সংবাদ

পরশুরামে বেড়িবাঁধ নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা


প্রতিনিধি, ফেনী
প্রতিনিধি, ফেনী
প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬, ১২:০৮ পিএম

পরশুরামে বেড়িবাঁধ নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা
ভারতের অংশে চলছে বাঁধ নির্মাণ। ছবিঃ সংবাদ

ফেনীর পরশুরাম উপজেলার সীমান্তবর্তী কোলাপাড়া ও বাঁশপদুয়া এলাকায় কহুয়া নদীর বেড়িবাঁধ নির্মাণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, ভারত তাদের অংশে বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ শুরু করলেও বাংলাদেশ অংশে এখনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পরশুরামের উত্তরে ভারতের আমজাদনগর সীমান্তবর্তী এলাকায় কহুয়া নদীর বেড়িবাঁধ নির্মাণে ২ দেশের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। ওই চুক্তির আওতায় গত ১৫ দিন ধরে ভারত তাদের অংশে বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের বন্যায় কহুয়া নদীর বেড়িবাঁধের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আন্তর্জাতিক সীমান্তসংক্রান্ত জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে বাঁধ মেরামত সম্ভব হয়নি। এখন ভারত তাদের অংশে বাঁধ নির্মাণ করায় বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি ও বন্যার চাপ বাংলাদেশ অংশে বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বৃহত্তর নোয়াখালীর বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যা ও নদীভাঙনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তারা বাংলাদেশ অংশেও দ্রুত বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দা মোস্তফা খোকন বলেন, ভারতের অংশের বাঁধ নির্মাণ শেষ হলে বাংলাদেশের পুরোনো বেড়িবাঁধ আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়বে। ২০০১ সালে তৎকালীন সরকার বাঁধ সংস্কারের উদ্যোগ নিলেও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর আপত্তিতে কাজ শেষ করা যায়নি। সিসি ব্লকের অনেক উপকরণ এখনো পড়ে আছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, বর্ষার আগে বাংলাদেশের অংশে দ্রুত সংস্কার না করা হলে উত্তর কোলাপাড়া, দক্ষিণ কোলাপাড়া, বেড়াবাড়িয়া ও পরশুরাম বাজারসহ প্রায় ৩০টি গ্রাম ঝুঁকিতে পড়বে।

উত্তর কোলাপাড়ার বাসিন্দা ইমরান বলেন, চুক্তি অনুযায়ী ভারত ইতিমধ্যে তাদের অংশের কাজ শুরু করেছে। কিন্তু বাংলাদেশের অংশে এখনো দৃশ্যমান কোনো কাজ শুরু হয়নি। এতে নদীভাঙন ও প্লাবনের আশঙ্কা বাড়ছে।

একই গ্রামের সোহাগ বলেন, বেড়িবাঁধটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। গত বছরের বন্যার সময় স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেরা উদ্যোগ নিয়ে বাঁধ রক্ষা করেছিলেন। তবে এবার বড় বন্যা হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা তার।

এ বিষয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ–এর ফেনী ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর বিল্লাল হোসেন বলেন, দুই দেশের সম্মতিতেই বাঁধ সংস্কারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বল্লামুখা ও নিজ কালিকাপুর এলাকার সড়ক পূর্বে সংস্কার করা হয়েছে এবং ভারত কহুয়া নদী বরাবর তাদের বাঁধের অংশটি সংস্কার করছে।

অন্যদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড–এর ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, কীভাবে বাঁধ নির্মাণ করা হবে, তা নিয়ে বিজিবির সঙ্গে আলোচনা চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে মানুষের উপকারে আসে এমনভাবেই কাজ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ২৩ মে ২০২৬


পরশুরামে বেড়িবাঁধ নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা

প্রকাশের তারিখ : ২৩ মে ২০২৬

featured Image

ফেনীর পরশুরাম উপজেলার সীমান্তবর্তী কোলাপাড়া ও বাঁশপদুয়া এলাকায় কহুয়া নদীর বেড়িবাঁধ নির্মাণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, ভারত তাদের অংশে বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ শুরু করলেও বাংলাদেশ অংশে এখনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পরশুরামের উত্তরে ভারতের আমজাদনগর সীমান্তবর্তী এলাকায় কহুয়া নদীর বেড়িবাঁধ নির্মাণে ২ দেশের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। ওই চুক্তির আওতায় গত ১৫ দিন ধরে ভারত তাদের অংশে বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের বন্যায় কহুয়া নদীর বেড়িবাঁধের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আন্তর্জাতিক সীমান্তসংক্রান্ত জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে বাঁধ মেরামত সম্ভব হয়নি। এখন ভারত তাদের অংশে বাঁধ নির্মাণ করায় বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি ও বন্যার চাপ বাংলাদেশ অংশে বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বৃহত্তর নোয়াখালীর বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যা ও নদীভাঙনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তারা বাংলাদেশ অংশেও দ্রুত বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দা মোস্তফা খোকন বলেন, ভারতের অংশের বাঁধ নির্মাণ শেষ হলে বাংলাদেশের পুরোনো বেড়িবাঁধ আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়বে। ২০০১ সালে তৎকালীন সরকার বাঁধ সংস্কারের উদ্যোগ নিলেও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর আপত্তিতে কাজ শেষ করা যায়নি। সিসি ব্লকের অনেক উপকরণ এখনো পড়ে আছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, বর্ষার আগে বাংলাদেশের অংশে দ্রুত সংস্কার না করা হলে উত্তর কোলাপাড়া, দক্ষিণ কোলাপাড়া, বেড়াবাড়িয়া ও পরশুরাম বাজারসহ প্রায় ৩০টি গ্রাম ঝুঁকিতে পড়বে।

উত্তর কোলাপাড়ার বাসিন্দা ইমরান বলেন, চুক্তি অনুযায়ী ভারত ইতিমধ্যে তাদের অংশের কাজ শুরু করেছে। কিন্তু বাংলাদেশের অংশে এখনো দৃশ্যমান কোনো কাজ শুরু হয়নি। এতে নদীভাঙন ও প্লাবনের আশঙ্কা বাড়ছে।

একই গ্রামের সোহাগ বলেন, বেড়িবাঁধটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। গত বছরের বন্যার সময় স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেরা উদ্যোগ নিয়ে বাঁধ রক্ষা করেছিলেন। তবে এবার বড় বন্যা হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা তার।

এ বিষয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ–এর ফেনী ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর বিল্লাল হোসেন বলেন, দুই দেশের সম্মতিতেই বাঁধ সংস্কারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বল্লামুখা ও নিজ কালিকাপুর এলাকার সড়ক পূর্বে সংস্কার করা হয়েছে এবং ভারত কহুয়া নদী বরাবর তাদের বাঁধের অংশটি সংস্কার করছে।

অন্যদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড–এর ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, কীভাবে বাঁধ নির্মাণ করা হবে, তা নিয়ে বিজিবির সঙ্গে আলোচনা চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে মানুষের উপকারে আসে এমনভাবেই কাজ করা হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত