সংবাদ

হামে ১২ শিশুর প্রাণহানি, হাসপাতালে সংকট


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, রংপুর
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, রংপুর
প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬, ০২:৪০ পিএম

হামে ১২ শিশুর প্রাণহানি, হাসপাতালে সংকট
রংপুর মেডিকেলের আইসোলেশন ওয়ার্ডে বাড়ছে হামে আক্রান্ত শিশুর ভিড়। ছবি : সংবাদ

রংপুর অঞ্চলে হামের সংক্রমণ পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে। রোববার (১৭ মে) সকালে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মনি নামে ৯ মাস বয়সী এক শিশু মারা গেছে। শিশুটির বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলা শহরে। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ নিয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ১২ জন শিশুর মৃত্যু হলো। বর্তমানে হাসপাতালের দুটি আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৪২ জন শিশু ও কিশোর চিকিৎসাধীন।

রোববার হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, আক্রান্তদের মধ্যে পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলা থেকে আসা রোগীর সংখ্যাই বেশি। ওই দুই জেলায় সংক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। পঞ্চগড়ের আটোয়ারী থেকে আসা মোফাজ্জল হোসেন জানান, তার ১০ মাস বয়সী ছেলে আশফাক সাত দিন আগে পাতলা পায়খানায় আক্রান্ত হয়। স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তির পর চিকিৎসকেরা নিউমোনিয়া শনাক্ত করেন। তিন দিন পর শরীরে র‍্যাশ দেখা দিলে শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে। পরে তাকে রংপুর মেডিকেলে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তার অবস্থা কিছুটা উন্নতির দিকে। 

তবে ঠাকুরগাঁও থেকে আসা মমতাজ বেগমের আহাজারি থামছে না। তার ১ বছর বয়সী মেয়ে আসমা সুলতানার অবস্থা আশঙ্কাজনক। চিকিৎসকেরা তাকে আইসিইউতে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু হাসপাতালের ১০টি আইসিইউ শয্যার সবগুলোতেই রোগী থাকায় তার সন্তানকে সাপোর্ট দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, আইসোলেশন ওয়ার্ড দুটিতে শয্যা সংখ্যা মাত্র ২০টি। কিন্তু রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় একেকটি শয্যায় দুই থেকে তিন জন করে শিশুকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান জানান, এ পর্যন্ত ২৮২ জন হামে আক্রান্ত শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। বর্তমানে ৪২ জন চিকিৎসাধীন। তিনি পরামর্শ দেন, শিশুদের জ্বর বা নিউমোনিয়ার লক্ষণের পাশাপাশি শরীরে র‍্যাশ দেখা দিলে দ্রুত তাকে আলাদা স্থানে (হোম আইসোলেশন) রাখতে হবে। অন্যথায় পরিবারের অন্য সদস্যরাও আক্রান্ত হতে পারে। অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে।

পরিচালক আরও জানান, এবার শিশুদের পাশাপাশি কিশোর ও বয়স্করাও হামে আক্রান্ত হচ্ছেন। বর্তমানে এ ধরনের ছয়জন রোগী আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, গাইবান্ধা ও লালমনিরহাট জেলা থেকেই বেশি রোগী আসছে বলে তিনি জানান।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১৭ মে ২০২৬


হামে ১২ শিশুর প্রাণহানি, হাসপাতালে সংকট

প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬

featured Image

রংপুর অঞ্চলে হামের সংক্রমণ পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে। রোববার (১৭ মে) সকালে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মনি নামে ৯ মাস বয়সী এক শিশু মারা গেছে। শিশুটির বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলা শহরে। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ নিয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ১২ জন শিশুর মৃত্যু হলো। বর্তমানে হাসপাতালের দুটি আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৪২ জন শিশু ও কিশোর চিকিৎসাধীন।

রোববার হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, আক্রান্তদের মধ্যে পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলা থেকে আসা রোগীর সংখ্যাই বেশি। ওই দুই জেলায় সংক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। পঞ্চগড়ের আটোয়ারী থেকে আসা মোফাজ্জল হোসেন জানান, তার ১০ মাস বয়সী ছেলে আশফাক সাত দিন আগে পাতলা পায়খানায় আক্রান্ত হয়। স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তির পর চিকিৎসকেরা নিউমোনিয়া শনাক্ত করেন। তিন দিন পর শরীরে র‍্যাশ দেখা দিলে শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে। পরে তাকে রংপুর মেডিকেলে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তার অবস্থা কিছুটা উন্নতির দিকে। 

তবে ঠাকুরগাঁও থেকে আসা মমতাজ বেগমের আহাজারি থামছে না। তার ১ বছর বয়সী মেয়ে আসমা সুলতানার অবস্থা আশঙ্কাজনক। চিকিৎসকেরা তাকে আইসিইউতে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু হাসপাতালের ১০টি আইসিইউ শয্যার সবগুলোতেই রোগী থাকায় তার সন্তানকে সাপোর্ট দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, আইসোলেশন ওয়ার্ড দুটিতে শয্যা সংখ্যা মাত্র ২০টি। কিন্তু রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় একেকটি শয্যায় দুই থেকে তিন জন করে শিশুকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান জানান, এ পর্যন্ত ২৮২ জন হামে আক্রান্ত শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। বর্তমানে ৪২ জন চিকিৎসাধীন। তিনি পরামর্শ দেন, শিশুদের জ্বর বা নিউমোনিয়ার লক্ষণের পাশাপাশি শরীরে র‍্যাশ দেখা দিলে দ্রুত তাকে আলাদা স্থানে (হোম আইসোলেশন) রাখতে হবে। অন্যথায় পরিবারের অন্য সদস্যরাও আক্রান্ত হতে পারে। অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে।

পরিচালক আরও জানান, এবার শিশুদের পাশাপাশি কিশোর ও বয়স্করাও হামে আক্রান্ত হচ্ছেন। বর্তমানে এ ধরনের ছয়জন রোগী আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, গাইবান্ধা ও লালমনিরহাট জেলা থেকেই বেশি রোগী আসছে বলে তিনি জানান।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত