টাঙ্গাইলের মধুপুর গড়ের লাল মাটিতে চলতি মৌসুমে কাঁঠালের বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকেরা। পাহাড়ঘেরা এই জনপদের বাগান থেকে শুরু করে বাড়ির আঙিনা, সবখানেই এখন গাছে গাছে ঝুলছে রসালো এই জাতীয় ফল। অনেক বাগানে এরই মধ্যে আগাম জাতের কাঁঠাল পাকতে শুরু করেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার লাভের মুখ দেখবেন বলে আশা করছেন স্থানীয় চাষিরা।
মধুপুর উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় ১৭০ হেক্টর জমিতে কাঁঠালের চাষ হয়েছে। বার্ষিক উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ হাজার মেট্রিক টন, যার বাজারমূল্য প্রায় ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকা। গড়ের এই উর্বর লাল মাটিতে উৎপাদিত কাঁঠাল স্বাদে ও গুণে অনন্য হওয়ায় দেশজুড়ে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মধুপুরের অরণখোলা, পঁচিশ মাইল ও গারো বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় আনারস ও কলাবাগানের সারিতে সারিতে কাঁঠাল গাছ। কিছু দিনের মধ্যেই স্থানীয় বাজারগুলোতে পুরোদমে কাঁঠাল উঠতে শুরু করবে। তখন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকাররা ভিড় করবেন মধুপুরের বাজারে।
তবে চাষিদের মনে কিছু শঙ্কাও রয়েছে। স্থানীয় কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, এলাকায় প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই কাঁঠাল গাছ আছে। কিন্তু অন্য ফসলের তুলনায় দাম কিছুটা কম হওয়ায় অনেকে নতুন করে কাঁঠাল চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন। হাবিজুর রহমান নামে আরেক চাষি জানান, জমি ভাগাভাগি এবং ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের কারণে পুরোনো কাঁঠাল গাছ দিন দিন কমে যাচ্ছে। এ ছাড়া পোকার আক্রমণেও কিছু কাঁঠাল নষ্ট হচ্ছে বলে জানান চাষি তোফাজ্জল হোসেন।
কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, মধুপুরের কাঁঠাল নিরাপদ ও প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদন নিশ্চিত করতে চাষিদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে লাল মাটির গুণাগুণের কারণেই এখানকার কাঁঠাল বেশি মিষ্টি ও রসালো হয়।
মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রকিব আল রানা বলেন, "মধুপুরে দীর্ঘকাল ধরে কাঁঠাল চাষ হয়ে আসছে। এবার ফলন ভালো হয়েছে। যদি কাঁঠালকে কেন্দ্র করে এলাকায় প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প বা কোল্ড স্টোরেজ গড়ে তোলা যায়, তবে কৃষকেরা আরও ন্যায্য মূল্য পাবেন এবং কাঁঠাল চাষে আগ্রহ বাড়বে।"
উল্লেখ্য, কাঁঠাল কেবল পুষ্টিকর ফলই নয়, এর কাঠ আসবাবপত্রের জন্য সমাদৃত এবং পাতা গবাদিপশুর উন্নত খাদ্য। ঐতিহাসিকভাবেও মধুপুরের লাল মাটিতে দুধ-মুড়ি দিয়ে কাঁঠাল খাওয়ার পার্বণ এ অঞ্চলের লোকসংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

রোববার, ১৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬
টাঙ্গাইলের মধুপুর গড়ের লাল মাটিতে চলতি মৌসুমে কাঁঠালের বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকেরা। পাহাড়ঘেরা এই জনপদের বাগান থেকে শুরু করে বাড়ির আঙিনা, সবখানেই এখন গাছে গাছে ঝুলছে রসালো এই জাতীয় ফল। অনেক বাগানে এরই মধ্যে আগাম জাতের কাঁঠাল পাকতে শুরু করেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার লাভের মুখ দেখবেন বলে আশা করছেন স্থানীয় চাষিরা।
মধুপুর উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় ১৭০ হেক্টর জমিতে কাঁঠালের চাষ হয়েছে। বার্ষিক উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ হাজার মেট্রিক টন, যার বাজারমূল্য প্রায় ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকা। গড়ের এই উর্বর লাল মাটিতে উৎপাদিত কাঁঠাল স্বাদে ও গুণে অনন্য হওয়ায় দেশজুড়ে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মধুপুরের অরণখোলা, পঁচিশ মাইল ও গারো বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় আনারস ও কলাবাগানের সারিতে সারিতে কাঁঠাল গাছ। কিছু দিনের মধ্যেই স্থানীয় বাজারগুলোতে পুরোদমে কাঁঠাল উঠতে শুরু করবে। তখন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকাররা ভিড় করবেন মধুপুরের বাজারে।
তবে চাষিদের মনে কিছু শঙ্কাও রয়েছে। স্থানীয় কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, এলাকায় প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই কাঁঠাল গাছ আছে। কিন্তু অন্য ফসলের তুলনায় দাম কিছুটা কম হওয়ায় অনেকে নতুন করে কাঁঠাল চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন। হাবিজুর রহমান নামে আরেক চাষি জানান, জমি ভাগাভাগি এবং ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের কারণে পুরোনো কাঁঠাল গাছ দিন দিন কমে যাচ্ছে। এ ছাড়া পোকার আক্রমণেও কিছু কাঁঠাল নষ্ট হচ্ছে বলে জানান চাষি তোফাজ্জল হোসেন।
কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, মধুপুরের কাঁঠাল নিরাপদ ও প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদন নিশ্চিত করতে চাষিদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে লাল মাটির গুণাগুণের কারণেই এখানকার কাঁঠাল বেশি মিষ্টি ও রসালো হয়।
মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রকিব আল রানা বলেন, "মধুপুরে দীর্ঘকাল ধরে কাঁঠাল চাষ হয়ে আসছে। এবার ফলন ভালো হয়েছে। যদি কাঁঠালকে কেন্দ্র করে এলাকায় প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প বা কোল্ড স্টোরেজ গড়ে তোলা যায়, তবে কৃষকেরা আরও ন্যায্য মূল্য পাবেন এবং কাঁঠাল চাষে আগ্রহ বাড়বে।"
উল্লেখ্য, কাঁঠাল কেবল পুষ্টিকর ফলই নয়, এর কাঠ আসবাবপত্রের জন্য সমাদৃত এবং পাতা গবাদিপশুর উন্নত খাদ্য। ঐতিহাসিকভাবেও মধুপুরের লাল মাটিতে দুধ-মুড়ি দিয়ে কাঁঠাল খাওয়ার পার্বণ এ অঞ্চলের লোকসংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

আপনার মতামত লিখুন