সংবাদ

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: থাইল্যান্ডে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬, ১১:১৪ পিএম

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: থাইল্যান্ডে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে ঘোষণা দিয়েছেন জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে। এরপরও একটি মহল এটি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। তবে সরকার এই সনদ বাস্তবায়নে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১২ মে) থাইল্যান্ডের ব্যাংককে ভেজথানি ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের দেখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় থাইল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত উপস্থিত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা এম এ খায়ের এসব তথ্য জানান।

মন্ত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত ‘জুলাই যোদ্ধা’দের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং তাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থাইল্যান্ডের পাশাপাশি রাশিয়া, সিঙ্গাপুর ও তুরস্কে চিকিৎসাধীন আহতদের সার্বিক খোঁজ রাখছে এবং তাদের চিকিৎসাসহ অন্যান্য সব ব্যয়ভার বহন করছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, গণঅভ্যুত্থানের আদর্শ, ইতিহাস ও স্মৃতি রক্ষা এবং শহীদ পরিবার ও আহতদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিতে মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তর’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এই অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রকৃত যোদ্ধাদের যাচাই-বাছাই, তালিকা প্রণয়ন ও গেজেট প্রকাশ করা হচ্ছে।

সরকারি পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, বর্তমানে এমআইএসভুক্ত জুলাই যোদ্ধার সংখ্যা ১৪ হাজার ৩৬৯ জন এবং শহীদের সংখ্যা ৮৪৪ জন।

আর্থিক সহায়তার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যদের এককালীন ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র এবং মাসিক ২০ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া আহতদের ধরন অনুযায়ী এককালীন ৫ লাখ, ৩ লাখ ও ১ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র এবং মাসিক যথাক্রমে ২০ হাজার, ১৫ হাজার ও ১০ হাজার টাকা করে ভাতা প্রদান করা হচ্ছে।

বিদেশে চিকিৎসার বিষয়ে আহমেদ আযম খান বলেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫২ জন আহত যোদ্ধাকে রাশিয়া, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও তুরস্কে পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে ৯২ জন চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন এবং বর্তমানে ৬০ জন বিদেশে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পুনর্বাসন কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি জানান, জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে পাওয়া ৩ হাজার ৪২৫টি আবেদনের মধ্য থেকে ১ হাজার ৯৩৭ জন জুলাই যোদ্ধাকে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে পুনর্বাসনের জন্য যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬


জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: থাইল্যান্ডে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ১৩ মে ২০২৬

featured Image

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে ঘোষণা দিয়েছেন জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে। এরপরও একটি মহল এটি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। তবে সরকার এই সনদ বাস্তবায়নে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১২ মে) থাইল্যান্ডের ব্যাংককে ভেজথানি ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের দেখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় থাইল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত উপস্থিত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা এম এ খায়ের এসব তথ্য জানান।

মন্ত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত ‘জুলাই যোদ্ধা’দের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং তাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থাইল্যান্ডের পাশাপাশি রাশিয়া, সিঙ্গাপুর ও তুরস্কে চিকিৎসাধীন আহতদের সার্বিক খোঁজ রাখছে এবং তাদের চিকিৎসাসহ অন্যান্য সব ব্যয়ভার বহন করছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, গণঅভ্যুত্থানের আদর্শ, ইতিহাস ও স্মৃতি রক্ষা এবং শহীদ পরিবার ও আহতদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিতে মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তর’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এই অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রকৃত যোদ্ধাদের যাচাই-বাছাই, তালিকা প্রণয়ন ও গেজেট প্রকাশ করা হচ্ছে।

সরকারি পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, বর্তমানে এমআইএসভুক্ত জুলাই যোদ্ধার সংখ্যা ১৪ হাজার ৩৬৯ জন এবং শহীদের সংখ্যা ৮৪৪ জন।

আর্থিক সহায়তার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যদের এককালীন ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র এবং মাসিক ২০ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া আহতদের ধরন অনুযায়ী এককালীন ৫ লাখ, ৩ লাখ ও ১ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র এবং মাসিক যথাক্রমে ২০ হাজার, ১৫ হাজার ও ১০ হাজার টাকা করে ভাতা প্রদান করা হচ্ছে।

বিদেশে চিকিৎসার বিষয়ে আহমেদ আযম খান বলেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫২ জন আহত যোদ্ধাকে রাশিয়া, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও তুরস্কে পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে ৯২ জন চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন এবং বর্তমানে ৬০ জন বিদেশে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পুনর্বাসন কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি জানান, জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে পাওয়া ৩ হাজার ৪২৫টি আবেদনের মধ্য থেকে ১ হাজার ৯৩৭ জন জুলাই যোদ্ধাকে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে পুনর্বাসনের জন্য যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত