মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান এখন বৈশ্বিক সমস্যা। বাংলাদেশ এর সমাধানে কঠোর আইন প্রণয়ন করেছে। আর সেই আইনের সঠিক প্রয়োগ ও জনসচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমকর্মীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—এমন প্রতিপাদ্য নিয়ে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হলো এক দিনব্যাপী সচেতনতামূলক কর্মশালা।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং ‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’-এর সহযোগিতায় ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন-২০২৬’ শীর্ষক এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ৪৮ সাংবাদিক এতে অংশ নেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে কেবল কঠোর আইনই যথেষ্ট নয়। জনসচেতনতা সৃষ্টিতে গণমাধ্যমকর্মীদের বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে হবে।’
সিনিয়র সচিব জানান, জাতিসংঘ কনভেনশনের (ইউএনটিওসি) আলোকে প্রণীত হয়েছে ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’। এ আইনে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার পাশাপাশি ভিকটিমদের সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিতকরণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে অনলাইন প্রতারণা, স্ক্যামিং ও মুক্তিপণ আদায়ের মতো আধুনিক অপরাধগুলোকে এ আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দীন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সচিব রেবেকা খান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
কর্মশালায় ‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি নতুন আইনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
২০১২ সালের আইনে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানকে সঠিকভাবে আলাদা করা যায়নি। নতুন আইনে এই দুটিকে পৃথক অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। প্রথমবারের মতো মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান সংক্রান্ত সব বিধান এ একটি আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
নতুন আইনে অপরাধের ধরন অনুযায়ী শাস্তির বিধানে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। পাচারকারীকে সম্পত্তি ব্যবহার করতে দিলে বা নথি গোপন করে সহায়তা করলে ৩ থেকে ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বনিম্ন ৩০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। যৌন শোষণের উদ্দেশ্যে কাউকে আমদানি বা স্থানান্তর করলে ৩ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকা জরিমানা। অনলাইনে চাকরির ভুয়া বিজ্ঞাপন বা অভিবাসনের নামে প্রতারণা করলে ৩ থেকে ৭ বছরের কারাদণ্ডের বিধান যুক্ত হয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা এখন পাচারকারীদের ব্যাংক হিসাব জব্দ ও আয়-সম্পদ যাচাইয়ে ২০১২ সালের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন। মানব পাচার ট্রাইব্যুনাল এখন পাচার সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অপরাধের (যেমন: আঘাত, মাদক পাচার বা যৌন সহিংসতা) বিচারও একই সঙ্গে করতে পারবে, যা আগে আলাদা আদালতে করতে হতো।
বিদেশে অবস্থিত সম্পদ জব্দ বা বাজেয়াপ্ত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা হয়েছে। নতুন আইনে ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের সুরক্ষায় বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। ভুক্তভোগী বা সাক্ষীকে হুমকি দিলে ৩ থেকে ৭ বছর এবং আপস করতে বাধ্য করলে ২ থেকে ৫ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
পাচারের শিকার থাকাকালীন ভুক্তভোগী যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো নির্দিষ্ট অবৈধ কাজ (যেমন: জাল পাসপোর্ট বহন বা অবৈধ অনুপ্রবেশ) করে ফেলে, তবে তাকে আসামি হিসেবে গণ্য না করার বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা ভুক্তভোগীদের অবস্থা পর্যবেক্ষণে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রতি ছয় মাস অন্তর প্রতিবেদন দাখিলের বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এই আইনের সঠিক প্রয়োগ এবং ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে অবৈধ পথে বিদেশ গমনের প্রবণতা কমবে এবং মানব পাচারকারী চক্রের মূলোৎপাটন সম্ভব হবে। গণমাধ্যমকর্মীদের সচেতনতা ও সঠিক তথ্য পরিবেশনের মাধ্যমেই এই আইনের সফলতা আরও বেগবান হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকরা নতুন আইনের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন এবং আইন বাস্তবায়নে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ মে ২০২৬
মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান এখন বৈশ্বিক সমস্যা। বাংলাদেশ এর সমাধানে কঠোর আইন প্রণয়ন করেছে। আর সেই আইনের সঠিক প্রয়োগ ও জনসচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমকর্মীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—এমন প্রতিপাদ্য নিয়ে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হলো এক দিনব্যাপী সচেতনতামূলক কর্মশালা।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং ‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’-এর সহযোগিতায় ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন-২০২৬’ শীর্ষক এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ৪৮ সাংবাদিক এতে অংশ নেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে কেবল কঠোর আইনই যথেষ্ট নয়। জনসচেতনতা সৃষ্টিতে গণমাধ্যমকর্মীদের বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে হবে।’
সিনিয়র সচিব জানান, জাতিসংঘ কনভেনশনের (ইউএনটিওসি) আলোকে প্রণীত হয়েছে ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’। এ আইনে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার পাশাপাশি ভিকটিমদের সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিতকরণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে অনলাইন প্রতারণা, স্ক্যামিং ও মুক্তিপণ আদায়ের মতো আধুনিক অপরাধগুলোকে এ আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দীন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সচিব রেবেকা খান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
কর্মশালায় ‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি নতুন আইনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
২০১২ সালের আইনে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানকে সঠিকভাবে আলাদা করা যায়নি। নতুন আইনে এই দুটিকে পৃথক অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। প্রথমবারের মতো মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান সংক্রান্ত সব বিধান এ একটি আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
নতুন আইনে অপরাধের ধরন অনুযায়ী শাস্তির বিধানে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। পাচারকারীকে সম্পত্তি ব্যবহার করতে দিলে বা নথি গোপন করে সহায়তা করলে ৩ থেকে ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বনিম্ন ৩০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। যৌন শোষণের উদ্দেশ্যে কাউকে আমদানি বা স্থানান্তর করলে ৩ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকা জরিমানা। অনলাইনে চাকরির ভুয়া বিজ্ঞাপন বা অভিবাসনের নামে প্রতারণা করলে ৩ থেকে ৭ বছরের কারাদণ্ডের বিধান যুক্ত হয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা এখন পাচারকারীদের ব্যাংক হিসাব জব্দ ও আয়-সম্পদ যাচাইয়ে ২০১২ সালের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন। মানব পাচার ট্রাইব্যুনাল এখন পাচার সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অপরাধের (যেমন: আঘাত, মাদক পাচার বা যৌন সহিংসতা) বিচারও একই সঙ্গে করতে পারবে, যা আগে আলাদা আদালতে করতে হতো।
বিদেশে অবস্থিত সম্পদ জব্দ বা বাজেয়াপ্ত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা হয়েছে। নতুন আইনে ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের সুরক্ষায় বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। ভুক্তভোগী বা সাক্ষীকে হুমকি দিলে ৩ থেকে ৭ বছর এবং আপস করতে বাধ্য করলে ২ থেকে ৫ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
পাচারের শিকার থাকাকালীন ভুক্তভোগী যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো নির্দিষ্ট অবৈধ কাজ (যেমন: জাল পাসপোর্ট বহন বা অবৈধ অনুপ্রবেশ) করে ফেলে, তবে তাকে আসামি হিসেবে গণ্য না করার বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা ভুক্তভোগীদের অবস্থা পর্যবেক্ষণে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রতি ছয় মাস অন্তর প্রতিবেদন দাখিলের বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এই আইনের সঠিক প্রয়োগ এবং ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে অবৈধ পথে বিদেশ গমনের প্রবণতা কমবে এবং মানব পাচারকারী চক্রের মূলোৎপাটন সম্ভব হবে। গণমাধ্যমকর্মীদের সচেতনতা ও সঠিক তথ্য পরিবেশনের মাধ্যমেই এই আইনের সফলতা আরও বেগবান হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকরা নতুন আইনের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন এবং আইন বাস্তবায়নে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

আপনার মতামত লিখুন