সংবাদ

রাষ্ট্রপতির ক্ষমার আওতায় চুয়াডাঙ্গায় যাবজ্জীবন বন্দি মুক্ত


প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা
প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা
প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬, ০৪:৫৭ পিএম

রাষ্ট্রপতির ক্ষমার আওতায় চুয়াডাঙ্গায় যাবজ্জীবন বন্দি মুক্ত
দীর্ঘ ১১ বছর পর কারামুক্ত আব্দুল মালেকের হাতে উপহার সামগ্রী তুলে দিচ্ছেন কারা কর্মকর্তারা। ছবিঃ সংবাদ

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতির ঘোষিত বিশেষ সাধারণ ক্ষমার আওতায় মুক্তি পেয়েছেন চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারের যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি আব্দুল মালেক। দীর্ঘ প্রায় ১১ বছর কারাভোগের পর রোববার (২৪ মে) বিকেলে অবসান ঘটে তার বন্দিজীবনের।

গতকাল বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। এ সময় কারাফটকে অপেক্ষারত মালেকের আবেগাপ্লুত স্বজনেরা তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন।

চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারের জেলার মনির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এবারের ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতির বিশেষ সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার আওতায় সারা দেশে ৪ জন সাজাপ্রাপ্ত কয়েদির সাজা মওকুফ করা হয়েছে। এই আদেশের আওতায় চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারের কয়েদি নম্বর ২৩০৫/এ, চুয়াডাঙ্গা শহরের বুজরুক গড়গড়ি মাদরাসাপাড়ার মৃত মোন্তাজ মালিতার ছেলে আব্দুল মালেক মুক্তি পেয়েছেন।

আদালতের নথি ও কারাগার সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা থানার ২০০৭ সালের ১১ জুনের একটি হত্যা মামলায় বিজ্ঞ অতিরিক্ত দায়রা জজ ১ম আদালত দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় আব্দুল মালেককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছিলেন। সাজা মাথায় নিয়ে তিনি দীর্ঘ প্রায় ১১ বছর চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে বন্দি ছিলেন। কারাভোগকালীন তার ভালো আচরণ ও সার্বিক দিক বিবেচনা করে রাষ্ট্রপতির সাধারণ ক্ষমার তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়।

কারা কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, রাষ্ট্রপতির ক্ষমার আওতায় আব্দুল মালেকের অবশিষ্ট সাজা মওকুফের আদেশ সংবলিত সরকারি নির্দেশনাটি গতকাল বিকেলে ই-মেইলের মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে পৌঁছায়। এরপর কারাবিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে তাকে মুক্ত করা হয়।

এদিকে কারাগার থেকে মুক্তির পর আব্দুল মালেককে জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে একটি নতুন লুঙ্গি ও একটি পাঞ্জাবি উপহার দেওয়া হয়। এ ছাড়া এক অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে কারাগার কর্তৃপক্ষ সরকারি তহবিল থেকে তার মামলার অনাদায়ী পাঁচ হাজার টাকার অর্থদণ্ড (জরিমানা) পরিশোধ করে দেয় এবং তাৎক্ষণিক পুনর্বাসন সহায়তা হিসেবে তার হাতে নগদ ১ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়।

দীর্ঘদিন পর মুক্ত বাতাসে পরিবারের মাঝে ফিরতে পেরে আব্দুল মালেক ও তার স্বজনেরা রাষ্ট্রপ্রধানসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ২৫ মে ২০২৬


রাষ্ট্রপতির ক্ষমার আওতায় চুয়াডাঙ্গায় যাবজ্জীবন বন্দি মুক্ত

প্রকাশের তারিখ : ২৫ মে ২০২৬

featured Image

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতির ঘোষিত বিশেষ সাধারণ ক্ষমার আওতায় মুক্তি পেয়েছেন চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারের যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি আব্দুল মালেক। দীর্ঘ প্রায় ১১ বছর কারাভোগের পর রোববার (২৪ মে) বিকেলে অবসান ঘটে তার বন্দিজীবনের।

গতকাল বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। এ সময় কারাফটকে অপেক্ষারত মালেকের আবেগাপ্লুত স্বজনেরা তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন।

চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারের জেলার মনির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এবারের ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতির বিশেষ সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার আওতায় সারা দেশে ৪ জন সাজাপ্রাপ্ত কয়েদির সাজা মওকুফ করা হয়েছে। এই আদেশের আওতায় চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারের কয়েদি নম্বর ২৩০৫/এ, চুয়াডাঙ্গা শহরের বুজরুক গড়গড়ি মাদরাসাপাড়ার মৃত মোন্তাজ মালিতার ছেলে আব্দুল মালেক মুক্তি পেয়েছেন।

আদালতের নথি ও কারাগার সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা থানার ২০০৭ সালের ১১ জুনের একটি হত্যা মামলায় বিজ্ঞ অতিরিক্ত দায়রা জজ ১ম আদালত দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় আব্দুল মালেককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছিলেন। সাজা মাথায় নিয়ে তিনি দীর্ঘ প্রায় ১১ বছর চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে বন্দি ছিলেন। কারাভোগকালীন তার ভালো আচরণ ও সার্বিক দিক বিবেচনা করে রাষ্ট্রপতির সাধারণ ক্ষমার তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়।

কারা কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, রাষ্ট্রপতির ক্ষমার আওতায় আব্দুল মালেকের অবশিষ্ট সাজা মওকুফের আদেশ সংবলিত সরকারি নির্দেশনাটি গতকাল বিকেলে ই-মেইলের মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে পৌঁছায়। এরপর কারাবিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে তাকে মুক্ত করা হয়।

এদিকে কারাগার থেকে মুক্তির পর আব্দুল মালেককে জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে একটি নতুন লুঙ্গি ও একটি পাঞ্জাবি উপহার দেওয়া হয়। এ ছাড়া এক অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে কারাগার কর্তৃপক্ষ সরকারি তহবিল থেকে তার মামলার অনাদায়ী পাঁচ হাজার টাকার অর্থদণ্ড (জরিমানা) পরিশোধ করে দেয় এবং তাৎক্ষণিক পুনর্বাসন সহায়তা হিসেবে তার হাতে নগদ ১ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়।

দীর্ঘদিন পর মুক্ত বাতাসে পরিবারের মাঝে ফিরতে পেরে আব্দুল মালেক ও তার স্বজনেরা রাষ্ট্রপ্রধানসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত