টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার কোকডহরা ইউনিয়নের সাভার কবরস্থান সংলগ্ন খালের ওপর একটি সেতুর নির্মাণকাজ মাঝপথে বন্ধ হয়ে গেছে। এতে সাভার গ্রামসহ আশপাশের কয়েক হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ও ঠিকাদারের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণেই সেতুর কাজ এগোচ্ছে না।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে ২০১৯-২০ অর্থবছরে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু নিচের কিছু অংশের কাজ শেষ করে তৎকালীন ঠিকাদার উধাও হয়ে গেলে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরে ওই দরপত্র বাতিল করে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় নতুন করে ৩৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। ১৫ মিটার দীর্ঘ এই সেতুর কাজ পায় ‘বুলবুল এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কার্যাদেশ অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৯ এপ্রিল কাজ শুরু হয়ে ২০২৫ সালের ৩১ মে শেষ হওয়ার কথা। তবে ৫০ শতাংশ কাজ শেষ করার পর বর্তমানে নির্মাণকাজ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুটি নির্মিত না হওয়ায় যাতায়াতের সুবিধার্থে এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করেছেন। প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীসহ কয়েক হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করছেন। বর্ষা মৌসুমে নৌকা ছাড়া যাতায়াতের বিকল্প কোনো পথ থাকে না।
কোকডহরা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইয়াকুব আলী বলেন, ‘আমাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন এই সেতু। ২০১৯ সালে একবার কাজ শুরু হয়ে বন্ধ হলো, ২০২৪ সালে আবার শুরু হয়েও থেমে আছে। খালের ওপারে আমাদের ৯০ শতাংশ কৃষিজমি এবং একটি কবরস্থান রয়েছে। কেউ মারা গেলে বর্ষায় লাশ নেওয়ার জন্য নৌকা বা লঞ্চ ছাড়া পথ থাকে না। সেতুটি হলে কোকডহরা, বানিয়ারা, কাগুজিপাড়া, কোনাবাড়ী ও হাসড়া গ্রামের মানুষের যাতায়াত সহজ হতো।’
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বুলবুল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘সামনের সপ্তাহেই আবার কাজ শুরু করা হবে।’ কোকডহরা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল বাছতে বলেন, ‘পিআইও আর ঠিকাদারের মধ্যে কী ঝামেলা, তা আমরা জানতে চাই না। আমরা চাই দ্রুত সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ করা হোক।’
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আশরাফুজ্জামান কাজ বন্ধ থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘সব বিষয় বলতে পারছি না, তবে কিছুটা ঝামেলা আছে। দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য আমরা এবং অধিদপ্তর থেকে ঠিকাদারকে বারবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও (ইউএনও) তাকে তাগিদ দিয়েছেন।’
এলাকাবাসীর দাবি, বর্ষা আসার আগেই যেন সেতুর কাজ শেষ করা হয়। নতুবা পানির তোড়ে অসমাপ্ত কাজ আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং মানুষের দুর্ভোগ দীর্ঘস্থায়ী হবে।

রোববার, ১৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬
টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার কোকডহরা ইউনিয়নের সাভার কবরস্থান সংলগ্ন খালের ওপর একটি সেতুর নির্মাণকাজ মাঝপথে বন্ধ হয়ে গেছে। এতে সাভার গ্রামসহ আশপাশের কয়েক হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ও ঠিকাদারের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণেই সেতুর কাজ এগোচ্ছে না।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে ২০১৯-২০ অর্থবছরে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু নিচের কিছু অংশের কাজ শেষ করে তৎকালীন ঠিকাদার উধাও হয়ে গেলে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরে ওই দরপত্র বাতিল করে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় নতুন করে ৩৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। ১৫ মিটার দীর্ঘ এই সেতুর কাজ পায় ‘বুলবুল এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কার্যাদেশ অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৯ এপ্রিল কাজ শুরু হয়ে ২০২৫ সালের ৩১ মে শেষ হওয়ার কথা। তবে ৫০ শতাংশ কাজ শেষ করার পর বর্তমানে নির্মাণকাজ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুটি নির্মিত না হওয়ায় যাতায়াতের সুবিধার্থে এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করেছেন। প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীসহ কয়েক হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করছেন। বর্ষা মৌসুমে নৌকা ছাড়া যাতায়াতের বিকল্প কোনো পথ থাকে না।
কোকডহরা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইয়াকুব আলী বলেন, ‘আমাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন এই সেতু। ২০১৯ সালে একবার কাজ শুরু হয়ে বন্ধ হলো, ২০২৪ সালে আবার শুরু হয়েও থেমে আছে। খালের ওপারে আমাদের ৯০ শতাংশ কৃষিজমি এবং একটি কবরস্থান রয়েছে। কেউ মারা গেলে বর্ষায় লাশ নেওয়ার জন্য নৌকা বা লঞ্চ ছাড়া পথ থাকে না। সেতুটি হলে কোকডহরা, বানিয়ারা, কাগুজিপাড়া, কোনাবাড়ী ও হাসড়া গ্রামের মানুষের যাতায়াত সহজ হতো।’
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বুলবুল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘সামনের সপ্তাহেই আবার কাজ শুরু করা হবে।’ কোকডহরা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল বাছতে বলেন, ‘পিআইও আর ঠিকাদারের মধ্যে কী ঝামেলা, তা আমরা জানতে চাই না। আমরা চাই দ্রুত সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ করা হোক।’
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আশরাফুজ্জামান কাজ বন্ধ থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘সব বিষয় বলতে পারছি না, তবে কিছুটা ঝামেলা আছে। দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য আমরা এবং অধিদপ্তর থেকে ঠিকাদারকে বারবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও (ইউএনও) তাকে তাগিদ দিয়েছেন।’
এলাকাবাসীর দাবি, বর্ষা আসার আগেই যেন সেতুর কাজ শেষ করা হয়। নতুবা পানির তোড়ে অসমাপ্ত কাজ আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং মানুষের দুর্ভোগ দীর্ঘস্থায়ী হবে।

আপনার মতামত লিখুন