সংবাদ

সুনামগঞ্জে চাহিদার চেয়ে বেশি পশু, জমছে হাট


লতিফুর রহমান রাজু, সুনামগঞ্জ
লতিফুর রহমান রাজু, সুনামগঞ্জ
প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬, ১০:১৪ পিএম

সুনামগঞ্জে চাহিদার চেয়ে বেশি পশু, জমছে হাট
চাহিদার চেয়ে ২ হাজার ৯০৭টি পশু বাড়তি সুনামগঞ্জে

পবিত্র ঈদুল আজহা যত ঘনিয়ে আসছে, সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন হাট ততই জমে উঠতে শুরু করেছে। আগে থেকেই হাটে বেচাকেনা চললেও তুলনামূলকভাবে কম ছিল। সাধারণত ক্রেতারা ঈদ ঘনিয়ে এলে গবাদিপশু কেনেন। অনেকেই আগে না কেনার কারণ হিসেবে বলছেন, আগে কিনলে লালন-পালন করা কষ্টকর হয়ে পড়ে। তবে সিলেটের জাউয়া ও বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা আগে থেকেই বিভিন্ন হাটে গবাদিপশু কিনে নিয়েছেন।

ক্রেতাদের অনেকের অভিযোগ, এবার হাটে প্রচুর পশু উঠলেও এখন পর্যন্ত ক্রেতা কম। দাম স্বাভাবিক রয়েছে। আরও কয়েকদিন গেলে বাজার বুঝতে পারবেন তারা।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৫০ হাজার ৪৯৪টি। অথচ প্রস্তুত রয়েছে ৫৩ হাজার ৪০১টি দেশি পশু। ফলে চাহিদা মিটিয়েও জেলায় উদ্বৃত্ত থাকবে প্রায় ২ হাজার ৯০৭টি পশু, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৪০০ কোটি টাকারও বেশি।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তুতকৃত পশুর মধ্যে ২১ হাজার ১৭৬টি ষাঁড়, ১১ হাজার ৮৯৭টি বলদ, ৬ হাজার ৮৪১টি গাভী, ৪১৫টি মহিষ, ৭ হাজার ৯৬৩টি ছাগল ও ৪ হাজার ২২২টি ভেড়া রয়েছে।

উদ্বৃত্ত পশুর দিক থেকে জেলায় সবচেয়ে এগিয়ে ছাতক উপজেলা, সেখানে ৩ হাজার ৪১৭টি পশু উদ্বৃত্ত। এ ছাড়া সুনামগঞ্জ সদরে ২ হাজার ২১৯টি, দিরাইয়ে ৩৫৫টি, দোয়ারাবাজারে ২৭২টি, ধর্মপাশায় ১২৩টি, শাল্লায় ৮৫টি ও জগন্নাথপুরে ৮১টি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। অন্যদিকে জামালগঞ্জে ২ হাজার ৬৫৫টি, তাহিরপুরে ১ হাজার ১২৪টি ও শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ৯৮টি পশুর ঘাটতি রয়েছে। তবে পাশের উপজেলার উদ্বৃত্ত পশু দিয়ে এই ঘাটতি পূরণ সম্ভব বলে মনে করছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ।

খামারি ও বিক্রেতারা জানিয়েছেন, হাটে পর্যাপ্ত দেশি পশু থাকায় ও দাম ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে থাকায় বেচাকেনা ভালো হবে বলে আশা করছেন তারা। চোরাই পথে ভারতীয় গরুর অনুপ্রবেশ বন্ধে সীমান্ত এলাকায় কড়া নজরদারি থাকায় স্থানীয় খামারি ও কৃষকেরা এবার পশুর ন্যায্যমূল্য পাওয়ার আশা করছেন। বর্তমানে পশুর আকারভেদে মাঝারি ও বড় আকারের গরু সর্বনিম্ন ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা ও সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ছাগল বিক্রি হচ্ছে ৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা এবং ভেড়া ৪ থেকে ১৭ হাজার টাকায়।

প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানায়, জেলায় নিবন্ধিত খামারির সংখ্যা ৭৩৭টি। কোরবানি উপলক্ষে এবার জেলায় মোট ৬০টি পশুর হাট বসছে, যার মধ্যে স্থায়ী ২৬টি ও অস্থায়ী ৩৪টি। হাটে পশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ও জরুরি চিকিৎসায় ১৯টি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এ বছর জেলায় সুস্থ-সবল পর্যাপ্ত পশু প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কিছু এলাকায় পশুর খুরা রোগ দেখা দিলেও তা এখন নিয়ন্ত্রণে, শঙ্কার কারণ নেই। সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু আসার খবর পেলেই অভিযান চালিয়ে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

সুনামগঞ্জ ২৮ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল একেএম জাকারিয়া কাদির জানান, ঈদুল আজহা উপলক্ষে সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে, যাতে ভারতীয় গবাদিপশু অনুপ্রবেশ করতে না পারে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, ‘সীমান্ত দিয়ে যাতে কোনো গরু, মহিষ বা ছাগল ঢুকতে না পারে, সেজন্য সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এবার সুনামগঞ্জ জেলায় গবাদিপশুর কোনো অভাব নেই, বরং চাহিদার চেয়ে বেশি রয়েছে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ২৩ মে ২০২৬


সুনামগঞ্জে চাহিদার চেয়ে বেশি পশু, জমছে হাট

প্রকাশের তারিখ : ২২ মে ২০২৬

featured Image

পবিত্র ঈদুল আজহা যত ঘনিয়ে আসছে, সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন হাট ততই জমে উঠতে শুরু করেছে। আগে থেকেই হাটে বেচাকেনা চললেও তুলনামূলকভাবে কম ছিল। সাধারণত ক্রেতারা ঈদ ঘনিয়ে এলে গবাদিপশু কেনেন। অনেকেই আগে না কেনার কারণ হিসেবে বলছেন, আগে কিনলে লালন-পালন করা কষ্টকর হয়ে পড়ে। তবে সিলেটের জাউয়া ও বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা আগে থেকেই বিভিন্ন হাটে গবাদিপশু কিনে নিয়েছেন।

ক্রেতাদের অনেকের অভিযোগ, এবার হাটে প্রচুর পশু উঠলেও এখন পর্যন্ত ক্রেতা কম। দাম স্বাভাবিক রয়েছে। আরও কয়েকদিন গেলে বাজার বুঝতে পারবেন তারা।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৫০ হাজার ৪৯৪টি। অথচ প্রস্তুত রয়েছে ৫৩ হাজার ৪০১টি দেশি পশু। ফলে চাহিদা মিটিয়েও জেলায় উদ্বৃত্ত থাকবে প্রায় ২ হাজার ৯০৭টি পশু, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৪০০ কোটি টাকারও বেশি।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তুতকৃত পশুর মধ্যে ২১ হাজার ১৭৬টি ষাঁড়, ১১ হাজার ৮৯৭টি বলদ, ৬ হাজার ৮৪১টি গাভী, ৪১৫টি মহিষ, ৭ হাজার ৯৬৩টি ছাগল ও ৪ হাজার ২২২টি ভেড়া রয়েছে।

উদ্বৃত্ত পশুর দিক থেকে জেলায় সবচেয়ে এগিয়ে ছাতক উপজেলা, সেখানে ৩ হাজার ৪১৭টি পশু উদ্বৃত্ত। এ ছাড়া সুনামগঞ্জ সদরে ২ হাজার ২১৯টি, দিরাইয়ে ৩৫৫টি, দোয়ারাবাজারে ২৭২টি, ধর্মপাশায় ১২৩টি, শাল্লায় ৮৫টি ও জগন্নাথপুরে ৮১টি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। অন্যদিকে জামালগঞ্জে ২ হাজার ৬৫৫টি, তাহিরপুরে ১ হাজার ১২৪টি ও শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ৯৮টি পশুর ঘাটতি রয়েছে। তবে পাশের উপজেলার উদ্বৃত্ত পশু দিয়ে এই ঘাটতি পূরণ সম্ভব বলে মনে করছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ।

খামারি ও বিক্রেতারা জানিয়েছেন, হাটে পর্যাপ্ত দেশি পশু থাকায় ও দাম ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে থাকায় বেচাকেনা ভালো হবে বলে আশা করছেন তারা। চোরাই পথে ভারতীয় গরুর অনুপ্রবেশ বন্ধে সীমান্ত এলাকায় কড়া নজরদারি থাকায় স্থানীয় খামারি ও কৃষকেরা এবার পশুর ন্যায্যমূল্য পাওয়ার আশা করছেন। বর্তমানে পশুর আকারভেদে মাঝারি ও বড় আকারের গরু সর্বনিম্ন ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা ও সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ছাগল বিক্রি হচ্ছে ৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা এবং ভেড়া ৪ থেকে ১৭ হাজার টাকায়।

প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানায়, জেলায় নিবন্ধিত খামারির সংখ্যা ৭৩৭টি। কোরবানি উপলক্ষে এবার জেলায় মোট ৬০টি পশুর হাট বসছে, যার মধ্যে স্থায়ী ২৬টি ও অস্থায়ী ৩৪টি। হাটে পশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ও জরুরি চিকিৎসায় ১৯টি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এ বছর জেলায় সুস্থ-সবল পর্যাপ্ত পশু প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কিছু এলাকায় পশুর খুরা রোগ দেখা দিলেও তা এখন নিয়ন্ত্রণে, শঙ্কার কারণ নেই। সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু আসার খবর পেলেই অভিযান চালিয়ে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

সুনামগঞ্জ ২৮ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল একেএম জাকারিয়া কাদির জানান, ঈদুল আজহা উপলক্ষে সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে, যাতে ভারতীয় গবাদিপশু অনুপ্রবেশ করতে না পারে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, ‘সীমান্ত দিয়ে যাতে কোনো গরু, মহিষ বা ছাগল ঢুকতে না পারে, সেজন্য সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এবার সুনামগঞ্জ জেলায় গবাদিপশুর কোনো অভাব নেই, বরং চাহিদার চেয়ে বেশি রয়েছে।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত