সংবাদ

ঈদযাত্রায় সিডিউল বিপর্যয়ের শঙ্কা নেই : রেল সচিব


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬, ১১:৪৯ এএম

ঈদযাত্রায় সিডিউল বিপর্যয়ের শঙ্কা নেই : রেল সচিব

​এবারের ঈদুল আজহার ঘরমুখো মানুষের ট্রেন যাত্রায় কোনো ধরনের শিডিউল বিপর্যয়ের শঙ্কা নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলাম। তিনি জানিয়েছেন, শতভাগ প্রস্তুতি থাকায় যাত্রীরা এবার অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক ও নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রা উপহার পাবেন।

​আজ শনিবার (২৩ মে) সকালে ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

যাত্রার প্রথম দিন আজ সকালে দেওয়ানগঞ্জ কমিউটার ট্রেনের ইঞ্জিনে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। সকাল ৫টা ৪০ মিনিটে ট্রেনটি ছাড়ার পরপরই ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে। তবে রেলওয়ের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে সেটিকে ফিরিয়ে এনে রিজার্ভ ইঞ্জিন সংযুক্ত করে পুনরায় যাত্রা শুরু করানো হয়। এই ঘটনার প্রভাবে পরবর্তী কয়েকটি ট্রেন ১৫ মিনিট থেকে আধা ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্বিত হয়।

​এ প্রসঙ্গে রেল সচিব বলেন, “শুরুতে কিছুটা বিলম্ব হলেও এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। যেমন—রংপুর এক্সপ্রেস ১৮ মিনিট দেরিতে ছেড়েছে, তবে জামালপুর এক্সপ্রেস নির্ধারিত সময়েই ছাড়বে। আমরা আশা করছি, এরপর আর বড় ধরনের কোনো বিলম্ব হবে না।"

​রেলে মিটারগেজ লোকোমোটিভের (ইঞ্জিন) কিছুটা সংকট থাকার কথা স্বীকার করে সচিব বলেন, “আমরা আগে থেকেই সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়েছি। ঈদের সময় ৮৫টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সচল রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ ইতিমধ্যেই ৭৮ থেকে ৭৯টি প্রস্তুত রয়েছে। আগামীকাল থেকে এই সংখ্যা ৮০টির বেশি হবে বলে আশা করছি।”

​বিগত বছরগুলোতে ট্রেনের ছাদে চড়ে ভ্রমণের যে ঝুঁকিপূর্ণ প্রবণতা দেখা যেত, তা ঠেকাতে এবার বাড়তি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের ট্রেনগুলোতে এই প্রবণতা বেশি থাকে উল্লেখ করে ফাহিমুল ইসলাম বলেন, “ট্রেনের ছাদে ওঠা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এটি কঠোরভাবে বন্ধ করতে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি), জিআরপি এবং গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোতে ম্যাজিস্ট্রেটসহ ভ্রাম্যমাণ আদালত সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে।”

​টিকিট কাটার পরও যাত্রীরা ট্রেনে ঢুকতে পারছে না—এমন অভিযোগের বিষয়ে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, এবার টিকিটবিহীন যাত্রী প্রবেশ ঠেকাতে স্টেশনে তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কারণ টিকিট ছাড়া যাত্রীরাই সাধারণত স্টেশনে অতিরিক্ত ভিড় ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।

​তবে অতিরিক্ত যাত্রী চাপের বিষয়টি বিবেচনা করে এবারও মোট আসনের ২৫ শতাংশ ‘স্ট্যান্ডিং টিকিট’ (দাঁড়িয়ে যাওয়ার টিকিট) রাখা হয়েছে। ঈদের সময় রেলের চাহিদা অনেক বেশি থাকে, যা পুরোপুরি পূরণ করা সম্ভব হয় না বলেও জানান তিনি।

​ঈদযাত্রায় যাত্রীরা যেকোনো ধরনের অভিযোগ, তথ্য বা সহায়তার জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের হটলাইন নম্বর ১৩১-এ সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ২৩ মে ২০২৬


ঈদযাত্রায় সিডিউল বিপর্যয়ের শঙ্কা নেই : রেল সচিব

প্রকাশের তারিখ : ২৩ মে ২০২৬

featured Image

​এবারের ঈদুল আজহার ঘরমুখো মানুষের ট্রেন যাত্রায় কোনো ধরনের শিডিউল বিপর্যয়ের শঙ্কা নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলাম। তিনি জানিয়েছেন, শতভাগ প্রস্তুতি থাকায় যাত্রীরা এবার অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক ও নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রা উপহার পাবেন।

​আজ শনিবার (২৩ মে) সকালে ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

যাত্রার প্রথম দিন আজ সকালে দেওয়ানগঞ্জ কমিউটার ট্রেনের ইঞ্জিনে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। সকাল ৫টা ৪০ মিনিটে ট্রেনটি ছাড়ার পরপরই ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে। তবে রেলওয়ের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে সেটিকে ফিরিয়ে এনে রিজার্ভ ইঞ্জিন সংযুক্ত করে পুনরায় যাত্রা শুরু করানো হয়। এই ঘটনার প্রভাবে পরবর্তী কয়েকটি ট্রেন ১৫ মিনিট থেকে আধা ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্বিত হয়।

​এ প্রসঙ্গে রেল সচিব বলেন, “শুরুতে কিছুটা বিলম্ব হলেও এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। যেমন—রংপুর এক্সপ্রেস ১৮ মিনিট দেরিতে ছেড়েছে, তবে জামালপুর এক্সপ্রেস নির্ধারিত সময়েই ছাড়বে। আমরা আশা করছি, এরপর আর বড় ধরনের কোনো বিলম্ব হবে না।"

​রেলে মিটারগেজ লোকোমোটিভের (ইঞ্জিন) কিছুটা সংকট থাকার কথা স্বীকার করে সচিব বলেন, “আমরা আগে থেকেই সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়েছি। ঈদের সময় ৮৫টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সচল রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ ইতিমধ্যেই ৭৮ থেকে ৭৯টি প্রস্তুত রয়েছে। আগামীকাল থেকে এই সংখ্যা ৮০টির বেশি হবে বলে আশা করছি।”

​বিগত বছরগুলোতে ট্রেনের ছাদে চড়ে ভ্রমণের যে ঝুঁকিপূর্ণ প্রবণতা দেখা যেত, তা ঠেকাতে এবার বাড়তি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের ট্রেনগুলোতে এই প্রবণতা বেশি থাকে উল্লেখ করে ফাহিমুল ইসলাম বলেন, “ট্রেনের ছাদে ওঠা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এটি কঠোরভাবে বন্ধ করতে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি), জিআরপি এবং গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোতে ম্যাজিস্ট্রেটসহ ভ্রাম্যমাণ আদালত সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে।”

​টিকিট কাটার পরও যাত্রীরা ট্রেনে ঢুকতে পারছে না—এমন অভিযোগের বিষয়ে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, এবার টিকিটবিহীন যাত্রী প্রবেশ ঠেকাতে স্টেশনে তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কারণ টিকিট ছাড়া যাত্রীরাই সাধারণত স্টেশনে অতিরিক্ত ভিড় ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।

​তবে অতিরিক্ত যাত্রী চাপের বিষয়টি বিবেচনা করে এবারও মোট আসনের ২৫ শতাংশ ‘স্ট্যান্ডিং টিকিট’ (দাঁড়িয়ে যাওয়ার টিকিট) রাখা হয়েছে। ঈদের সময় রেলের চাহিদা অনেক বেশি থাকে, যা পুরোপুরি পূরণ করা সম্ভব হয় না বলেও জানান তিনি।

​ঈদযাত্রায় যাত্রীরা যেকোনো ধরনের অভিযোগ, তথ্য বা সহায়তার জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের হটলাইন নম্বর ১৩১-এ সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবেন।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত