাজার
হাজার মানুষের মৃত্যুর মিছিল থামানো সক্ষম হবে।’ তিনি সরকারকে বিদ্যমান
পুরনো ও সেকেলে পরিবহন
পরিচালনা পদ্ধতি থেকে দ্রুত বেরিয়ে
আসারও আহ্বান জানান।
প্রতিবেদনের
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, এপ্রিলে
সড়ক, রেল ও নৌপথ
মিলিয়ে মোট ৫৮৬টি দুর্ঘটনা
ঘটেছে। এতে সব মিলিয়ে
৫৬৩ জন নিহত এবং
১ হাজার ২৭৯ জন আহত
হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু
সড়কেই প্রাণ গেছে ৫১০ জনের।
বিভাগওয়ারি তথ্যে দেখা গেছে, সবচেয়ে
বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রাম বিভাগে। সেখানে ১৩৫টি দুর্ঘটনায় ১৩৭ জন প্রাণ
হারিয়েছেন। অন্যদিকে, সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে
ময়মনসিংহ বিভাগে, যেখানে ১৭টি দুর্ঘটনায় ১৮
জন নিহত হয়েছেন। বিশেষ
করে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে;
১৩৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৪২ জন নিহত
হয়েছেন, যা মোট প্রাণহানির
২৭.৮৪ শতাংশ।
নিহতদের
পরিচয় বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সড়কে
প্রাণ হারানোদের মধ্যে ৯৯ জন বিভিন্ন
বাহনের চালক, ৮২ জন পথচারী,
৫৬ জন শিক্ষার্থী এবং
৫২ জন নারী রয়েছেন।
এছাড়া ৪৭ জন শিশু
ও ২৫ জন পরিবহন
শ্রমিকও এই তালিকায় আছেন।
দুর্ঘটনায় কবলিত যানবাহনের মধ্যে ২৬.৪৫ শতাংশ
ছিল ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান ও লরি এবং
২১.৮৬ শতাংশ ছিল
মোটরসাইকেল। এছাড়া ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইক ও বাসের সংখ্যাও
উল্লেখযোগ্য।
দুর্ঘটনার
কারণ হিসেবে যাত্রী কল্যাণ সমিতি মহাসড়কে ছোট যানবাহনের অবাধ
চলাচল, রোড সাইন ও
ডিভাইডার না থাকা, ফিটনেসবিহীন
গাড়ি, অদক্ষ চালক এবং বেপরোয়া
গতিকে দায়ী করেছে। এছাড়া
সড়কে চাঁদাবাজি ও চালকের অতিরিক্ত
কর্মঘণ্টাকেও অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত
করা হয়েছে। দুর্ঘটনা রোধে সংগঠনটি বেশ
কিছু জরুরি সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে
সড়কে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশার
নিবন্ধন বন্ধ করা, বিআরটিএ-এর সক্ষমতা বৃদ্ধি
এবং সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে
একটি ‘সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা
ইউনিট’ চালু করা। একই
সঙ্গে চালকদের বেতন ও কর্মঘণ্টা
সুনিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ
করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন