সংবাদ

কলারোয়ায় আব্দুস সাত্তারের হাত ধরে কৃষি বিপ্লব


 প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা
প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা
প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬, ১১:৫৫ এএম

কলারোয়ায় আব্দুস সাত্তারের হাত ধরে কৃষি বিপ্লব
কৃষি সমাবেশে উদ্বুদ্ধ স্থানীয় কৃষকেরা। ছবিঃ সংবাদ

একসময়কার সাধারণ কৃষক আব্দুস সাত্তার সানা এখন সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার গ্রামীণ অর্থনীতির এক অনুকরণীয় রোল মডেল। নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের পাশাপাশি তিনি এখন নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাচ্ছেন এলাকার অন্য কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নে। কলারোয়ার যুগীখালী ইউনিয়নের কামারালী গ্রামের এই সফল কৃষকের উদ্যোগে এলাকায় শুরু হয়েছে নিয়মিত কৃষক সভা ও কৃষি সমাবেশ, যা স্থানীয় কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

জানা যায়, ২০০৯ সালে প্রথম কৃষিকাজে হাত দেন আব্দুস সাত্তার সানা। কঠোর পরিশ্রম ও মেধার জোরে তিনি এলাকায় গড়ে তোলেন সবজির মাঠ। সবজি চাষে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জনের পর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। একে একে গড়ে তোলেন মৎস্য ঘের এবং গরু-ছাগলের খামার। কৃষির উপার্জনেই তিনি মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন, ছেলেকে মুদি দোকান করে দিয়ে স্বাবলম্বী করেছেন। শুধু তাই নয়, উপার্জিত অর্থ দিয়ে নতুন কৃষি জমি ক্রয় ও বন্ধক রেখে বর্তমানে তিনি এলাকায় একজন স্বাবলম্বী ব্যক্তিত্ব হিসেবে সুপরিচিত।

নিজে স্বাবলম্বী হয়েই ক্ষান্ত হননি সাত্তার সানা। নিজের অর্জিত অভিজ্ঞতা কলারোয়ার সাধারণ কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে তিনি গঠন করেছেন ‘কৃষক প্রেমিক দল’। এই দলের ব্যানারে তিনি নিয়মিত আয়োজন করছেন কৃষি পরামর্শ সভা ও সমাবেশ। তার সঠিক পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা পেয়ে এলাকার সাধারণ কৃষকেরা উদ্বুদ্ধ হয়ে মাঠের পর মাঠ সবজি চাষ শুরু করেছেন। ফলে পুরো যুগীখালী ইউনিয়ন এখন কৃষিখাতে উর্বর অঞ্চলে পরিণত হয়েছে।

কৃষি বিপ্লবের পাশাপাশি সামাজিক ও স্বেচ্ছাশ্রমের কাজেও অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এই কৃষক। সম্প্রতি যুগীখালী ইউনিয়নের ওফাপুর মাঠপাড়া মাঝের খালের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে তিনি নিজস্ব উদ্যোগে ১,৬৮০ মিটার দৈর্ঘ্য, ২৫ ফুট প্রস্থ এবং ৮ ফুট গভীরতার একটি বিশাল খাল পুনর্খনন করেন। এতে করে এলাকার শত শত একর ফসলি জমি জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। বর্তমানে তিনি জলাধার ও খাল সংস্কার করে এলাকার চাষিদের পানির চাহিদাও মেটাচ্ছেন।

এছাড়া ৬ বিঘা মিশ্র মৎস্য ঘেরের পাড়ে পড়ে থাকা আইল বা অনাবাদী জমিতে শিমসহ বিভিন্ন সবজির ফসল ফলিয়ে এলাকাবাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। আর এ কাজে তাকে সার্বিক সহযোগিতা করে আসছে টেকসই কৃষি ও পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে বেসরকারি সংস্থা উত্তরণ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়া।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, আব্দুস সাত্তার সানার নিঃস্বার্থ পরামর্শ এবং খালের জলাবদ্ধতা দূর করার দূরদর্শী পদক্ষেপের কারণে তারা এখন নির্বিঘ্নে ফসল ফলাতে পারছেন। সরকারি সহযোগিতা ছাড়াই একজন ব্যক্তি কীভাবে পুরো এলাকার কৃষির চিত্র বদলে দিতে পারেন, সাত্তার সানা তার বাস্তব প্রমাণ। এলাকার কৃষকেরা এখন তাকে একজন ‘কৃষক বন্ধু’ হিসেবেই দেখছেন।

সাতক্ষীরা খামারবাড়ির উপপরিচালক কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “আমরা কৃষি ও কৃষকদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি। সরকারের পাশাপাশি সহায়ক হিসেবে বেসরকারি সংস্থাও কৃষি নিয়ে কাজ করছে। আমি মনে করি, কৃষক আব্দুস সাত্তার সানার মতো উদ্যোক্তাদের হাত ধরেই সাতক্ষীরার কৃষি আরও এগিয়ে যাবে।”

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ২৩ মে ২০২৬


কলারোয়ায় আব্দুস সাত্তারের হাত ধরে কৃষি বিপ্লব

প্রকাশের তারিখ : ২৩ মে ২০২৬

featured Image

একসময়কার সাধারণ কৃষক আব্দুস সাত্তার সানা এখন সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার গ্রামীণ অর্থনীতির এক অনুকরণীয় রোল মডেল। নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের পাশাপাশি তিনি এখন নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাচ্ছেন এলাকার অন্য কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নে। কলারোয়ার যুগীখালী ইউনিয়নের কামারালী গ্রামের এই সফল কৃষকের উদ্যোগে এলাকায় শুরু হয়েছে নিয়মিত কৃষক সভা ও কৃষি সমাবেশ, যা স্থানীয় কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

জানা যায়, ২০০৯ সালে প্রথম কৃষিকাজে হাত দেন আব্দুস সাত্তার সানা। কঠোর পরিশ্রম ও মেধার জোরে তিনি এলাকায় গড়ে তোলেন সবজির মাঠ। সবজি চাষে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জনের পর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। একে একে গড়ে তোলেন মৎস্য ঘের এবং গরু-ছাগলের খামার। কৃষির উপার্জনেই তিনি মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন, ছেলেকে মুদি দোকান করে দিয়ে স্বাবলম্বী করেছেন। শুধু তাই নয়, উপার্জিত অর্থ দিয়ে নতুন কৃষি জমি ক্রয় ও বন্ধক রেখে বর্তমানে তিনি এলাকায় একজন স্বাবলম্বী ব্যক্তিত্ব হিসেবে সুপরিচিত।

নিজে স্বাবলম্বী হয়েই ক্ষান্ত হননি সাত্তার সানা। নিজের অর্জিত অভিজ্ঞতা কলারোয়ার সাধারণ কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে তিনি গঠন করেছেন ‘কৃষক প্রেমিক দল’। এই দলের ব্যানারে তিনি নিয়মিত আয়োজন করছেন কৃষি পরামর্শ সভা ও সমাবেশ। তার সঠিক পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা পেয়ে এলাকার সাধারণ কৃষকেরা উদ্বুদ্ধ হয়ে মাঠের পর মাঠ সবজি চাষ শুরু করেছেন। ফলে পুরো যুগীখালী ইউনিয়ন এখন কৃষিখাতে উর্বর অঞ্চলে পরিণত হয়েছে।

কৃষি বিপ্লবের পাশাপাশি সামাজিক ও স্বেচ্ছাশ্রমের কাজেও অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এই কৃষক। সম্প্রতি যুগীখালী ইউনিয়নের ওফাপুর মাঠপাড়া মাঝের খালের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে তিনি নিজস্ব উদ্যোগে ১,৬৮০ মিটার দৈর্ঘ্য, ২৫ ফুট প্রস্থ এবং ৮ ফুট গভীরতার একটি বিশাল খাল পুনর্খনন করেন। এতে করে এলাকার শত শত একর ফসলি জমি জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। বর্তমানে তিনি জলাধার ও খাল সংস্কার করে এলাকার চাষিদের পানির চাহিদাও মেটাচ্ছেন।

এছাড়া ৬ বিঘা মিশ্র মৎস্য ঘেরের পাড়ে পড়ে থাকা আইল বা অনাবাদী জমিতে শিমসহ বিভিন্ন সবজির ফসল ফলিয়ে এলাকাবাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। আর এ কাজে তাকে সার্বিক সহযোগিতা করে আসছে টেকসই কৃষি ও পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে বেসরকারি সংস্থা উত্তরণ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়া।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, আব্দুস সাত্তার সানার নিঃস্বার্থ পরামর্শ এবং খালের জলাবদ্ধতা দূর করার দূরদর্শী পদক্ষেপের কারণে তারা এখন নির্বিঘ্নে ফসল ফলাতে পারছেন। সরকারি সহযোগিতা ছাড়াই একজন ব্যক্তি কীভাবে পুরো এলাকার কৃষির চিত্র বদলে দিতে পারেন, সাত্তার সানা তার বাস্তব প্রমাণ। এলাকার কৃষকেরা এখন তাকে একজন ‘কৃষক বন্ধু’ হিসেবেই দেখছেন।

সাতক্ষীরা খামারবাড়ির উপপরিচালক কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “আমরা কৃষি ও কৃষকদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি। সরকারের পাশাপাশি সহায়ক হিসেবে বেসরকারি সংস্থাও কৃষি নিয়ে কাজ করছে। আমি মনে করি, কৃষক আব্দুস সাত্তার সানার মতো উদ্যোক্তাদের হাত ধরেই সাতক্ষীরার কৃষি আরও এগিয়ে যাবে।”


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত