সংবাদ

ঈদের দিনে বৃষ্টি, কোন অঞ্চলে কতটা


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৭ মে ২০২৬, ০৪:৩০ পিএম

ঈদের দিনে বৃষ্টি, কোন অঞ্চলে কতটা
ছবি: সংগৃহীত

প্রকৃতি যেন ‘বেহিসাবি’ হয়ে উঠেছে। মৌসুমি বায়ু আসতে কয়েক দিন বাকি। তবু কোথাও প্রচণ্ড গরম, কোথাও আবার ঝুম বৃষ্টিতে শীতল হয়ে যাচ্ছে পরিবেশ। গত সাত দিন ধরে আবহাওয়ার এই ভিন্নমুখী আচরণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

ঈদের দিনও একই বৈপরীত্য থাকতে পারে। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস বলছে, মাত্র দুই বিভাগ বাদে দেশের বেশির ভাগ জায়গাতেই ঈদের দিন কমবেশি বৃষ্টি হতে পারে। বৃষ্টি হতে পারে রাজধানীতেও। তবে কখন হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, পবিত্র ঈদুল আজহার দিন আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দেশের অন্তত চার বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে। বিভাগগুলো হলো- রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও রাজশাহী।

এ ছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগেও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অপেক্ষাকৃত শুষ্ক থাকতে পারে খুলনা ও বরিশাল বিভাগ।

অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশীদ বলেন, ‘ঈদের দিন খুলনা ও বরিশাল বিভাগে বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলক কম। অন্য বিভাগগুলোতে বৃষ্টি হতে পারে।’

ঢাকায় ঈদের দিন হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবীর। তিনি আরও জানান, ঈদের আগের দিন রাতে রাজধানীতে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। তবে বৃষ্টি ঠিক কখন হবে- সকালে নাকি বিকেলে- সেটি নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। বজলুর রশীদের ভাষায়, ‘এটা সকালে না হলেও বিকেলে হতে পারে।’

এই অনিশ্চয়তার কারণ এ সময়ের প্রকৃতির ‘বেহিসাবি’ আচরণ। মৌসুমি বায়ু সাধারণত মে মাসের শেষ দিকে বা জুনের শুরুতেই দেশে প্রবেশ করে। তার আগে দক্ষিণা বায়ু আর পশ্চিমা লঘুচাপের অনবরত সংঘাতে তৈরি হয় এমন অস্থির পরিবেশ।

এবার পশ্চিমা লঘুচাপটি অনেকটাই শক্তিশালী বলে জানালেন আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদ। গত বছরের নভেম্বর থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত এই লঘুচাপের প্রভাব প্রায় ছিল না বললেই চলে। ফলে তেমন বৃষ্টিও হয়নি। আবার মার্চের পর থেকে এই লঘুচাপের বিরামহীন প্রভাব চলছে, যা স্বাভাবিক সময়ে ঘটে না।

চলতি মে মাসের শুরুটা বৃষ্টি দিয়ে হলেও মাঝামাঝি থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় তাপপ্রবাহ শুরু হয়। রাজধানীতেও তাপপ্রবাহ দেখা গেছে। বেশি দিন ধরে তাপপ্রবাহ ছিল দক্ষিণের জেলাগুলোতে। গত সোমবার খুলনা বিভাগের চার জেলা ও লক্ষ্মীপুরে তাপপ্রবাহ ছিল। তবে গতকাল তা কমে যায়।

মঙ্গলবার (২৬ মে) শুধু বাগেরহাটের মোংলায় তাপমাত্রা ছিল ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কিন্তু আবহাওয়া অফিস এ দিন ওই এলাকায় তাপপ্রবাহ বলে গণ্য করেনি। কারণ, মাত্র একটি দিন একটি এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে এমন তাপ বয়ে গেলে তাকে তাপপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয় না।

বুধবারও (২৭ মে) দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া অফিস সূত্র জানিয়েছে, অপেক্ষাকৃত বেশি বৃষ্টি হতে পারে সিলেট, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগে।

ঈদযাত্রা ও ঈদ দিনের বৃষ্টি: এক নজরে

সর্বোচ্চ বৃষ্টির সম্ভাবনা: রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও রাজশাহী বিভাগ। 

হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি: ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগ

বৃষ্টিহীন থাকার সম্ভাবনা: খুলনা ও বরিশাল বিভাগ

ঢাকায় বৃষ্টি: হালকা থেকে মাঝারি, সকাল বা বিকেলে অনিশ্চিত

ঈদের আগের রাতে: রাজধানীতে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা

আবহাওয়াবিদদের মতে, মৌসুমি বায়ু এখনও দেশে প্রবেশ করেনি। প্রবেশের পর প্রকৃতির এ ‘এলোমেলো’ আচরণ কমে এসে বৃষ্টিপাতের একটি ধারাবাহিকতা তৈরি হবে। ততদিন পর্যন্ত ঈদ উদযাপনে কিছুটা অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ২৭ মে ২০২৬


ঈদের দিনে বৃষ্টি, কোন অঞ্চলে কতটা

প্রকাশের তারিখ : ২৭ মে ২০২৬

featured Image

প্রকৃতি যেন ‘বেহিসাবি’ হয়ে উঠেছে। মৌসুমি বায়ু আসতে কয়েক দিন বাকি। তবু কোথাও প্রচণ্ড গরম, কোথাও আবার ঝুম বৃষ্টিতে শীতল হয়ে যাচ্ছে পরিবেশ। গত সাত দিন ধরে আবহাওয়ার এই ভিন্নমুখী আচরণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

ঈদের দিনও একই বৈপরীত্য থাকতে পারে। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস বলছে, মাত্র দুই বিভাগ বাদে দেশের বেশির ভাগ জায়গাতেই ঈদের দিন কমবেশি বৃষ্টি হতে পারে। বৃষ্টি হতে পারে রাজধানীতেও। তবে কখন হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, পবিত্র ঈদুল আজহার দিন আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দেশের অন্তত চার বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে। বিভাগগুলো হলো- রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও রাজশাহী।

এ ছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগেও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অপেক্ষাকৃত শুষ্ক থাকতে পারে খুলনা ও বরিশাল বিভাগ।

অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশীদ বলেন, ‘ঈদের দিন খুলনা ও বরিশাল বিভাগে বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলক কম। অন্য বিভাগগুলোতে বৃষ্টি হতে পারে।’

ঢাকায় ঈদের দিন হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবীর। তিনি আরও জানান, ঈদের আগের দিন রাতে রাজধানীতে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। তবে বৃষ্টি ঠিক কখন হবে- সকালে নাকি বিকেলে- সেটি নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। বজলুর রশীদের ভাষায়, ‘এটা সকালে না হলেও বিকেলে হতে পারে।’

এই অনিশ্চয়তার কারণ এ সময়ের প্রকৃতির ‘বেহিসাবি’ আচরণ। মৌসুমি বায়ু সাধারণত মে মাসের শেষ দিকে বা জুনের শুরুতেই দেশে প্রবেশ করে। তার আগে দক্ষিণা বায়ু আর পশ্চিমা লঘুচাপের অনবরত সংঘাতে তৈরি হয় এমন অস্থির পরিবেশ।

এবার পশ্চিমা লঘুচাপটি অনেকটাই শক্তিশালী বলে জানালেন আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদ। গত বছরের নভেম্বর থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত এই লঘুচাপের প্রভাব প্রায় ছিল না বললেই চলে। ফলে তেমন বৃষ্টিও হয়নি। আবার মার্চের পর থেকে এই লঘুচাপের বিরামহীন প্রভাব চলছে, যা স্বাভাবিক সময়ে ঘটে না।

চলতি মে মাসের শুরুটা বৃষ্টি দিয়ে হলেও মাঝামাঝি থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় তাপপ্রবাহ শুরু হয়। রাজধানীতেও তাপপ্রবাহ দেখা গেছে। বেশি দিন ধরে তাপপ্রবাহ ছিল দক্ষিণের জেলাগুলোতে। গত সোমবার খুলনা বিভাগের চার জেলা ও লক্ষ্মীপুরে তাপপ্রবাহ ছিল। তবে গতকাল তা কমে যায়।

মঙ্গলবার (২৬ মে) শুধু বাগেরহাটের মোংলায় তাপমাত্রা ছিল ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কিন্তু আবহাওয়া অফিস এ দিন ওই এলাকায় তাপপ্রবাহ বলে গণ্য করেনি। কারণ, মাত্র একটি দিন একটি এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে এমন তাপ বয়ে গেলে তাকে তাপপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয় না।

বুধবারও (২৭ মে) দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া অফিস সূত্র জানিয়েছে, অপেক্ষাকৃত বেশি বৃষ্টি হতে পারে সিলেট, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগে।

ঈদযাত্রা ও ঈদ দিনের বৃষ্টি: এক নজরে

সর্বোচ্চ বৃষ্টির সম্ভাবনা: রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও রাজশাহী বিভাগ। 

হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি: ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগ

বৃষ্টিহীন থাকার সম্ভাবনা: খুলনা ও বরিশাল বিভাগ

ঢাকায় বৃষ্টি: হালকা থেকে মাঝারি, সকাল বা বিকেলে অনিশ্চিত

ঈদের আগের রাতে: রাজধানীতে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা

আবহাওয়াবিদদের মতে, মৌসুমি বায়ু এখনও দেশে প্রবেশ করেনি। প্রবেশের পর প্রকৃতির এ ‘এলোমেলো’ আচরণ কমে এসে বৃষ্টিপাতের একটি ধারাবাহিকতা তৈরি হবে। ততদিন পর্যন্ত ঈদ উদযাপনে কিছুটা অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত