সংবাদ

টাকা দিলেই মিলছে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড


প্রতিনিধি, মহাদেবপুর (নওগাঁ)
প্রতিনিধি, মহাদেবপুর (নওগাঁ)
প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬, ১০:১৪ এএম

টাকা দিলেই মিলছে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড
ভুয়া প্রতিবন্ধী কার্ড ছবি : সংবাদ

নওগাঁর মহাদেবপুরে সমাজসেবা অধিদপ্তরের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতা বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। সচ্ছল ও সুস্থ মানুষের নামে ভাতার কার্ড ইস্যু করা এবং কম্পিউটার থেকে প্রিন্ট করা হাজার হাজার ভুয়া কার্ড দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা এখন উপজেলায় ‘ওপেন সিক্রেট’। এর ফলে প্রতিবছর সরকারের কোটি কোটি টাকা অযোগ্যদের পকেটে গেলেও বঞ্চিত হচ্ছেন প্রকৃত দুস্থ ও প্রতিবন্ধীরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য, গ্রাম পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতাদের একটি চক্র এই জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত। তারা টাকার বিনিময়ে সুস্থ ও সচ্ছল ব্যক্তিদের প্রতিবন্ধী সাজিয়ে কার্ড করে দিচ্ছেন। আবার অনেক ক্ষেত্রে দুস্থদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তাদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে কম্পিউটারে তৈরি ভুয়া কার্ড।

উপজেলার উত্তরগ্রাম ইউনিয়নের গড়ের পাড় গ্রামের আবু বক্কর ছিদ্দীক (৫১) জানান, পায়ের সমস্যার কারণে তিনি পরিশ্রম করতে পারেন না। দুবছর আগে ইউপি সদস্যের সহায়তায় আবেদন করেও কোনো টাকা পাননি। পরে সমাজসেবা কার্যালয়ে গিয়ে জানতে পারেন, তার কার্ডটি ভুয়া। একই গ্রামের রুমি খাতুন তার বাক্‌প্রতিবন্ধী ছেলে আমান শুভর (১২) ভাতার কার্ডের জন্য এক নারী সদস্যের স্বামীর কাছে গিয়ে প্রতারিত হয়েছেন। সমাজসেবা কর্মকর্তা তার কার্ডটিকেও ‘নকল’ বলে শনাক্ত করেছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাতা বিতরণের সময় লাইনে দাঁড়ালে দেখা যায় অধিকাংশ মানুষই সুস্থ ও সচ্ছল। উত্তরগ্রাম ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম, নারী সদস্যের স্বামী রবিউল ইসলাম ও রাজনৈতিক নেতা ময়েন উদ্দিনের বিরুদ্ধে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে এসব কার্ড করার অভিযোগ উঠেছে। খাজুর ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধেও জনপ্রতি ৪ হাজার টাকার বিনিময়ে প্রায় ৪০০ সুস্থ মানুষকে প্রতিবন্ধী কার্ড করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া লক্ষণপুর গ্রামের কথিত নেতা রহমানের মাধ্যমে অর্ধশতাধিক সুস্থ মানুষ প্রতিবন্ধী ভাতা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জালিয়াতির বিষয়টি অকপটে স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “উপজেলায় মোট ৪১ হাজার ভাতাভোগীর মধ্যে ১৯ হাজার প্রতিবন্ধী কার্ডধারী। এর বাইরে আরও অন্তত ছয় হাজার কার্ড রয়েছে যেগুলো সরকারি অনুমোদন ছাড়াই কম্পিউটার দিয়ে ভুয়াভাবে তৈরি করা হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, যোগদানের পর যাচাই-বাছাই করে গত অর্থবছরে তিনি ৩,৩৯৩টি ভুয়া কার্ড বাতিল করেছেন। বর্তমানে সচল ১৯ হাজার কার্ডের অর্ধেকই ভুয়া বা অযোগ্য হতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন। এই জালিয়াতির সঙ্গে দপ্তরের সাবেক দুই কর্মকর্তা জড়িত ছিলেন বলে তিনি জানান, যাদের একজন অবসরে এবং অন্যজন বদলি হয়েছেন। অযোগ্যদের বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬


টাকা দিলেই মিলছে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড

প্রকাশের তারিখ : ১৪ মে ২০২৬

featured Image

নওগাঁর মহাদেবপুরে সমাজসেবা অধিদপ্তরের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতা বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। সচ্ছল ও সুস্থ মানুষের নামে ভাতার কার্ড ইস্যু করা এবং কম্পিউটার থেকে প্রিন্ট করা হাজার হাজার ভুয়া কার্ড দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা এখন উপজেলায় ‘ওপেন সিক্রেট’। এর ফলে প্রতিবছর সরকারের কোটি কোটি টাকা অযোগ্যদের পকেটে গেলেও বঞ্চিত হচ্ছেন প্রকৃত দুস্থ ও প্রতিবন্ধীরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য, গ্রাম পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতাদের একটি চক্র এই জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত। তারা টাকার বিনিময়ে সুস্থ ও সচ্ছল ব্যক্তিদের প্রতিবন্ধী সাজিয়ে কার্ড করে দিচ্ছেন। আবার অনেক ক্ষেত্রে দুস্থদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তাদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে কম্পিউটারে তৈরি ভুয়া কার্ড।

উপজেলার উত্তরগ্রাম ইউনিয়নের গড়ের পাড় গ্রামের আবু বক্কর ছিদ্দীক (৫১) জানান, পায়ের সমস্যার কারণে তিনি পরিশ্রম করতে পারেন না। দুবছর আগে ইউপি সদস্যের সহায়তায় আবেদন করেও কোনো টাকা পাননি। পরে সমাজসেবা কার্যালয়ে গিয়ে জানতে পারেন, তার কার্ডটি ভুয়া। একই গ্রামের রুমি খাতুন তার বাক্‌প্রতিবন্ধী ছেলে আমান শুভর (১২) ভাতার কার্ডের জন্য এক নারী সদস্যের স্বামীর কাছে গিয়ে প্রতারিত হয়েছেন। সমাজসেবা কর্মকর্তা তার কার্ডটিকেও ‘নকল’ বলে শনাক্ত করেছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাতা বিতরণের সময় লাইনে দাঁড়ালে দেখা যায় অধিকাংশ মানুষই সুস্থ ও সচ্ছল। উত্তরগ্রাম ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম, নারী সদস্যের স্বামী রবিউল ইসলাম ও রাজনৈতিক নেতা ময়েন উদ্দিনের বিরুদ্ধে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে এসব কার্ড করার অভিযোগ উঠেছে। খাজুর ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধেও জনপ্রতি ৪ হাজার টাকার বিনিময়ে প্রায় ৪০০ সুস্থ মানুষকে প্রতিবন্ধী কার্ড করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া লক্ষণপুর গ্রামের কথিত নেতা রহমানের মাধ্যমে অর্ধশতাধিক সুস্থ মানুষ প্রতিবন্ধী ভাতা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জালিয়াতির বিষয়টি অকপটে স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “উপজেলায় মোট ৪১ হাজার ভাতাভোগীর মধ্যে ১৯ হাজার প্রতিবন্ধী কার্ডধারী। এর বাইরে আরও অন্তত ছয় হাজার কার্ড রয়েছে যেগুলো সরকারি অনুমোদন ছাড়াই কম্পিউটার দিয়ে ভুয়াভাবে তৈরি করা হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, যোগদানের পর যাচাই-বাছাই করে গত অর্থবছরে তিনি ৩,৩৯৩টি ভুয়া কার্ড বাতিল করেছেন। বর্তমানে সচল ১৯ হাজার কার্ডের অর্ধেকই ভুয়া বা অযোগ্য হতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন। এই জালিয়াতির সঙ্গে দপ্তরের সাবেক দুই কর্মকর্তা জড়িত ছিলেন বলে তিনি জানান, যাদের একজন অবসরে এবং অন্যজন বদলি হয়েছেন। অযোগ্যদের বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত