সংবাদ

ঈদের আগে গরু জবাই বন্ধের আর্জি খারিজ


দীপক মুখার্জী, কলকাতা
দীপক মুখার্জী, কলকাতা
প্রকাশ: ২৭ মে ২০২৬, ০৩:৪৬ পিএম

ঈদের আগে গরু জবাই বন্ধের আর্জি খারিজ
ছবি: সংগৃহীত

ঈদুল আজহার ঠিক আগে দেশজুড়ে গরু জবাই বন্ধের দাবিতে করা একটি মামলার জরুরি শুনানির আবেদন খারিজ করে দিল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট অফ ইন্ডিয়া। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়- উৎসবের মাত্র দু’দিন আগে হঠাৎ করে জরুরি শুনানির প্রয়োজনীয়তা তারা দেখছে না।

আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী বারুণ কুমার সিনহা আদালতে দাবি করেন, বকরি ঈদের আগেই শুনানি হলে আদালত অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিতে পারে। কিন্তু প্রধান বিচারপতি কান্ত প্রশ্ন তোলেন- “এতদিন পরে, উৎসবের ঠিক আগের দিন কেন এই তাড়াহুড়ো?” তার মন্তব্য, এই মুহূর্তে কোনও ‘জরুরি’ পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। ফলে আদালত অন্য মামলার শুনানিতে এগিয়ে যায়।

এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন অখিল ভারত হিন্দু মহাসভার প্রাক্তন সহ-সভাপতি সতীশ কুমার আগরওয়াল। তার বক্তব্য, হিন্দু, জৈন এবং বৌদ্ধ ধর্মে গরু পবিত্র- তাই গরু জবাই নিষিদ্ধ করা উচিত। তিনি আরও দাবি করেন, বিভিন্ন রাজ্যে গরু জবাই-বিরোধী আইন থাকলেও সেগুলির যথাযথ প্রয়োগ হচ্ছে না, যার ফলে বেআইনি জবাই বাড়ছে।

পিটিশনে ২০০৫ সালের একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় উল্লেখ করা হয়েছে- স্টেট অফ গুজরাট ভার্সেস মির্জাপুর মতি কুড়েসী কাসব জামাত - যেখানে সুপ্রিম কোর্ট গরু জবাইয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত আইনকে বৈধ বলে স্বীকৃতি দিয়েছিল। আবেদনকারীর দাবি, সেই রায় কার্যকর করার দায়িত্ব রাজ্যগুলির হলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না।

এছাড়া, বিহার, উত্তরপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা-সহ একাধিক রাজ্যে অবৈধ কসাইখানা চলছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। খোলা জায়গায় জবাইয়ের ফলে আইন-শৃঙ্খলা সমস্যা, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পরিবেশ দূষণের বিষয়ও তুলে ধরা হয়।

তবে সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তের ফলে স্পষ্ট- এই মুহূর্তে বকরি ঈদের আগে কোনও জাতীয় স্তরের নিষেধাজ্ঞা আসছে না। মামলাটি এখন উৎসবের পর তালিকাভুক্ত হতে পারে।

একদিকে ধর্মীয় অনুভূতির প্রশ্ন, অন্যদিকে বিচারব্যবস্থার সময় ও প্রক্রিয়ার বাস্তবতা। আদালত মূলত দেখিয়েছে, শেষ মুহূর্তের আবেদন দিয়ে জাতীয় পর্যায়ের নীতি নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ২৭ মে ২০২৬


ঈদের আগে গরু জবাই বন্ধের আর্জি খারিজ

প্রকাশের তারিখ : ২৭ মে ২০২৬

featured Image

ঈদুল আজহার ঠিক আগে দেশজুড়ে গরু জবাই বন্ধের দাবিতে করা একটি মামলার জরুরি শুনানির আবেদন খারিজ করে দিল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট অফ ইন্ডিয়া। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়- উৎসবের মাত্র দু’দিন আগে হঠাৎ করে জরুরি শুনানির প্রয়োজনীয়তা তারা দেখছে না।

আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী বারুণ কুমার সিনহা আদালতে দাবি করেন, বকরি ঈদের আগেই শুনানি হলে আদালত অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিতে পারে। কিন্তু প্রধান বিচারপতি কান্ত প্রশ্ন তোলেন- “এতদিন পরে, উৎসবের ঠিক আগের দিন কেন এই তাড়াহুড়ো?” তার মন্তব্য, এই মুহূর্তে কোনও ‘জরুরি’ পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। ফলে আদালত অন্য মামলার শুনানিতে এগিয়ে যায়।

এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন অখিল ভারত হিন্দু মহাসভার প্রাক্তন সহ-সভাপতি সতীশ কুমার আগরওয়াল। তার বক্তব্য, হিন্দু, জৈন এবং বৌদ্ধ ধর্মে গরু পবিত্র- তাই গরু জবাই নিষিদ্ধ করা উচিত। তিনি আরও দাবি করেন, বিভিন্ন রাজ্যে গরু জবাই-বিরোধী আইন থাকলেও সেগুলির যথাযথ প্রয়োগ হচ্ছে না, যার ফলে বেআইনি জবাই বাড়ছে।

পিটিশনে ২০০৫ সালের একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় উল্লেখ করা হয়েছে- স্টেট অফ গুজরাট ভার্সেস মির্জাপুর মতি কুড়েসী কাসব জামাত - যেখানে সুপ্রিম কোর্ট গরু জবাইয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত আইনকে বৈধ বলে স্বীকৃতি দিয়েছিল। আবেদনকারীর দাবি, সেই রায় কার্যকর করার দায়িত্ব রাজ্যগুলির হলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না।

এছাড়া, বিহার, উত্তরপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা-সহ একাধিক রাজ্যে অবৈধ কসাইখানা চলছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। খোলা জায়গায় জবাইয়ের ফলে আইন-শৃঙ্খলা সমস্যা, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পরিবেশ দূষণের বিষয়ও তুলে ধরা হয়।

তবে সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তের ফলে স্পষ্ট- এই মুহূর্তে বকরি ঈদের আগে কোনও জাতীয় স্তরের নিষেধাজ্ঞা আসছে না। মামলাটি এখন উৎসবের পর তালিকাভুক্ত হতে পারে।

একদিকে ধর্মীয় অনুভূতির প্রশ্ন, অন্যদিকে বিচারব্যবস্থার সময় ও প্রক্রিয়ার বাস্তবতা। আদালত মূলত দেখিয়েছে, শেষ মুহূর্তের আবেদন দিয়ে জাতীয় পর্যায়ের নীতি নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত