স্মৃতির ছোবলে তুষ্ট
হাসান হাফিজ
স্মৃতিরা পুরনো যতো হয় ততো কষ্টকর
এ এক অচেনা বৃষ্টি সম্পূর্ণত অন্য ধরনের
উস&কে দিলে রক্ত ঝরে কপালেরই ফের
স্মৃতিভ্রংশ মন্দ নয় মনোডাঙা ধু ধু বালুচর
স্মৃতি যদি প্রীতিকরও হয় তাতে লাভ কতটুক
সে অদৃশ্য ঘুণপোকা অহর্নিশ কুরে কুরে খায়
চিরল তরল সূক্ষ্ম বেদনাবুননে তৃপ্তি সুনিশ্চিত পায়
হৃৎপিণ্ডে ছলকে ওঠে আশঙ্কার ব্যগ্রতা ও ধুকপুক
সুতরাং স্মৃতিচর্চা ভুলে থেকো আপাতত ভুলে
পলায়ন প্রচেষ্টাও বলতে পারো লজ্জা কিছু নেই
খুঁচিয়ে কষ্টের ক্ষত কী ভরসা চেষ্টা থামালেই
ঝিনুকে বন্ধ্যত্ব বালি, কী পাবে সে বন্ধ মুখ খুলে
তাই স্মৃতি প্রত্নবস্তু হয়ে তুমি অধিষ্ঠানে থাকো জাদুঘরে
বিতণ্ডা বা কথা নয় শব্দ নয় একরত্তি প্রতিবাদও নয়
এমত অন্যায় দাবি তোমাকেও দংশাবে নিশ্চয়
ধু ধু ক্লান্ত স্মৃতিভ্রষ্ট বেঁচে আছি একাবোকা বিমুখ প্রান্তরে...
আহত জলের গান—
আতাউর রহমান মিলাদ
ডেকে আনছো সন্ধ্যা| সন্ধ্যা জমে রাত| রাতজাগা বাদুরের চোখ| শূন্যতার রহস্য ঢাকা| আটকা পড়েছে ভয়| লণ্ঠন জ্বলেনি তখনও!
ভূগোলের খাতা খোলা| ঠাহর হয় না কিছু| পেছনে হাঁটছে পথ| সন্তর্পণে পা চলা| চুপসে আছে দ্বিধার বেলুন| সাঁকো পেরুচ্ছে ঘুমবাড়ি| দরজায় খিল আঁটা| অবরুদ্ধ দৃষ্টি সীমানা|
কে কাকে ডেকে আনে, বিষণ্ন সময়ে আনমনে|
আহত জলের গান|এক পশলা লজ্জার বাণ!
নদী আর কবি—
বিশ্বজিৎ ঘোষ
নদী আর কবি স্বভাবে-ঢংয়ে একই ধরনের—
কেবলই বহতা
থামা কি জানে না নদী,
জানে না কবি|
নদী জানে শুধু ভাঙতে—
এ পাড়ের তীর ভেঙে গড়ে ও পাড়ের তীর|
এ পাড়েতে ঝুপঝাপ শব্দ, অথৈ জলে গাছেদের
হারিয়ে যাওয়া, ঘর-ভাঙা মানুষের কান্না—
ও পাড়েতে নতুন চরে কৃষকের পৌষালি হাসি|
কবির কাজও শুধু ভাঙা—
কবি ভাঙতে চায় প্রচল প্রথা,
বদলাতে চায় মানুষী স্বভাব,
নদীর মতোই বাসনা তার সবুজে-ঘেরা
নতুন কোনো ময়নামতির চর—
মানুষ যেখানে ভালোবাসবে অন্য মানুষকে
নিয়ত হাসবে চৈতালি হাসি|
বিভেদে বিবর্ণ বৈশাখ
পীযূষ কান্তি বড়ুয়া
পরকালী ফসলের প্রমাদজীর্ণ ইহকালী চাষে
দিকে দিকে জন্মেছে রক্তবীজের ঝাড়
সকল সুন্দরে আদিম দানবের মাতাল ত্রাসে
পৃথিবী হয়ে গেছে অগণন অমানুষ মুখোশের
বিশাল চিড়িয়াখানা যাতে চেপে আসে নিশ্বাস|
বিপদসংকুল আজ তাই সার্বজনীন বৈশাখ
সিদ্ধ আর অসিদ্ধের অবাঙালি প্রশ্নে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে
এ জনপদের নাতিশীতোষ্ণতা| শ্যামল রূপ ক্রমশ
অশিষ্ট অবয়বের দাপটে দলিত হতে হতে
উর্বর পলিমাটি হয়ে গেছে অনুর্বর বিচূর্ণীত শিলা|
কৃষ্ণচূড়ায় রাঙা ˆবশাখ আজ বিবর্ণ এবং বিপন্ন
ˆবশাখে আজকাল শেকড়ের টান নয় অনুপ্রবিষ্ট
মতবাদের ঝলকানি| বাঙালির ˆবশাখ মাতৃজঠর
হতেই এখন প্রতিবন্ধী| তলোয়ার সংস্কৃতির কাছে
শেকড়ের নান্দনিকতা ক্রমশ হয়ে উঠছে অসিদ্ধ|
গুহাবাদী মুখোশের সংকীর্ণতায় ˆবশাখ কূলহারা
বিপরীতে বাণিজ্যলক্ষ্মী তাকে নিয়ে গেছে পার্লারে
পাটা পুতার ঘষায় তেতো হয় শেকড়ের নির্যাস
প্রাণে সে আসে না ততো যতো আসে পোশাকে
দিনশেষে ˆবশাখ তাই বিভেদের তুষের আগুন|
হুমায়ুন আজাদ
শারদুল সজল
আমি সত্যের মুখোমুখি পৌঁছালেই আপনার দেখা পাই
তাজা বারুদ-গন্ধে নানাবিধ নিশানায় আপনি বুঝিয়ে দিলেন
‘সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে’ এই একটি লাইনে বুঁদ হয়ে
আমি পড়ে আছি দণ্ডিত সত্যের মুখোমুখি... সকরুণ
বাঙালি জাতির ভবিষৎজুড়ে
ঈর্ষাকাতর গাছের জন্ম নিচ্ছে তার ভেতর সার নেই
আকাঠা শরীর শুধু বেয়ে উঠছে আকাশচুম্বী
ফাগুনের ফুল না ফুটিয়ে
দলাদলির ফাঁপা আগুনে ডুবে যাচ্ছি
বুদ্ধিজীবীদের মতো কৌশল-ইশারায় না বুঝিয়ে
সরাসরি বুঝালেন এটা আপনার অপরাধ,
কেননা পৃথিবী এখনো সত্যের সমান বড় হয়নি
গোত্র ধর্ম ভেঙে মানুষ
এখনো মানুষের কাছে পৌঁছায়নি...
সত্যের জন্য সক্রেটিসের মৃত্যু হলো, ব্রুনোকে আগুনে পুড়িয়ে
হত্যা করা হলো, গ্যালিলিওকে জেলবন্দি ক্ষমা চাইতে হলো
সেরকম সত্য নিয়ে এই ভূ-খণ্ডের মাতাল মগজে টোকা দিলেন
নষ্টদের নরকে
ফুল-ধর্ষিত রক্তে
কান্নার যে ধ্বনি শুনতে পেয়েছেন
তার জন্য বারবার নিজেকে অপরাধী করে শত্রু বাড়িয়েছেন
তবু দুমুখো সাপের সাথে কখনো আপোস করেননি
ভান ভনিতা করে পুরুষ-বেশ্যার ছলনা করেননি
জানি, সত্যের মত কুৎসিত হয়ে বারবার আপনি
পৃথিবীর প্রেক্ষগৃহে আমন্ত্রিত হবেন
খুনের গল্প থেকে পলাশ ফুলের জন্ম
আহমাদ সেলিম
ত্রিশ লক্ষ খুনের গল্প থেকে জন্ম হয়েছিলো কৃষ্ণচূড়ার
পাখিসন্তানরা সেই ফুলের সুঘ্রাণ মেখে
আকাশ বাজিমাত করে, দৌড়ায়
রাতের ফাঁসির পর সূর্যের জন্ম হয়
ভোর কথা বলে সুবর্ণরেখায়
ফড়িং উড়ে যায়, মৃত্যুভয় পাতায় পাতায়
এখন টেবিলে টেবিলে ফুলের মরদেহ
ছায়া বিশ্বাসঘাতক
অপেক্ষায় থেকো সবুজঘাস, সূর্যপাখি
রাত পোহাবে জলদি
মন খারাপের সকালবেলা
রাকিবুল রকি
মন খারাপের সকালবেলা মেঘ করেছে বেশ
এমন দিন রাস্তা ডাকে, চল রে নিরুদ্দেশ!
মেঘের সাজে সেজেছে আজ চোখের নোনাজল
ভায়োলিনের সুর জানে তা কতটা অতল|
বেঁচে থেকে কত মানুষ হয়ে যায় নিঃশেষ|
সকাল বেলার মন খারাপে মেঘ করেছে বেশ|
প্রতিচ্ছবি
ফরিদা রানু
পাহাড়ের বুকে ডুবতে যাওয়া
উজ্জ্বল অর্ক হাসছে কুটি কুটি
রক্ত নদীর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া
বাউলাই এর প্রেমে খায় লুটোপুটি|
আর ওই যে দূর পাহাড়
উদাত্ত আহ্বানে ছড়িয়ে দিয়ে বাহার
কী যেন এক অপেক্ষা তাহার!
তীব্র বাসনায় অব্যক্ত অদম্য নাহার|
আচ্ছা?
তুমি কি টলটলে কোল ভরা শান্ত নদী
নাকি অটল দাঁড়িয়ে থাকা নীলাভ শিখরী?
আচ্ছা, তবে আমি কি সেথায় নীলাম্বরী?
নাকি তোমার মনে বয়ে আনা প্রমত্ত গতি?
আর ওই যে নীলাভ রক্তিম দিগন্ত
সেও কি আমাদের প্রেমের সীমান্ত?
নাকি তুমি আমি যা কিছুই হইনা কেন
পাহাড়, নদী, মেঘ বা ঝর্ণা গাতি
সবই মধুর মুখরিত প্রীতির
ঝকঝকে প্রতিচ্ছবি যেন!
মানুষ চেনার চোখ
মোহামেদ সাইফুল হাসান
মাছের কানকো দেখার মতো
তারে ধরে দেখলাম
গন্ধ শুকলাম
সোডিয়াম আলোতে উজ্জ্বল রূপালি শরীর,
শুয়ে আছে এ চোখের ভেতর
মনের ভেতর,
অথচ ঘরে এনে জলে ভেজাতে
কানকো থেকে ধুয়ে পড়ে বিশ্বাসের লাল রং
খোদার কাছে ক্বদরের রাতে
দুটি চোখ চেয়েছি,
সেজদাতে দুটি চোখ
মানুষ চেনার চোখ|
খুঁজে পাবে না
মোল্লা মোখলেছুর
বিন্যাসের তাক থেকে ছুটে পড়ে
আজো উপদ্রব হয়ে আছি
বৃষ্টির ছাঁটে ভিজে যাচ্ছি
গলিত হয়ে ভেসে যেতে পারছি না
ডোবা নালা বয়ে পড়শী নদীতে
থাকছি বেপরোয়া ঝাপটা স্নানে
বৃষ্টি কেটে গেলে
ছোটাছুটি বাড়বে অন্নের তাড়নায়
নিমিষে সূর্য স্নানে উড়ে যাবো
খুঁজে পাবে না আহত ডানা
উপদ্রবের উড়ো ঠিকানা|

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ মে ২০২৬
স্মৃতির ছোবলে তুষ্ট
হাসান হাফিজ
স্মৃতিরা পুরনো যতো হয় ততো কষ্টকর
এ এক অচেনা বৃষ্টি সম্পূর্ণত অন্য ধরনের
উস&কে দিলে রক্ত ঝরে কপালেরই ফের
স্মৃতিভ্রংশ মন্দ নয় মনোডাঙা ধু ধু বালুচর
স্মৃতি যদি প্রীতিকরও হয় তাতে লাভ কতটুক
সে অদৃশ্য ঘুণপোকা অহর্নিশ কুরে কুরে খায়
চিরল তরল সূক্ষ্ম বেদনাবুননে তৃপ্তি সুনিশ্চিত পায়
হৃৎপিণ্ডে ছলকে ওঠে আশঙ্কার ব্যগ্রতা ও ধুকপুক
সুতরাং স্মৃতিচর্চা ভুলে থেকো আপাতত ভুলে
পলায়ন প্রচেষ্টাও বলতে পারো লজ্জা কিছু নেই
খুঁচিয়ে কষ্টের ক্ষত কী ভরসা চেষ্টা থামালেই
ঝিনুকে বন্ধ্যত্ব বালি, কী পাবে সে বন্ধ মুখ খুলে
তাই স্মৃতি প্রত্নবস্তু হয়ে তুমি অধিষ্ঠানে থাকো জাদুঘরে
বিতণ্ডা বা কথা নয় শব্দ নয় একরত্তি প্রতিবাদও নয়
এমত অন্যায় দাবি তোমাকেও দংশাবে নিশ্চয়
ধু ধু ক্লান্ত স্মৃতিভ্রষ্ট বেঁচে আছি একাবোকা বিমুখ প্রান্তরে...
আহত জলের গান—
আতাউর রহমান মিলাদ
ডেকে আনছো সন্ধ্যা| সন্ধ্যা জমে রাত| রাতজাগা বাদুরের চোখ| শূন্যতার রহস্য ঢাকা| আটকা পড়েছে ভয়| লণ্ঠন জ্বলেনি তখনও!
ভূগোলের খাতা খোলা| ঠাহর হয় না কিছু| পেছনে হাঁটছে পথ| সন্তর্পণে পা চলা| চুপসে আছে দ্বিধার বেলুন| সাঁকো পেরুচ্ছে ঘুমবাড়ি| দরজায় খিল আঁটা| অবরুদ্ধ দৃষ্টি সীমানা|
কে কাকে ডেকে আনে, বিষণ্ন সময়ে আনমনে|
আহত জলের গান|এক পশলা লজ্জার বাণ!
নদী আর কবি—
বিশ্বজিৎ ঘোষ
নদী আর কবি স্বভাবে-ঢংয়ে একই ধরনের—
কেবলই বহতা
থামা কি জানে না নদী,
জানে না কবি|
নদী জানে শুধু ভাঙতে—
এ পাড়ের তীর ভেঙে গড়ে ও পাড়ের তীর|
এ পাড়েতে ঝুপঝাপ শব্দ, অথৈ জলে গাছেদের
হারিয়ে যাওয়া, ঘর-ভাঙা মানুষের কান্না—
ও পাড়েতে নতুন চরে কৃষকের পৌষালি হাসি|
কবির কাজও শুধু ভাঙা—
কবি ভাঙতে চায় প্রচল প্রথা,
বদলাতে চায় মানুষী স্বভাব,
নদীর মতোই বাসনা তার সবুজে-ঘেরা
নতুন কোনো ময়নামতির চর—
মানুষ যেখানে ভালোবাসবে অন্য মানুষকে
নিয়ত হাসবে চৈতালি হাসি|
বিভেদে বিবর্ণ বৈশাখ
পীযূষ কান্তি বড়ুয়া
পরকালী ফসলের প্রমাদজীর্ণ ইহকালী চাষে
দিকে দিকে জন্মেছে রক্তবীজের ঝাড়
সকল সুন্দরে আদিম দানবের মাতাল ত্রাসে
পৃথিবী হয়ে গেছে অগণন অমানুষ মুখোশের
বিশাল চিড়িয়াখানা যাতে চেপে আসে নিশ্বাস|
বিপদসংকুল আজ তাই সার্বজনীন বৈশাখ
সিদ্ধ আর অসিদ্ধের অবাঙালি প্রশ্নে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে
এ জনপদের নাতিশীতোষ্ণতা| শ্যামল রূপ ক্রমশ
অশিষ্ট অবয়বের দাপটে দলিত হতে হতে
উর্বর পলিমাটি হয়ে গেছে অনুর্বর বিচূর্ণীত শিলা|
কৃষ্ণচূড়ায় রাঙা ˆবশাখ আজ বিবর্ণ এবং বিপন্ন
ˆবশাখে আজকাল শেকড়ের টান নয় অনুপ্রবিষ্ট
মতবাদের ঝলকানি| বাঙালির ˆবশাখ মাতৃজঠর
হতেই এখন প্রতিবন্ধী| তলোয়ার সংস্কৃতির কাছে
শেকড়ের নান্দনিকতা ক্রমশ হয়ে উঠছে অসিদ্ধ|
গুহাবাদী মুখোশের সংকীর্ণতায় ˆবশাখ কূলহারা
বিপরীতে বাণিজ্যলক্ষ্মী তাকে নিয়ে গেছে পার্লারে
পাটা পুতার ঘষায় তেতো হয় শেকড়ের নির্যাস
প্রাণে সে আসে না ততো যতো আসে পোশাকে
দিনশেষে ˆবশাখ তাই বিভেদের তুষের আগুন|
হুমায়ুন আজাদ
শারদুল সজল
আমি সত্যের মুখোমুখি পৌঁছালেই আপনার দেখা পাই
তাজা বারুদ-গন্ধে নানাবিধ নিশানায় আপনি বুঝিয়ে দিলেন
‘সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে’ এই একটি লাইনে বুঁদ হয়ে
আমি পড়ে আছি দণ্ডিত সত্যের মুখোমুখি... সকরুণ
বাঙালি জাতির ভবিষৎজুড়ে
ঈর্ষাকাতর গাছের জন্ম নিচ্ছে তার ভেতর সার নেই
আকাঠা শরীর শুধু বেয়ে উঠছে আকাশচুম্বী
ফাগুনের ফুল না ফুটিয়ে
দলাদলির ফাঁপা আগুনে ডুবে যাচ্ছি
বুদ্ধিজীবীদের মতো কৌশল-ইশারায় না বুঝিয়ে
সরাসরি বুঝালেন এটা আপনার অপরাধ,
কেননা পৃথিবী এখনো সত্যের সমান বড় হয়নি
গোত্র ধর্ম ভেঙে মানুষ
এখনো মানুষের কাছে পৌঁছায়নি...
সত্যের জন্য সক্রেটিসের মৃত্যু হলো, ব্রুনোকে আগুনে পুড়িয়ে
হত্যা করা হলো, গ্যালিলিওকে জেলবন্দি ক্ষমা চাইতে হলো
সেরকম সত্য নিয়ে এই ভূ-খণ্ডের মাতাল মগজে টোকা দিলেন
নষ্টদের নরকে
ফুল-ধর্ষিত রক্তে
কান্নার যে ধ্বনি শুনতে পেয়েছেন
তার জন্য বারবার নিজেকে অপরাধী করে শত্রু বাড়িয়েছেন
তবু দুমুখো সাপের সাথে কখনো আপোস করেননি
ভান ভনিতা করে পুরুষ-বেশ্যার ছলনা করেননি
জানি, সত্যের মত কুৎসিত হয়ে বারবার আপনি
পৃথিবীর প্রেক্ষগৃহে আমন্ত্রিত হবেন
খুনের গল্প থেকে পলাশ ফুলের জন্ম
আহমাদ সেলিম
ত্রিশ লক্ষ খুনের গল্প থেকে জন্ম হয়েছিলো কৃষ্ণচূড়ার
পাখিসন্তানরা সেই ফুলের সুঘ্রাণ মেখে
আকাশ বাজিমাত করে, দৌড়ায়
রাতের ফাঁসির পর সূর্যের জন্ম হয়
ভোর কথা বলে সুবর্ণরেখায়
ফড়িং উড়ে যায়, মৃত্যুভয় পাতায় পাতায়
এখন টেবিলে টেবিলে ফুলের মরদেহ
ছায়া বিশ্বাসঘাতক
অপেক্ষায় থেকো সবুজঘাস, সূর্যপাখি
রাত পোহাবে জলদি
মন খারাপের সকালবেলা
রাকিবুল রকি
মন খারাপের সকালবেলা মেঘ করেছে বেশ
এমন দিন রাস্তা ডাকে, চল রে নিরুদ্দেশ!
মেঘের সাজে সেজেছে আজ চোখের নোনাজল
ভায়োলিনের সুর জানে তা কতটা অতল|
বেঁচে থেকে কত মানুষ হয়ে যায় নিঃশেষ|
সকাল বেলার মন খারাপে মেঘ করেছে বেশ|
প্রতিচ্ছবি
ফরিদা রানু
পাহাড়ের বুকে ডুবতে যাওয়া
উজ্জ্বল অর্ক হাসছে কুটি কুটি
রক্ত নদীর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া
বাউলাই এর প্রেমে খায় লুটোপুটি|
আর ওই যে দূর পাহাড়
উদাত্ত আহ্বানে ছড়িয়ে দিয়ে বাহার
কী যেন এক অপেক্ষা তাহার!
তীব্র বাসনায় অব্যক্ত অদম্য নাহার|
আচ্ছা?
তুমি কি টলটলে কোল ভরা শান্ত নদী
নাকি অটল দাঁড়িয়ে থাকা নীলাভ শিখরী?
আচ্ছা, তবে আমি কি সেথায় নীলাম্বরী?
নাকি তোমার মনে বয়ে আনা প্রমত্ত গতি?
আর ওই যে নীলাভ রক্তিম দিগন্ত
সেও কি আমাদের প্রেমের সীমান্ত?
নাকি তুমি আমি যা কিছুই হইনা কেন
পাহাড়, নদী, মেঘ বা ঝর্ণা গাতি
সবই মধুর মুখরিত প্রীতির
ঝকঝকে প্রতিচ্ছবি যেন!
মানুষ চেনার চোখ
মোহামেদ সাইফুল হাসান
মাছের কানকো দেখার মতো
তারে ধরে দেখলাম
গন্ধ শুকলাম
সোডিয়াম আলোতে উজ্জ্বল রূপালি শরীর,
শুয়ে আছে এ চোখের ভেতর
মনের ভেতর,
অথচ ঘরে এনে জলে ভেজাতে
কানকো থেকে ধুয়ে পড়ে বিশ্বাসের লাল রং
খোদার কাছে ক্বদরের রাতে
দুটি চোখ চেয়েছি,
সেজদাতে দুটি চোখ
মানুষ চেনার চোখ|
খুঁজে পাবে না
মোল্লা মোখলেছুর
বিন্যাসের তাক থেকে ছুটে পড়ে
আজো উপদ্রব হয়ে আছি
বৃষ্টির ছাঁটে ভিজে যাচ্ছি
গলিত হয়ে ভেসে যেতে পারছি না
ডোবা নালা বয়ে পড়শী নদীতে
থাকছি বেপরোয়া ঝাপটা স্নানে
বৃষ্টি কেটে গেলে
ছোটাছুটি বাড়বে অন্নের তাড়নায়
নিমিষে সূর্য স্নানে উড়ে যাবো
খুঁজে পাবে না আহত ডানা
উপদ্রবের উড়ো ঠিকানা|

আপনার মতামত লিখুন