সংবাদ

একাত্তর টিভির সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপার মুক্তি চায় সিপিজে


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬, ০৭:৩৩ এএম

একাত্তর টিভির সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপার মুক্তি চায় সিপিজে

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার একাত্তর টেলিভিশনের দুই সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপার অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেছে আন্তর্জাতিক সংগঠন ‘কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস’ (সিপিজে)। ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে ‘হত্যাযজ্ঞ’ চালানোর অভিযোগে করা মামলায় গত বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং এর পরদিন শুক্রবার (১৫ মে) এক বিবৃতিতে এই দাবি জানায় সংগঠনটি।

শাপলা চত্বরের ঘটনায় গ্রেপ্তারের পর দুই সাংবাদিককে বর্তমানে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং এই মামলায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনিকেও গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল আগামী ৭ জুন এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

​সিপিজের এশিয়া-প্যাসিফিক প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর কুনাল মজুমদার এই গ্রেপ্তার প্রক্রিয়ার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “কোনো বিতর্কিত রাজনৈতিক ঘটনার সংবাদ কভারের ক্ষেত্রে সম্পাদকীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া কোনোভাবেই মানবতাবিরোধী অপরাধ নয়। সাংবাদিকদের শাস্তি দিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনের কাঠামোর ব্যবহার বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক অধিকার বা সুরক্ষা পাশ কাটিয়ে যাওয়ার শামিল। এটি একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কনভেনশনেরও লঙ্ঘন।”

তিনি আরও বলেন, “সাংবাদিকদের নিশানা বানাতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা বন্ধ করা উচিত। বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের উচিত অবিলম্বে ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুকে মুক্তি দেওয়া।”

​মামলার প্রসিকিউটরদের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনার পর একাত্তর টিভির প্রতিবেদনে ফারজানা রুপা ‘বিতর্কিত ব্যক্তিদের’ বক্তব্য ব্যবহার করেন এবং ‘বিভ্রান্তিকর তথ্য’ ছড়ান, যা সেই সাঁড়াশি অভিযানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডগুলো থেকে মানুষের ‘নজর সরিয়ে’ দেয়। আর মোজাম্মেল বাবুর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি একাত্তর টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে ওই প্রতিবেদনের সম্প্রচার কার্যক্রম তদারকি করেন। প্রধান প্রসিকিউটর একে শাপলা চত্বরে নিহতের ‘প্রকৃত সংখ্যা গোপন করার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

প্রসিকিউশনের ভাষ্য, সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু শুরু থেকেই হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশকে 'উসকানিমূলক' আখ্যা দিয়ে একাত্তর টেলিভিশনের মাধ্যমে প্রচার করেন এবং গণমাধ্যমে প্রচারের মাধ্যমে শাপলা চত্বর অভিযান ঘিরে ‘ভিন্ন বয়ান’ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন।

​এ বিষয়ে সিপিজে তাদের বিবৃতিতে বলেছে, শাপলা চত্বরের অভিযানের সময় বা আগে-পরে একাত্তর টিভির সম্প্রচারগুলো সিপিজে স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। তবে ২০১৩ সালে ব্যাপকভাবে প্রচার হওয়া ফারজানা রুপার উপস্থাপনার একটি ইউটিউব তথ্যচিত্রে সিপিজে পর্যালোচনা করেছে। সেই তথ্যচিত্রে অভিযান পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে অনুসন্ধান চালানো হয়েছিল এবং হতাহতের সংখ্যা নিয়ে করা দাবিও চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল, যার মধ্যে এমন ব্যক্তিদেরও খুঁজে বের করা হয় যাদের নাম নিহতের তালিকায় থাকলেও পরবর্তীতে তাদের জীবিত পাওয়া যায়।

​অন্যদিকে সাংবাদিকদের গ্রেপ্তারের যৌক্তিকতা তুলে ধরে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “অপরাধ করার ক্ষেত্রে কে সাংবাদিক, কে আইনজীবী, কে ডাক্তার, কে কোন পেশার, সেটা দেখার কোনো সুযোগ নাই। আমরা অপরাধের বিচার করি। সুনির্দিষ্ট অপরাধ করলে যে কোনো পেশার মানুষকেই বিচারের আওতায় আনা হবে।”

তিনি দাবি করেন, শুধু ভুল সংবাদ পরিবেশনের জন্য নয়, বরং শাপলা চত্বরের ঘটনার পেছনের ‘মেকানিজম’ বা পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এই সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, সাংবাদিক বাবু ও রূপাকে প্রথমে ২০২৪ সালের জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। পরবর্তীতে গত ১১ মে হাইকোর্ট ফারজানা রূপাকে ছয়টি মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিলেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলাসহ অন্যান্য অভিযোগ বিচারাধীন থাকায় তিনি এখনো কারাগারেই রয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


একাত্তর টিভির সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপার মুক্তি চায় সিপিজে

প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬

featured Image

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার একাত্তর টেলিভিশনের দুই সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপার অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেছে আন্তর্জাতিক সংগঠন ‘কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস’ (সিপিজে)। ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে ‘হত্যাযজ্ঞ’ চালানোর অভিযোগে করা মামলায় গত বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং এর পরদিন শুক্রবার (১৫ মে) এক বিবৃতিতে এই দাবি জানায় সংগঠনটি।

শাপলা চত্বরের ঘটনায় গ্রেপ্তারের পর দুই সাংবাদিককে বর্তমানে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং এই মামলায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনিকেও গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল আগামী ৭ জুন এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

​সিপিজের এশিয়া-প্যাসিফিক প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর কুনাল মজুমদার এই গ্রেপ্তার প্রক্রিয়ার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “কোনো বিতর্কিত রাজনৈতিক ঘটনার সংবাদ কভারের ক্ষেত্রে সম্পাদকীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া কোনোভাবেই মানবতাবিরোধী অপরাধ নয়। সাংবাদিকদের শাস্তি দিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনের কাঠামোর ব্যবহার বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক অধিকার বা সুরক্ষা পাশ কাটিয়ে যাওয়ার শামিল। এটি একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কনভেনশনেরও লঙ্ঘন।”

তিনি আরও বলেন, “সাংবাদিকদের নিশানা বানাতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা বন্ধ করা উচিত। বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের উচিত অবিলম্বে ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুকে মুক্তি দেওয়া।”

​মামলার প্রসিকিউটরদের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনার পর একাত্তর টিভির প্রতিবেদনে ফারজানা রুপা ‘বিতর্কিত ব্যক্তিদের’ বক্তব্য ব্যবহার করেন এবং ‘বিভ্রান্তিকর তথ্য’ ছড়ান, যা সেই সাঁড়াশি অভিযানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডগুলো থেকে মানুষের ‘নজর সরিয়ে’ দেয়। আর মোজাম্মেল বাবুর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি একাত্তর টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে ওই প্রতিবেদনের সম্প্রচার কার্যক্রম তদারকি করেন। প্রধান প্রসিকিউটর একে শাপলা চত্বরে নিহতের ‘প্রকৃত সংখ্যা গোপন করার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

প্রসিকিউশনের ভাষ্য, সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু শুরু থেকেই হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশকে 'উসকানিমূলক' আখ্যা দিয়ে একাত্তর টেলিভিশনের মাধ্যমে প্রচার করেন এবং গণমাধ্যমে প্রচারের মাধ্যমে শাপলা চত্বর অভিযান ঘিরে ‘ভিন্ন বয়ান’ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন।

​এ বিষয়ে সিপিজে তাদের বিবৃতিতে বলেছে, শাপলা চত্বরের অভিযানের সময় বা আগে-পরে একাত্তর টিভির সম্প্রচারগুলো সিপিজে স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। তবে ২০১৩ সালে ব্যাপকভাবে প্রচার হওয়া ফারজানা রুপার উপস্থাপনার একটি ইউটিউব তথ্যচিত্রে সিপিজে পর্যালোচনা করেছে। সেই তথ্যচিত্রে অভিযান পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে অনুসন্ধান চালানো হয়েছিল এবং হতাহতের সংখ্যা নিয়ে করা দাবিও চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল, যার মধ্যে এমন ব্যক্তিদেরও খুঁজে বের করা হয় যাদের নাম নিহতের তালিকায় থাকলেও পরবর্তীতে তাদের জীবিত পাওয়া যায়।

​অন্যদিকে সাংবাদিকদের গ্রেপ্তারের যৌক্তিকতা তুলে ধরে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “অপরাধ করার ক্ষেত্রে কে সাংবাদিক, কে আইনজীবী, কে ডাক্তার, কে কোন পেশার, সেটা দেখার কোনো সুযোগ নাই। আমরা অপরাধের বিচার করি। সুনির্দিষ্ট অপরাধ করলে যে কোনো পেশার মানুষকেই বিচারের আওতায় আনা হবে।”

তিনি দাবি করেন, শুধু ভুল সংবাদ পরিবেশনের জন্য নয়, বরং শাপলা চত্বরের ঘটনার পেছনের ‘মেকানিজম’ বা পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এই সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, সাংবাদিক বাবু ও রূপাকে প্রথমে ২০২৪ সালের জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। পরবর্তীতে গত ১১ মে হাইকোর্ট ফারজানা রূপাকে ছয়টি মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিলেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলাসহ অন্যান্য অভিযোগ বিচারাধীন থাকায় তিনি এখনো কারাগারেই রয়েছেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত