সংবাদ

দক্ষ ড্রাইভার-মালি নিতে চায় আমিরাত


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬, ০৮:৪০ পিএম

দক্ষ ড্রাইভার-মালি নিতে চায় আমিরাত
বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ আলী খাসিফ আল-হামুদী

বাংলাদেশ থেকে প্রশিক্ষিত ড্রাইভার ও মালী নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। একইসঙ্গে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দুই দেশের আইনি সহযোগিতা জোরদারে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

শনিবার (২৩ মে) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের অফিসকক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ আলী খাসিফ আল-হামুদীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ইস্যু, মানবপাচার প্রতিরোধ, দক্ষ জনবল রপ্তানি, বাংলাদেশে আমিরাতের বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়।

রাষ্ট্রদূত আল-হামুদী বলেন, বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাত অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও দীর্ঘদিনের বন্ধুপ্রতিম দেশ। বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রায় ২০ লাখ বাংলাদেশি অভিবাসী সুনামের সঙ্গে কর্মরত রয়েছেন। তিনি জানান, তার দেশে দক্ষ ড্রাইভার ও মালীর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে ড্রাইভার নিয়োগের ক্ষেত্রে আমিরাতের রাষ্ট্রীয় নীতিমালা অনুযায়ী ছয় মাসের বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুই দেশ যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের ছয় মাস মেয়াদি ড্রাইভার প্রশিক্ষণ কোর্সের আয়োজন করতে পারে। এই প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারীদের দক্ষ চালক হিসেবে আমিরাতে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব। তিনি গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলভুক্ত দেশগুলোর জন্য একটি অভিন্ন ড্রাইভার প্রশিক্ষণ কোর্স চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হবে বলেও রাষ্ট্রদূতকে আশ্বস্ত করেন।

রাষ্ট্রদূত আল-হামুদী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, আমিরাতের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে সাইবার নিরাপত্তা ও তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে বড় পরিসরে বিনিয়োগে আগ্রহী। মন্ত্রী এই বিনিয়োগের আগ্রহকে স্বাগত জানিয়ে সব ধরনের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন।

মানবপাচার প্রতিরোধে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের চূড়ান্ত প্রস্তুতির কথাও জানান রাষ্ট্রদূত। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের মধ্যে একটি ব্যাপকভিত্তিক ‘পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হতে পারে, যা মানবপাচারসহ সব ফৌজদারি অপরাধমূলক বিষয়কে আওতাভুক্ত করবে। এই চুক্তি দুই দেশের আইনি ও নিরাপত্তা সহযোগিতাকে আরও সুসংহত করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বৈঠকের শুরুতে মন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানান। রাষ্ট্রদূত মন্ত্রীকে নতুন দায়িত্ব গ্রহণে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। এ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, যুগ্মসচিব রেবেকা খান ও উপসচিব বেগম মিনারা নাজমীন উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ২৩ মে ২০২৬


দক্ষ ড্রাইভার-মালি নিতে চায় আমিরাত

প্রকাশের তারিখ : ২৩ মে ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশ থেকে প্রশিক্ষিত ড্রাইভার ও মালী নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। একইসঙ্গে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দুই দেশের আইনি সহযোগিতা জোরদারে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

শনিবার (২৩ মে) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের অফিসকক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ আলী খাসিফ আল-হামুদীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ইস্যু, মানবপাচার প্রতিরোধ, দক্ষ জনবল রপ্তানি, বাংলাদেশে আমিরাতের বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়।

রাষ্ট্রদূত আল-হামুদী বলেন, বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাত অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও দীর্ঘদিনের বন্ধুপ্রতিম দেশ। বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রায় ২০ লাখ বাংলাদেশি অভিবাসী সুনামের সঙ্গে কর্মরত রয়েছেন। তিনি জানান, তার দেশে দক্ষ ড্রাইভার ও মালীর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে ড্রাইভার নিয়োগের ক্ষেত্রে আমিরাতের রাষ্ট্রীয় নীতিমালা অনুযায়ী ছয় মাসের বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুই দেশ যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের ছয় মাস মেয়াদি ড্রাইভার প্রশিক্ষণ কোর্সের আয়োজন করতে পারে। এই প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারীদের দক্ষ চালক হিসেবে আমিরাতে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব। তিনি গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলভুক্ত দেশগুলোর জন্য একটি অভিন্ন ড্রাইভার প্রশিক্ষণ কোর্স চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হবে বলেও রাষ্ট্রদূতকে আশ্বস্ত করেন।

রাষ্ট্রদূত আল-হামুদী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, আমিরাতের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে সাইবার নিরাপত্তা ও তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে বড় পরিসরে বিনিয়োগে আগ্রহী। মন্ত্রী এই বিনিয়োগের আগ্রহকে স্বাগত জানিয়ে সব ধরনের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন।

মানবপাচার প্রতিরোধে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের চূড়ান্ত প্রস্তুতির কথাও জানান রাষ্ট্রদূত। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের মধ্যে একটি ব্যাপকভিত্তিক ‘পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হতে পারে, যা মানবপাচারসহ সব ফৌজদারি অপরাধমূলক বিষয়কে আওতাভুক্ত করবে। এই চুক্তি দুই দেশের আইনি ও নিরাপত্তা সহযোগিতাকে আরও সুসংহত করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বৈঠকের শুরুতে মন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানান। রাষ্ট্রদূত মন্ত্রীকে নতুন দায়িত্ব গ্রহণে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। এ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, যুগ্মসচিব রেবেকা খান ও উপসচিব বেগম মিনারা নাজমীন উপস্থিত ছিলেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত