দীর্ঘদিন ধরে সুনামগঞ্জ জেলা যুবদলের নতুন কমিটি না হওয়ায় নেতাকর্মীদের মাঝে হতাশা দেখা দিয়েছে। কেন্দ্র থেকে নতুন কমিটি গঠনের আভাস পাওয়ায় নেতাকর্মীরা ও নড়ে চড়ে বসছেন। সুনামগঞ্জ জেলা যুবদলের নতুন নেতৃত্ব পেতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে দৌড়ঝাঁপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কেউ কেউ কেন্দ্রেও যোগাযোগ করছেন। আবার জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গেও সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন।
কেন্দ্র থেকে বিগত ২০১৭ সালে সুনামগঞ্জ জেলা যুবদলের কমিটি ভেঙ্গে সাবেক ছাত্র নেতা আবুল মনসুর শওকতকে সভাপতি ও অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ কয়েছকে সাধারণ সম্পাদক করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করে দেয়া হয়। সেই পাঁচ নেতাকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। পরে নেতারা ২০১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করেন।
তবে ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির আত্মপ্রকাশ ঘটলে সদস্য হন যুবদলের সভাপতি আবুল মনসুর শওকত। তিনি মূল দলে সংযুক্ত হওয়ায় সিনিয়র সহ-সভাপতি আমিনুর রশিদ আমিনকে কেন্দ্র থেকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয়। বর্তমান কমিটির কেউ মূল দলে কেউ প্রবাসে আবার কেউ কেউ নিষ্ক্রিয় হয়ে আছেন।
কেন্দ্র থেকে নতুন কমিটি গঠনের আভাস পেয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে চাঙাভাব বিরাজ করছে। সম্ভাব্য নেতৃত্ব প্রত্যাশীরা জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের ও স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। সম্ভাব্য পদ-প্রত্যাশীরা কেন্দ্রেও লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন।
বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আমিনুর রশিদ আমিন বলেন, “কেন্দ্রীয় যুবদলের নেতৃবৃন্দ ঈদের পর সুনামগঞ্জ সফর করবেন। তারা যেভাবে বলবেন সেভাবেই দায়িত্ব পালন করতে প্রস্তুত আছি। আমি ছাত্রদল থেকেই লড়াই সংগ্রাম করে আসছি।”
অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ কয়েছ বলেন, “দলের আন্দোলন সংগ্রামে ছিলাম আছি। দল নতুন নেতৃত্ব দিলে পালন করতে প্রস্তুত।”
কামরুল হাসান রাজু বলেন, “দলের দুর্দিনে বর্তমান সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুলের নেতৃত্বে ছাত্রদল থেকেই আন্দোলন সংগ্রাম করে জেল জুলুমের শিকার হয়েছি। দল যে কোনো দায়িত্ব দিলে পালন করতে প্রস্তুত আছি।”
সুনামগঞ্জ জেলা যুবদলের নতুন নেতৃত্ব পেতে ইতোমধ্যেই যারা আগ্রহী ও সরব হয়েছেন তারা হলেন, জেলা যুবদলের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রশিদ আমিন, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ কয়েছ, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান রাজু। তারা সভাপতি কিংবা আহ্বায়ক পদের জন্য বিভিন্নভাবে তৎপরতা চালাচ্ছেন।
সাধারণ সম্পাদক বা সদস্য সচিব হিসেবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন তোফাজ্জল হোসেন, নুরুল আলম, শাহ ফরহাদ ও আজিজুর রহমান সৌরভ। আজিজুর রহমান সৌরভ বর্তমান পৌর যুবদলের আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি সাবেক পৌর ছাত্রদল সভাপতি, কলেজ ছাত্র দলের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সস্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
সৌরভ বলেন, “কেন্দ্র যদি পরিশ্রম আর ত্যাগকে মূল্যায়ন করে তাহলে আমি সাধারণ সম্পাদকের দাবিদার। কারণ আমি ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থেকে দলের জন্য অনেক ত্যাগ ও পরিশ্রম করে যাচ্ছি।এমনকি আন্দোলন সংগ্রামে সম্মুখ সারিতে ছিলাম। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে নানা ভাবে হয়রানির শিকার হয়েছি।”
তোফাজ্জল হোসেন বলেন, “আমি দলের জন্য ছাত্রজীবন থেকে কাজ করছি। নুরুল আলমও একই অভিমত ব্যক্ত করেছেন। শাহ ফরহাদ বলেন, “ছাত্রদল থেকেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থেকে দলের জন্য কাজ করেছি। এখনও করছি। দল যে কোনো দায়িত্ব দিলে পালন করতে প্রস্তুত আছি।”
জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক প্রত্যাশী সামরুল ইসলাম বলেন, “সিলেট জেলা ছাত্রদলের সহ অর্থ সম্পাদক ছিলাম। বর্তমানে জেলা যুবদলের সহ দপ্তর সম্পাদক হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। আশা করি দল আমাকে মূল্যায়ন করবে।” তিনি আরও বলেন, “যতটুকু জেনেছি ঈদের পর আগে কেন্দ্রীয় কমিটি পূর্ণাঙ্গ হবে পরে জেলা কমিটি গঠন হবে।”

শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ মে ২০২৬
দীর্ঘদিন ধরে সুনামগঞ্জ জেলা যুবদলের নতুন কমিটি না হওয়ায় নেতাকর্মীদের মাঝে হতাশা দেখা দিয়েছে। কেন্দ্র থেকে নতুন কমিটি গঠনের আভাস পাওয়ায় নেতাকর্মীরা ও নড়ে চড়ে বসছেন। সুনামগঞ্জ জেলা যুবদলের নতুন নেতৃত্ব পেতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে দৌড়ঝাঁপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কেউ কেউ কেন্দ্রেও যোগাযোগ করছেন। আবার জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গেও সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন।
কেন্দ্র থেকে বিগত ২০১৭ সালে সুনামগঞ্জ জেলা যুবদলের কমিটি ভেঙ্গে সাবেক ছাত্র নেতা আবুল মনসুর শওকতকে সভাপতি ও অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ কয়েছকে সাধারণ সম্পাদক করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করে দেয়া হয়। সেই পাঁচ নেতাকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। পরে নেতারা ২০১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করেন।
তবে ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির আত্মপ্রকাশ ঘটলে সদস্য হন যুবদলের সভাপতি আবুল মনসুর শওকত। তিনি মূল দলে সংযুক্ত হওয়ায় সিনিয়র সহ-সভাপতি আমিনুর রশিদ আমিনকে কেন্দ্র থেকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয়। বর্তমান কমিটির কেউ মূল দলে কেউ প্রবাসে আবার কেউ কেউ নিষ্ক্রিয় হয়ে আছেন।
কেন্দ্র থেকে নতুন কমিটি গঠনের আভাস পেয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে চাঙাভাব বিরাজ করছে। সম্ভাব্য নেতৃত্ব প্রত্যাশীরা জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের ও স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। সম্ভাব্য পদ-প্রত্যাশীরা কেন্দ্রেও লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন।
বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আমিনুর রশিদ আমিন বলেন, “কেন্দ্রীয় যুবদলের নেতৃবৃন্দ ঈদের পর সুনামগঞ্জ সফর করবেন। তারা যেভাবে বলবেন সেভাবেই দায়িত্ব পালন করতে প্রস্তুত আছি। আমি ছাত্রদল থেকেই লড়াই সংগ্রাম করে আসছি।”
অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ কয়েছ বলেন, “দলের আন্দোলন সংগ্রামে ছিলাম আছি। দল নতুন নেতৃত্ব দিলে পালন করতে প্রস্তুত।”
কামরুল হাসান রাজু বলেন, “দলের দুর্দিনে বর্তমান সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুলের নেতৃত্বে ছাত্রদল থেকেই আন্দোলন সংগ্রাম করে জেল জুলুমের শিকার হয়েছি। দল যে কোনো দায়িত্ব দিলে পালন করতে প্রস্তুত আছি।”
সুনামগঞ্জ জেলা যুবদলের নতুন নেতৃত্ব পেতে ইতোমধ্যেই যারা আগ্রহী ও সরব হয়েছেন তারা হলেন, জেলা যুবদলের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রশিদ আমিন, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ কয়েছ, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান রাজু। তারা সভাপতি কিংবা আহ্বায়ক পদের জন্য বিভিন্নভাবে তৎপরতা চালাচ্ছেন।
সাধারণ সম্পাদক বা সদস্য সচিব হিসেবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন তোফাজ্জল হোসেন, নুরুল আলম, শাহ ফরহাদ ও আজিজুর রহমান সৌরভ। আজিজুর রহমান সৌরভ বর্তমান পৌর যুবদলের আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি সাবেক পৌর ছাত্রদল সভাপতি, কলেজ ছাত্র দলের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সস্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
সৌরভ বলেন, “কেন্দ্র যদি পরিশ্রম আর ত্যাগকে মূল্যায়ন করে তাহলে আমি সাধারণ সম্পাদকের দাবিদার। কারণ আমি ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থেকে দলের জন্য অনেক ত্যাগ ও পরিশ্রম করে যাচ্ছি।এমনকি আন্দোলন সংগ্রামে সম্মুখ সারিতে ছিলাম। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে নানা ভাবে হয়রানির শিকার হয়েছি।”
তোফাজ্জল হোসেন বলেন, “আমি দলের জন্য ছাত্রজীবন থেকে কাজ করছি। নুরুল আলমও একই অভিমত ব্যক্ত করেছেন। শাহ ফরহাদ বলেন, “ছাত্রদল থেকেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থেকে দলের জন্য কাজ করেছি। এখনও করছি। দল যে কোনো দায়িত্ব দিলে পালন করতে প্রস্তুত আছি।”
জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক প্রত্যাশী সামরুল ইসলাম বলেন, “সিলেট জেলা ছাত্রদলের সহ অর্থ সম্পাদক ছিলাম। বর্তমানে জেলা যুবদলের সহ দপ্তর সম্পাদক হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। আশা করি দল আমাকে মূল্যায়ন করবে।” তিনি আরও বলেন, “যতটুকু জেনেছি ঈদের পর আগে কেন্দ্রীয় কমিটি পূর্ণাঙ্গ হবে পরে জেলা কমিটি গঠন হবে।”

আপনার মতামত লিখুন