আগামী বৃহস্পতিবার ঈদুল আজহা। মুসলিম উম্মাহর অন্যতম প্রধান এই ধর্মীয় উৎসব ত্যাগ, আত্মশুদ্ধি ও মানবকল্যাণের মহান শিক্ষা বহন করে। ইসলামের ইতিহাসে এই দিনটি উজ্জ্বল হয়ে আছে মহান আল্লাহর প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্য ও আত্মত্যাগের অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে। কোরবানি কেবল একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়। এর মধ্য দিয়ে মানুষ আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করে। নিজের ভেতরের লোভ, অহংকার ও স্বার্থপরতাকে ত্যাগ করার শিক্ষা নেয়।
বর্তমান সমাজে কোরবানির প্রকৃত শিক্ষা অনেক সময় আড়ালে পড়ে যায়। কোথাও কোথাও কোরবানি হয়ে ওঠে ধনসম্পদ প্রদর্শনের প্রতিযোগিতা। ইসলামের শিক্ষা সেটা নয়। কোরআনে বলা হয়েছে, কোরবানির পশুর রক্ত বা মাংস আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না, পৌঁছায় মানুষের তাকওয়া ও খোদাভীতি। কোরবানির মূল শিক্ষা হলো বিনয়, আত্মসংযম ও আল্লাহভীতি অর্জন করা। যে ত্যাগে অন্যের কল্যাণের চিন্তা নেই, যে কোরবানিতে আত্মম্ভরিতা ও অহংকার স্থান পায়, তা কখনো প্রকৃত কোরবানির চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
কোরবানির মাংস আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও দরিদ্র মানুষের মধ্যে বণ্টনের বিধানও সামাজিক সম্প্রীতি ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর মধ্যেই কোরবানির সৌন্দর্য নিহিত। এই শিক্ষা মানুষকে মনে করিয়ে দেয়, আমরা একে অপরের জন্য। মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘবে এগিয়ে আসাই প্রকৃত ত্যাগের পরিচয়।
আজকের পৃথিবীতে হিংসা, লোভ, স্বার্থসংঘাত ও অসহিষ্ণুতা বাড়ছে। ব্যক্তি ও সমাজজীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য তাই কোরবানির প্রকৃত শিক্ষা নতুন করে উপলব্ধি করা জরুরি। অন্তরের পশুবৃত্তিকে দমন না করে মানবকল্যাণ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। কোরবানি নিছক পশু জবাই নয়, এটি আত্মশুদ্ধি ও নৈতিক জাগরণের আহ্বান।
ত্যাগ, ভালোবাসা ও মানবতার শিক্ষা নিয়ে এবারও ঈদুল আজহা মানুষের জীবনে শান্তি ও কল্যাণের বার্তা বয়ে আনুক।

মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ মে ২০২৬
আগামী বৃহস্পতিবার ঈদুল আজহা। মুসলিম উম্মাহর অন্যতম প্রধান এই ধর্মীয় উৎসব ত্যাগ, আত্মশুদ্ধি ও মানবকল্যাণের মহান শিক্ষা বহন করে। ইসলামের ইতিহাসে এই দিনটি উজ্জ্বল হয়ে আছে মহান আল্লাহর প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্য ও আত্মত্যাগের অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে। কোরবানি কেবল একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়। এর মধ্য দিয়ে মানুষ আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করে। নিজের ভেতরের লোভ, অহংকার ও স্বার্থপরতাকে ত্যাগ করার শিক্ষা নেয়।
বর্তমান সমাজে কোরবানির প্রকৃত শিক্ষা অনেক সময় আড়ালে পড়ে যায়। কোথাও কোথাও কোরবানি হয়ে ওঠে ধনসম্পদ প্রদর্শনের প্রতিযোগিতা। ইসলামের শিক্ষা সেটা নয়। কোরআনে বলা হয়েছে, কোরবানির পশুর রক্ত বা মাংস আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না, পৌঁছায় মানুষের তাকওয়া ও খোদাভীতি। কোরবানির মূল শিক্ষা হলো বিনয়, আত্মসংযম ও আল্লাহভীতি অর্জন করা। যে ত্যাগে অন্যের কল্যাণের চিন্তা নেই, যে কোরবানিতে আত্মম্ভরিতা ও অহংকার স্থান পায়, তা কখনো প্রকৃত কোরবানির চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
কোরবানির মাংস আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও দরিদ্র মানুষের মধ্যে বণ্টনের বিধানও সামাজিক সম্প্রীতি ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর মধ্যেই কোরবানির সৌন্দর্য নিহিত। এই শিক্ষা মানুষকে মনে করিয়ে দেয়, আমরা একে অপরের জন্য। মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘবে এগিয়ে আসাই প্রকৃত ত্যাগের পরিচয়।
আজকের পৃথিবীতে হিংসা, লোভ, স্বার্থসংঘাত ও অসহিষ্ণুতা বাড়ছে। ব্যক্তি ও সমাজজীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য তাই কোরবানির প্রকৃত শিক্ষা নতুন করে উপলব্ধি করা জরুরি। অন্তরের পশুবৃত্তিকে দমন না করে মানবকল্যাণ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। কোরবানি নিছক পশু জবাই নয়, এটি আত্মশুদ্ধি ও নৈতিক জাগরণের আহ্বান।
ত্যাগ, ভালোবাসা ও মানবতার শিক্ষা নিয়ে এবারও ঈদুল আজহা মানুষের জীবনে শান্তি ও কল্যাণের বার্তা বয়ে আনুক।

আপনার মতামত লিখুন