ফল ঘোষণার দশদিন পরেও কংগ্রেস নেতৃত্ত্বাধিন জোট জিতেও এখনও ফয়সালা করতে পারেনি কে হবেন মুখ্যমন্ত্রী কেরলে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট -এর সাম্প্রতিক জয়ের উচ্ছ্বাস এখন অনেকটাই চাপা পড়েছে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন ঘিরে তীব্র টানাপোড়েনে। তবে এই পরিস্থিতি পুরোপুরি বোঝার জন্য একটু পিছনে তাকানো দরকার—কারণ এই জয়ের পেছনে আগের সরকারের বিরুদ্ধে জমে থাকা অসন্তোষই বড় ভূমিকা নিয়েছে।
গত কয়েক বছর ধরে কেরলে ক্ষমতায় ছিল লেফট ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট , যার নেতৃত্বে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। শুরুতে প্রশাসনিক দক্ষতা ও শক্তিশালী নেতৃত্বের ভাবমূর্তি থাকলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে একাধিক ইস্যুতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সোনা পাচার কেলেঙ্কারি, বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ, স্বজনপোষণের বিতর্ক এবং কিছু ক্ষেত্রে প্রশাসনিক একচ্ছত্র মনোভাব- এসবই সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়িয়ে তোলে। পাশাপাশি বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি এবং উন্নয়নের গতি নিয়ে প্রশ্নও উঠতে থাকে। ফলে মানুষের একটা বড় অংশ পরিবর্তন চেয়েছিল, আর সেই সুযোগটাই কাজে লাগায় কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট।
এই প্রেক্ষাপটে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস-এর নেতৃত্বে ইউডিএফ জোট একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে উঠে আসে এবং নির্বাচনে বড় জয় পায়। কিন্তু জয়ের পরই সামনে আসে নতুন সংকট- কে হবেন মুখ্যমন্ত্রী? এখন সেই প্রশ্নেই আটকে গেছে পুরো প্রক্রিয়া।
মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে রয়েছেন ভি. ডি. সাথীসান, কে. সি. ভেন্যুগোপাল এবং রমেশ চেন্নাইথালা। সতীশন নতুন প্রজন্মের, আক্রমণাত্মক ও জনমুখী নেতা হিসেবে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। বেণুগোপাল সংগঠন এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয়ে দক্ষ। আর চেন্নিতালা অভিজ্ঞতার নিরিখে এগিয়ে। কিন্তু এই তিনজনের মধ্যে কাউকে নিয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় জট আরও বাড়ছে।
সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলছে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস-এর “হাই কমান্ড সংস্কৃতি”, যেখানে দিল্লির নেতৃত্বই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। মল্লিকার্জুন খার্গে-এর বাসভবনে একাধিক বৈঠক হলেও এখনও কোনও নাম চূড়ান্ত হয়নি। কারণ, যে কোনও সিদ্ধান্তই দলের একাংশকে অসন্তুষ্ট করতে পারে।
এদিকে জোটসঙ্গী ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগ (আইউএমএল) এখনো অপেক্ষার কৌশল নিয়েছে। তারা বলেছে, কংগ্রেস আগে মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করুক, তারপর তারা নিজেদের অবস্থান জানাবে। একইসঙ্গে, কিছু খ্রিস্টান গির্জার অংশ আইউএমএল-এর ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করায় পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।
সব মিলিয়ে, কেরলের এই মুহূর্তের ছবি খুবই স্পষ্ট- মানুষ আগের সরকারের বিরুদ্ধে রায় দিয়ে পরিবর্তন এনেছে, কিন্তু এখন সেই পরিবর্তনের নেতৃত্ব ঠিক করতেই হিমশিম খাচ্ছে কংগ্রেস। ফলে জয়ের আনন্দের জায়গায় এখন তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা ও চাপা দ্বন্দ্ব, যা আগামী দিনের রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ মে ২০২৬
ফল ঘোষণার দশদিন পরেও কংগ্রেস নেতৃত্ত্বাধিন জোট জিতেও এখনও ফয়সালা করতে পারেনি কে হবেন মুখ্যমন্ত্রী কেরলে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট -এর সাম্প্রতিক জয়ের উচ্ছ্বাস এখন অনেকটাই চাপা পড়েছে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন ঘিরে তীব্র টানাপোড়েনে। তবে এই পরিস্থিতি পুরোপুরি বোঝার জন্য একটু পিছনে তাকানো দরকার—কারণ এই জয়ের পেছনে আগের সরকারের বিরুদ্ধে জমে থাকা অসন্তোষই বড় ভূমিকা নিয়েছে।
গত কয়েক বছর ধরে কেরলে ক্ষমতায় ছিল লেফট ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট , যার নেতৃত্বে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। শুরুতে প্রশাসনিক দক্ষতা ও শক্তিশালী নেতৃত্বের ভাবমূর্তি থাকলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে একাধিক ইস্যুতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সোনা পাচার কেলেঙ্কারি, বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ, স্বজনপোষণের বিতর্ক এবং কিছু ক্ষেত্রে প্রশাসনিক একচ্ছত্র মনোভাব- এসবই সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়িয়ে তোলে। পাশাপাশি বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি এবং উন্নয়নের গতি নিয়ে প্রশ্নও উঠতে থাকে। ফলে মানুষের একটা বড় অংশ পরিবর্তন চেয়েছিল, আর সেই সুযোগটাই কাজে লাগায় কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট।
এই প্রেক্ষাপটে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস-এর নেতৃত্বে ইউডিএফ জোট একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে উঠে আসে এবং নির্বাচনে বড় জয় পায়। কিন্তু জয়ের পরই সামনে আসে নতুন সংকট- কে হবেন মুখ্যমন্ত্রী? এখন সেই প্রশ্নেই আটকে গেছে পুরো প্রক্রিয়া।
মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে রয়েছেন ভি. ডি. সাথীসান, কে. সি. ভেন্যুগোপাল এবং রমেশ চেন্নাইথালা। সতীশন নতুন প্রজন্মের, আক্রমণাত্মক ও জনমুখী নেতা হিসেবে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। বেণুগোপাল সংগঠন এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয়ে দক্ষ। আর চেন্নিতালা অভিজ্ঞতার নিরিখে এগিয়ে। কিন্তু এই তিনজনের মধ্যে কাউকে নিয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় জট আরও বাড়ছে।
সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলছে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস-এর “হাই কমান্ড সংস্কৃতি”, যেখানে দিল্লির নেতৃত্বই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। মল্লিকার্জুন খার্গে-এর বাসভবনে একাধিক বৈঠক হলেও এখনও কোনও নাম চূড়ান্ত হয়নি। কারণ, যে কোনও সিদ্ধান্তই দলের একাংশকে অসন্তুষ্ট করতে পারে।
এদিকে জোটসঙ্গী ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগ (আইউএমএল) এখনো অপেক্ষার কৌশল নিয়েছে। তারা বলেছে, কংগ্রেস আগে মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করুক, তারপর তারা নিজেদের অবস্থান জানাবে। একইসঙ্গে, কিছু খ্রিস্টান গির্জার অংশ আইউএমএল-এর ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করায় পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।
সব মিলিয়ে, কেরলের এই মুহূর্তের ছবি খুবই স্পষ্ট- মানুষ আগের সরকারের বিরুদ্ধে রায় দিয়ে পরিবর্তন এনেছে, কিন্তু এখন সেই পরিবর্তনের নেতৃত্ব ঠিক করতেই হিমশিম খাচ্ছে কংগ্রেস। ফলে জয়ের আনন্দের জায়গায় এখন তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা ও চাপা দ্বন্দ্ব, যা আগামী দিনের রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন