সংবাদ

প্রবাসীর স্ত্রীর যত্নে বেড়ে উঠেছে মনা, দাম হাঁকছেন ১০ লাখ


প্রতিনিধি, ঝিনাইদহ
প্রতিনিধি, ঝিনাইদহ
প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬, ১২:৪৫ পিএম

প্রবাসীর স্ত্রীর যত্নে বেড়ে উঠেছে মনা, দাম হাঁকছেন ১০ লাখ
জলির যত্নে বেড়ে ওঠা ৩০ মণের ষাঁড়। ছবিঃ সংবাদ

বিয়ে হয়েছে কয়েক বছর আগে। তবে এখনও সন্তানসুখ মেলেনি। স্বামী সাজ্জাদ গাজী জীবিকার তাগিদে পাড়ি জমিয়েছেন দুবাইয়ে। নিঃসন্তান জীবনের শূন্যতা ভুলতে প্রবাসীর স্ত্রী জলি খাতুন নিজের মাতৃত্বের সবটুকু স্নেহ উজাড় করে দিয়েছেন একটি ষাঁড়ের পেছনে।

সন্তানের মতো লালন-পালন করে তিনি গড়ে তুলেছেন ১২০০ কেজি প্রায় (৩০ মণ) ওজনের বিশালাকার এক ষাঁড়। নাম রেখেছেন ‘মনা’। এবারের কোরবানির ঈদ সামনে রেখে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের সোন্দা গ্রামের এই গৃহবধূ ষাঁড়টি বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেছেন।

জানা গেছে, সাড়ে তিন বছর আগে শাশুড়ির কাছ থেকে একটি বাছুর উপহার পান জলি খাতুন। নিজের সন্তান না থাকায় বাছুরটিকেই সন্তানের মতো স্নেহে বড় করতে থাকেন তিনি। প্রবাসী স্বামীর অনুপস্থিতিতে ঘরের কাজের পাশাপাশি দিনের বড় একটি সময় কাটে মনার পরিচর্যায়।

মনার আরামের জন্য তার থাকার জায়গায় ২৪ ঘণ্টা ফ্যানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে জলি নিজেই হাতপাখা দিয়ে বাতাস করেন। প্রচণ্ড গরমে সুস্থ রাখতে প্রতিদিন তিন থেকে চারবার গোসল করানো হয় ষাঁড়টিকে। শান্ত স্বভাবের মনার সঙ্গে জলির গড়ে উঠেছে আত্মিক বন্ধন। বিশাল আকৃতির এই ষাঁড়ের খবর ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করছেন তাদের বাড়িতে।

জলি খাতুন বলেন, কোনো কৃত্রিম উপায় বা ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার না করে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে মনাকে বড় করা হয়েছে। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রয়েছে কাঁচা নেপিয়ার ঘাস, ছোলা, ভুট্টা, গম, খেসারির ভুসি ও চিটাগুড়। বর্তমানে প্রতিদিন খাবারের পেছনে খরচ হচ্ছে প্রায় ১,৫০০ টাকা।

তিনি জানান, মনার দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ দশমিক ৪ ফুট এবং উচ্চতা ৫ দশমিক ১ ফুট। কোনো হাটে না নিয়ে বাড়ি থেকেই ষাঁড়টি বিক্রি করতে চান তিনি। সন্তানের মতো লালন করা এই ষাঁড়ের দাম তিনি আশা করছেন ১০ লাখ টাকা।

সোন্দা গ্রামের বাসিন্দা আমির হোসেন বলেন, জীবনে এত বড় গরু তিনি আগে দেখেননি। ইন্টারনেটে বড় গরুর ছবি বা ভিডিও দেখলেও বাস্তবে এত বড় গরু এই প্রথম দেখলেন। তিনি বলেন, জলি অনেক কষ্ট ও যত্নে গরুটি লালন করেছেন। গ্রামের মানুষ চান, এবার ভালো দামে বিক্রি হোক ‘মনা’।

আরেক বাসিন্দা রহিমা খাতুন বলেন, জলি অনেক কষ্ট করে গরুটি বড় করেছেন। কিন্তু বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য না থাকায় হাটে নিয়ে বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই ক্রেতারা যেন সরাসরি বাড়িতে এসে গরুটি কিনে নেন, সেটিই চান তারা।

ভাটই এলাকা থেকে ষাঁড়টি দেখতে আসা মনিরুল ইসলাম বলেন, লোকমুখে শুনে তিনি ‘মনা’ দেখতে এসেছেন। সাধারণত এত বড় গরু এলাকায় দেখা যায় না। একজন নারী একাই এত বড় একটি ষাঁড় গড়ে তুলেছেন, যা অন্য খামারিদের জন্য অনুপ্রেরণার।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহে এবার কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে ২ লাখ ৫২ হাজার ৩৯৭টি পশু। এর মধ্যে গরু ৯৩ হাজার ৫৭২টি, ছাগল ১ লাখ ৪৮ হাজার ২৩০টি, ভেড়া ৯ হাজার ২৬১টি এবং মহিষ ১ হাজার ৩৩৪টি। জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা ১ লাখ ৯৫ হাজার ৪২০টি। সে হিসেবে উদ্বৃত্ত রয়েছে ৫৬ হাজার ৯৭৭টি পশু।

ঝিনাইদহের জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এ এস এম আতিকুজ্জামান বলেন, কোরবানির ঈদ সামনে রেখে খামারিদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সীমান্তে বিজিবির কঠোর নজরদারির কারণে ভারত থেকে অবৈধভাবে গরু আসার সম্ভাবনা কম। ফলে স্থানীয় খামারিরা এবার ভালো দাম পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ক্ষতিকর ওষুধ ছাড়াই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে জলি খাতুন ষাঁড়টি বড় করেছেন, যা প্রশংসনীয়। আশা করা যায়, তিনি বাড়ি থেকেই মনার ন্যায্য মূল্য পাবেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ২৩ মে ২০২৬


প্রবাসীর স্ত্রীর যত্নে বেড়ে উঠেছে মনা, দাম হাঁকছেন ১০ লাখ

প্রকাশের তারিখ : ২৩ মে ২০২৬

featured Image

বিয়ে হয়েছে কয়েক বছর আগে। তবে এখনও সন্তানসুখ মেলেনি। স্বামী সাজ্জাদ গাজী জীবিকার তাগিদে পাড়ি জমিয়েছেন দুবাইয়ে। নিঃসন্তান জীবনের শূন্যতা ভুলতে প্রবাসীর স্ত্রী জলি খাতুন নিজের মাতৃত্বের সবটুকু স্নেহ উজাড় করে দিয়েছেন একটি ষাঁড়ের পেছনে।

সন্তানের মতো লালন-পালন করে তিনি গড়ে তুলেছেন ১২০০ কেজি প্রায় (৩০ মণ) ওজনের বিশালাকার এক ষাঁড়। নাম রেখেছেন ‘মনা’। এবারের কোরবানির ঈদ সামনে রেখে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের সোন্দা গ্রামের এই গৃহবধূ ষাঁড়টি বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেছেন।

জানা গেছে, সাড়ে তিন বছর আগে শাশুড়ির কাছ থেকে একটি বাছুর উপহার পান জলি খাতুন। নিজের সন্তান না থাকায় বাছুরটিকেই সন্তানের মতো স্নেহে বড় করতে থাকেন তিনি। প্রবাসী স্বামীর অনুপস্থিতিতে ঘরের কাজের পাশাপাশি দিনের বড় একটি সময় কাটে মনার পরিচর্যায়।

মনার আরামের জন্য তার থাকার জায়গায় ২৪ ঘণ্টা ফ্যানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে জলি নিজেই হাতপাখা দিয়ে বাতাস করেন। প্রচণ্ড গরমে সুস্থ রাখতে প্রতিদিন তিন থেকে চারবার গোসল করানো হয় ষাঁড়টিকে। শান্ত স্বভাবের মনার সঙ্গে জলির গড়ে উঠেছে আত্মিক বন্ধন। বিশাল আকৃতির এই ষাঁড়ের খবর ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করছেন তাদের বাড়িতে।

জলি খাতুন বলেন, কোনো কৃত্রিম উপায় বা ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার না করে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে মনাকে বড় করা হয়েছে। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রয়েছে কাঁচা নেপিয়ার ঘাস, ছোলা, ভুট্টা, গম, খেসারির ভুসি ও চিটাগুড়। বর্তমানে প্রতিদিন খাবারের পেছনে খরচ হচ্ছে প্রায় ১,৫০০ টাকা।

তিনি জানান, মনার দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ দশমিক ৪ ফুট এবং উচ্চতা ৫ দশমিক ১ ফুট। কোনো হাটে না নিয়ে বাড়ি থেকেই ষাঁড়টি বিক্রি করতে চান তিনি। সন্তানের মতো লালন করা এই ষাঁড়ের দাম তিনি আশা করছেন ১০ লাখ টাকা।

সোন্দা গ্রামের বাসিন্দা আমির হোসেন বলেন, জীবনে এত বড় গরু তিনি আগে দেখেননি। ইন্টারনেটে বড় গরুর ছবি বা ভিডিও দেখলেও বাস্তবে এত বড় গরু এই প্রথম দেখলেন। তিনি বলেন, জলি অনেক কষ্ট ও যত্নে গরুটি লালন করেছেন। গ্রামের মানুষ চান, এবার ভালো দামে বিক্রি হোক ‘মনা’।

আরেক বাসিন্দা রহিমা খাতুন বলেন, জলি অনেক কষ্ট করে গরুটি বড় করেছেন। কিন্তু বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য না থাকায় হাটে নিয়ে বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই ক্রেতারা যেন সরাসরি বাড়িতে এসে গরুটি কিনে নেন, সেটিই চান তারা।

ভাটই এলাকা থেকে ষাঁড়টি দেখতে আসা মনিরুল ইসলাম বলেন, লোকমুখে শুনে তিনি ‘মনা’ দেখতে এসেছেন। সাধারণত এত বড় গরু এলাকায় দেখা যায় না। একজন নারী একাই এত বড় একটি ষাঁড় গড়ে তুলেছেন, যা অন্য খামারিদের জন্য অনুপ্রেরণার।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহে এবার কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে ২ লাখ ৫২ হাজার ৩৯৭টি পশু। এর মধ্যে গরু ৯৩ হাজার ৫৭২টি, ছাগল ১ লাখ ৪৮ হাজার ২৩০টি, ভেড়া ৯ হাজার ২৬১টি এবং মহিষ ১ হাজার ৩৩৪টি। জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা ১ লাখ ৯৫ হাজার ৪২০টি। সে হিসেবে উদ্বৃত্ত রয়েছে ৫৬ হাজার ৯৭৭টি পশু।

ঝিনাইদহের জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এ এস এম আতিকুজ্জামান বলেন, কোরবানির ঈদ সামনে রেখে খামারিদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সীমান্তে বিজিবির কঠোর নজরদারির কারণে ভারত থেকে অবৈধভাবে গরু আসার সম্ভাবনা কম। ফলে স্থানীয় খামারিরা এবার ভালো দাম পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ক্ষতিকর ওষুধ ছাড়াই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে জলি খাতুন ষাঁড়টি বড় করেছেন, যা প্রশংসনীয়। আশা করা যায়, তিনি বাড়ি থেকেই মনার ন্যায্য মূল্য পাবেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত