তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা কি সত্যিই হয়ে গেল? সিনেমার পর্দা থেকে উঠে এসে বাস্তবের ক্ষমতার কেন্দ্রে নিজের জায়গা আরও শক্ত করলেন অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হওয়া থালাপতি বিজয়।
বুধবার (১৩ মে) অনুষ্ঠিত আস্থা ভোটে ১৪৪ জন বিধায়কের সমর্থন পেয়ে তিনি শুধু নিজের সরকার টিকিয়ে রাখলেন না, বরং প্রমাণ করে দিলেন- এই মুহূর্তে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে তিনিই অন্যতম প্রধান শক্তি। বিপক্ষে ভোট পড়ে ২২টি, আর পাঁচজন বিধায়ক ভোটদানে বিরত থাকেন।
২৩৪ আসনের বিধানসভায় সরকার গড়তে প্রয়োজন ১১৮। কিন্তু বিজয়ের দল তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম নির্বাচনে জেতে ১০৮টি আসন- অর্থাৎ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে ১০ আসন পিছিয়ে। এই অবস্থায় শুরু থেকেই স্পষ্ট ছিল, সরকার টিকিয়ে রাখতে গেলে জোটই হবে একমাত্র ভরসা। সেই মতো কংগ্রেস, সিপিআই, সিপিএম, ভিসিকে এবং আইইউএমএল—এই পাঁচটি দলের সমর্থন নিশ্চিত করে বিজয়। এই জোট থেকেই আসে ১৩টি ভোট, সঙ্গে টিটিভি দিনাকরণের দলের এক বিধায়কের সমর্থন মিলিয়ে সংখ্যাটা পৌঁছে যায় ১১৯-এ- যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা ছুঁয়ে ফেলার জন্য যথেষ্ট হলেও ছিল অত্যন্ত নড়বড়ে এক সমীকরণ।
কিন্তু আস্থা ভোটের দিন পুরো ছবিটাই বদলে যায়। সবচেয়ে বড় চমক আসে এআইএডিএমকে-এর ভিতর থেকে। দলীয় নির্দেশ ছিল বিজয়ের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার, কিন্তু সেই নির্দেশ অমান্য করে অন্তত ২৪ জন বিধায়ক সরাসরি বিজয়ের পক্ষে ভোট দেন। আরও একজন বিধায়ক ভোটদান থেকে বিরত থাকেন। এই বিদ্রোহই কার্যত ভোটের অঙ্ক বদলে দেয় এবং বিজয়ের পক্ষে ব্যবধান অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়।
অন্যদিকে, ডিএমকে-এর ৫৯ জন বিধায়কের ওয়াকআউটও এই সমীকরণে বড় ভূমিকা নেয়। তারা ভোটে অংশ না নেওয়ায় কার্যত বিরোধী শক্তির সংখ্যা কমে যায়, যা বিজয়ের জন্য পরিস্থিতিকে আরও সহজ করে তোলে। রাজনৈতিক মহলে এখন প্রশ্ন উঠছে-এই ওয়াকআউট কি কৌশলগত সিদ্ধান্ত ছিল, নাকি এর ফলে অজান্তেই বিজয়ের পথ আরও মসৃণ হয়ে গেল?
ফল ঘোষণার পর বিজয়ের বক্তব্যও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেন, “আমরা নিজেদের সংখ্যালঘু সরকার বলব...সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা করব।” এই মন্তব্যে একদিকে যেমন সংখ্যার বাস্তবতা স্বীকার করা হয়েছে, তেমনই অন্যদিকে স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তাও দেওয়া হয়েছে- বিশেষ করে সংখ্যালঘু ভোটব্যাংকের দিকে নজর রেখে।
এই জয়ের আরও একটি বড় দিক রয়েছে। তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য ছিল ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-এর। প্রায় ৬২ বছর ধরে এই দুই শক্তির বাইরে তৃতীয় কোনও দল স্থায়ীভাবে ক্ষমতায় আসতে পারেনি। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে বিজয়ের উত্থান শুধু একটি রাজনৈতিক জয় নয়, বরং এক ঐতিহাসিক পালাবদলের ইঙ্গিত।
তবে এখানেই শেষ নয়, বরং এখান থেকেই শুরু আসল পরীক্ষা। সংখ্যার জোরে আস্থা ভোটে জয় পাওয়া এক জিনিস, আর দীর্ঘমেয়াদে সেই সমর্থন ধরে রেখে সরকার চালানো আরেক। জোটসঙ্গীরা কতদিন পাশে থাকবে, এআইএডিএমকে-এর এই ভাঙন কতটা গভীর হবে, আর ডিএমকে ভবিষ্যতে কী কৌশল নেয়- সবকিছুই এখন নজরে থাকবে।
এক কথায়, তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এখন নতুন সমীকরণ, নতুন নেতৃত্ব এবং নতুন অনিশ্চয়তা- আর এই পুরো পরিবর্তনের কেন্দ্রে একটাই নাম, থালাপতি বিজয়।

বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ মে ২০২৬
তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা কি সত্যিই হয়ে গেল? সিনেমার পর্দা থেকে উঠে এসে বাস্তবের ক্ষমতার কেন্দ্রে নিজের জায়গা আরও শক্ত করলেন অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হওয়া থালাপতি বিজয়।
বুধবার (১৩ মে) অনুষ্ঠিত আস্থা ভোটে ১৪৪ জন বিধায়কের সমর্থন পেয়ে তিনি শুধু নিজের সরকার টিকিয়ে রাখলেন না, বরং প্রমাণ করে দিলেন- এই মুহূর্তে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে তিনিই অন্যতম প্রধান শক্তি। বিপক্ষে ভোট পড়ে ২২টি, আর পাঁচজন বিধায়ক ভোটদানে বিরত থাকেন।
২৩৪ আসনের বিধানসভায় সরকার গড়তে প্রয়োজন ১১৮। কিন্তু বিজয়ের দল তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম নির্বাচনে জেতে ১০৮টি আসন- অর্থাৎ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে ১০ আসন পিছিয়ে। এই অবস্থায় শুরু থেকেই স্পষ্ট ছিল, সরকার টিকিয়ে রাখতে গেলে জোটই হবে একমাত্র ভরসা। সেই মতো কংগ্রেস, সিপিআই, সিপিএম, ভিসিকে এবং আইইউএমএল—এই পাঁচটি দলের সমর্থন নিশ্চিত করে বিজয়। এই জোট থেকেই আসে ১৩টি ভোট, সঙ্গে টিটিভি দিনাকরণের দলের এক বিধায়কের সমর্থন মিলিয়ে সংখ্যাটা পৌঁছে যায় ১১৯-এ- যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা ছুঁয়ে ফেলার জন্য যথেষ্ট হলেও ছিল অত্যন্ত নড়বড়ে এক সমীকরণ।
কিন্তু আস্থা ভোটের দিন পুরো ছবিটাই বদলে যায়। সবচেয়ে বড় চমক আসে এআইএডিএমকে-এর ভিতর থেকে। দলীয় নির্দেশ ছিল বিজয়ের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার, কিন্তু সেই নির্দেশ অমান্য করে অন্তত ২৪ জন বিধায়ক সরাসরি বিজয়ের পক্ষে ভোট দেন। আরও একজন বিধায়ক ভোটদান থেকে বিরত থাকেন। এই বিদ্রোহই কার্যত ভোটের অঙ্ক বদলে দেয় এবং বিজয়ের পক্ষে ব্যবধান অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়।
অন্যদিকে, ডিএমকে-এর ৫৯ জন বিধায়কের ওয়াকআউটও এই সমীকরণে বড় ভূমিকা নেয়। তারা ভোটে অংশ না নেওয়ায় কার্যত বিরোধী শক্তির সংখ্যা কমে যায়, যা বিজয়ের জন্য পরিস্থিতিকে আরও সহজ করে তোলে। রাজনৈতিক মহলে এখন প্রশ্ন উঠছে-এই ওয়াকআউট কি কৌশলগত সিদ্ধান্ত ছিল, নাকি এর ফলে অজান্তেই বিজয়ের পথ আরও মসৃণ হয়ে গেল?
ফল ঘোষণার পর বিজয়ের বক্তব্যও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেন, “আমরা নিজেদের সংখ্যালঘু সরকার বলব...সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা করব।” এই মন্তব্যে একদিকে যেমন সংখ্যার বাস্তবতা স্বীকার করা হয়েছে, তেমনই অন্যদিকে স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তাও দেওয়া হয়েছে- বিশেষ করে সংখ্যালঘু ভোটব্যাংকের দিকে নজর রেখে।
এই জয়ের আরও একটি বড় দিক রয়েছে। তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য ছিল ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-এর। প্রায় ৬২ বছর ধরে এই দুই শক্তির বাইরে তৃতীয় কোনও দল স্থায়ীভাবে ক্ষমতায় আসতে পারেনি। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে বিজয়ের উত্থান শুধু একটি রাজনৈতিক জয় নয়, বরং এক ঐতিহাসিক পালাবদলের ইঙ্গিত।
তবে এখানেই শেষ নয়, বরং এখান থেকেই শুরু আসল পরীক্ষা। সংখ্যার জোরে আস্থা ভোটে জয় পাওয়া এক জিনিস, আর দীর্ঘমেয়াদে সেই সমর্থন ধরে রেখে সরকার চালানো আরেক। জোটসঙ্গীরা কতদিন পাশে থাকবে, এআইএডিএমকে-এর এই ভাঙন কতটা গভীর হবে, আর ডিএমকে ভবিষ্যতে কী কৌশল নেয়- সবকিছুই এখন নজরে থাকবে।
এক কথায়, তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এখন নতুন সমীকরণ, নতুন নেতৃত্ব এবং নতুন অনিশ্চয়তা- আর এই পুরো পরিবর্তনের কেন্দ্রে একটাই নাম, থালাপতি বিজয়।

আপনার মতামত লিখুন