সংবাদ

চাকরির পেছনে না ছুটে আঙুর চাষে তিন বন্ধুর বাজিমাত


প্রতিনিধি, ঝিনাইদহ
প্রতিনিধি, ঝিনাইদহ
প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬, ০৪:৫০ পিএম

চাকরির পেছনে না ছুটে আঙুর চাষে তিন বন্ধুর বাজিমাত
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নগরবাথান গ্রামে দুই বিঘা জমিতে বিদেশি জাতের আঙুর চাষ করে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন তিন তরুণ উদ্যোক্তা। ছবি : সংবাদ

পড়াশোনা শেষ করে বিসিএস বা গতানুগতিক চাকরির পেছনে ছোটেননি তারা। বরং নিজের পায়ে দাঁড়াতে বেছে নিয়েছেন কৃষিকে। আর তাতেই বাজিমাত করেছেন ঝিনাইদহের তিন তরুণ উদ্যোক্তা। মাত্র ১১ মাসের ব্যবধানে দুই বিঘা জমিতে বিদেশি জাতের আঙুরের বাম্পার ফলন ঘটিয়ে এলাকায় রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন আল আমিন, ফিরোজ আহমেদ তানিম ও আনাস।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কুমড়াবাড়িয়া ইউনিয়নের নগরবাথান গ্রামে এই আঙুর বাগানটি এখন অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার উৎস। মাস্টার্স শেষ করা আল আমিনের সঙ্গে যোগ দেন তার দুই বন্ধু তানিম ও আনাস। ১১ মাস আগে এই তিন বন্ধু মিলে দুই বিঘা জমি লিজ নিয়ে শুরু করেন আঙুর চাষ। তাদের বাগানে এখন বাইকুনুর, ভ্যালেজ, মার্সেল ফোর্স, ব্ল্যাক ম্যাজিক ও একুলোসহ বিভিন্ন উচ্চফলনশীল বিদেশি জাতের মোট ৪০৮টি আঙুর গাছ রয়েছে।

সরেজমিনে বাগানে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি গাছের ডালে থোকায় থোকায় ঝুলছে বড় সাইজের আঙুর। কোনো কোনো জায়গায় পাতার চেয়ে ফলের পরিমাণই বেশি। আঙুরের ভারে নুয়ে পড়ছে মাচা। বাংলাদেশের মাটিতে বিদেশি জাতের আঙুরের এমন ফলন দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করছেন।

উদ্যোক্তারা জানান, দুই বিঘা জমিতে বাগান তৈরিতে তাদের এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫ লাখ টাকা। প্রথম বছরেই ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার ফল বিক্রির আশা করছেন তারা। আল আমিন বলেন, ‘আমি মাস্টার্স শেষ করে চাকরির স্বাধীনতা নিয়ে শঙ্কিত ছিলাম। তাই তিন বন্ধু মিলে স্থায়ী কিছু করার পরিকল্পনা করি। এই গাছ ২০ থেকে ৩০ বছর ফল দেবে। নিজেদের পরিশ্রমে আজ আমরা সফল হতে পেরেছি।’

আরেক উদ্যোক্তা তানিম জানান, ইন্টারনেটে ভিডিও দেখে তারা বাগানের পরিচর্যা শিখেছেন। ফলের পাশাপাশি তারা এখন চারাও বিক্রি করছেন। শুরুতে স্থানীয়রা বিষয়টি নিয়ে হাসাহাসি করলেও এখন সাফল্য দেখে অনেকেই আঙুর চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নূর এ নবী বলেন, ‘দেশীয় আবহাওয়ায় এই আঙুরগুলো অত্যন্ত মিষ্টি এবং ফলনও হয়েছে বাম্পার। শিক্ষিত তরুণরা এভাবে আধুনিক কৃষিতে যুক্ত হলে আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। কৃষি বিভাগ তাদের সব ধরনের কারিগরি পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১৭ মে ২০২৬


চাকরির পেছনে না ছুটে আঙুর চাষে তিন বন্ধুর বাজিমাত

প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬

featured Image

পড়াশোনা শেষ করে বিসিএস বা গতানুগতিক চাকরির পেছনে ছোটেননি তারা। বরং নিজের পায়ে দাঁড়াতে বেছে নিয়েছেন কৃষিকে। আর তাতেই বাজিমাত করেছেন ঝিনাইদহের তিন তরুণ উদ্যোক্তা। মাত্র ১১ মাসের ব্যবধানে দুই বিঘা জমিতে বিদেশি জাতের আঙুরের বাম্পার ফলন ঘটিয়ে এলাকায় রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন আল আমিন, ফিরোজ আহমেদ তানিম ও আনাস।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কুমড়াবাড়িয়া ইউনিয়নের নগরবাথান গ্রামে এই আঙুর বাগানটি এখন অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার উৎস। মাস্টার্স শেষ করা আল আমিনের সঙ্গে যোগ দেন তার দুই বন্ধু তানিম ও আনাস। ১১ মাস আগে এই তিন বন্ধু মিলে দুই বিঘা জমি লিজ নিয়ে শুরু করেন আঙুর চাষ। তাদের বাগানে এখন বাইকুনুর, ভ্যালেজ, মার্সেল ফোর্স, ব্ল্যাক ম্যাজিক ও একুলোসহ বিভিন্ন উচ্চফলনশীল বিদেশি জাতের মোট ৪০৮টি আঙুর গাছ রয়েছে।

সরেজমিনে বাগানে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি গাছের ডালে থোকায় থোকায় ঝুলছে বড় সাইজের আঙুর। কোনো কোনো জায়গায় পাতার চেয়ে ফলের পরিমাণই বেশি। আঙুরের ভারে নুয়ে পড়ছে মাচা। বাংলাদেশের মাটিতে বিদেশি জাতের আঙুরের এমন ফলন দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করছেন।

উদ্যোক্তারা জানান, দুই বিঘা জমিতে বাগান তৈরিতে তাদের এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫ লাখ টাকা। প্রথম বছরেই ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার ফল বিক্রির আশা করছেন তারা। আল আমিন বলেন, ‘আমি মাস্টার্স শেষ করে চাকরির স্বাধীনতা নিয়ে শঙ্কিত ছিলাম। তাই তিন বন্ধু মিলে স্থায়ী কিছু করার পরিকল্পনা করি। এই গাছ ২০ থেকে ৩০ বছর ফল দেবে। নিজেদের পরিশ্রমে আজ আমরা সফল হতে পেরেছি।’

আরেক উদ্যোক্তা তানিম জানান, ইন্টারনেটে ভিডিও দেখে তারা বাগানের পরিচর্যা শিখেছেন। ফলের পাশাপাশি তারা এখন চারাও বিক্রি করছেন। শুরুতে স্থানীয়রা বিষয়টি নিয়ে হাসাহাসি করলেও এখন সাফল্য দেখে অনেকেই আঙুর চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নূর এ নবী বলেন, ‘দেশীয় আবহাওয়ায় এই আঙুরগুলো অত্যন্ত মিষ্টি এবং ফলনও হয়েছে বাম্পার। শিক্ষিত তরুণরা এভাবে আধুনিক কৃষিতে যুক্ত হলে আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। কৃষি বিভাগ তাদের সব ধরনের কারিগরি পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত