সংবাদ

ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঘটলে কেউ রক্ষা পাবেন না: রিজভী


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১ জুন ২০২৬, ০২:৪৫ পিএম

ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঘটলে কেউ রক্ষা পাবেন না: রিজভী

কোনো ছিদ্রপথে দেশে আবার ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঘটলে কেউ রক্ষা পাবেন না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটলে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব যেমন বিপন্ন হবে, তেমনি গণতন্ত্র চলে যাবে গোরস্থানে। তাই সময় থাকতে সবাইকে সাবধান হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সোমবার (১ জুন) রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী রিক্সা, ভ্যান ও অটো চালক দল কেন্দ্রীয় কমিটি এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত বিএনপি সবসময়ই কর্মসংস্থানের জন্য কাজ করেছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার সবসময়ই কর্মসংস্থানের সরকার, বেকার তৈরি করার সরকার নয়। আগামীতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে কোনো মানুষ বেকার থাকবে না। নানা উদ্যোগে বিভিন্ন সেক্টরে কর্মের প্রসার ঘটবে।

জিয়াউর  রহমানকে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও পোশাক শিল্পের নায়ক আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন: "আজকে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিদেশে কোটিরও বেশি লোক কাজ করছেন। এই বৈদেশিক কর্মসংস্থানের মূল নায়ক ছিলেন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি দেশে গার্মেন্টস শিল্পের সূচনা করেছিলেন, যেখানে ৫০ ভাগের বেশি নারী কাজ করছেন। নারীদের ক্ষমতায়ন ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান খাত এই তৈরি পোশাক শিল্প শহীদ জিয়ারই অবদান।"

তিনি আরও বলেন, শুকনো মৌসুমে পানির অভাব দূর করতে এবং পার্শ্ববর্তী দেশের পানি আগ্রাসন মোকাবিলায় শহীদ জিয়া দেশজুড়ে ১ হাজার ৬০০ মাইল খাল খনন করেছিলেন। এর মাধ্যমে কৃষি ও খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছিল। তিনি ফাঁকা আওয়াজ বা বড় বড় কথা না বলে কাজে বিশ্বাসী ছিলেন।

তারেক রহমানের মানবিক ও পুনর্বাসনমুখী রাজনীতির কথা উল্লেখ করে রিজভী আহমেদ বলেন, পূর্ববর্তী সরকার হকারদের কথা ভাবেনি। কিন্তু তারেক রহমানের সরকার বলেছে, হকারদের সরাতে হলে আগে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।

পানির নিরাপত্তা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য তারেক রহমানের 'পদ্মা ব্যারেজ' প্রকল্পের পরিকল্পনা তুলে ধরে রিজভী বলেন, এই ব্যারেজ হলে ১১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে নদীগুলো আবার জেগে উঠবে এবং মৎস্য ও কৃষি চাষের বিপ্লব ঘটবে। এটি একটি অনন্য দেশপ্রেমিক প্রকল্প।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, আওয়ামী লীগের রক্তের মধ্যেই রয়েছে গণতন্ত্র হত্যা ও একদলীয় কর্তৃত্ববাদ। তারা ক্ষমতা গ্রাস করে প্রথম যে কাজটি করে, তা হলো নিজেদের পরিবারের আর্থিক উন্নয়ন। গত ১৬ বছরে শেখ হাসিনা, তার সঙ্গপাঙ্গ ও আত্মীয়-স্বজনরা দেশ থেকে ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচার করেছে।

দেশে বর্তমান ‘মব কালচার’ ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে রিজভী বলেন, নাগরিক স্বাধীনতার নামে সমাজে অপসংস্কৃতি ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। অপপ্রচারের মাধ্যমে মব কালচার তৈরি করা হচ্ছে। গত মে মাসেই এই মবের কারণে দেশে প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ জন মানুষ মারা গেছে। পাড়ার বখাটে ছেলেদের মতো কিছু দলের গডফাদাররা এই মব কালচার ও অপসংস্কৃতিকে ধারণ করছে, যা দেশের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।

রিজভী বলেন, যারা আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন, সরকারিভাবে তাদের পরিবারকে ভাতা দেওয়ার কথা। যদি কোনো কারণে তা না হয়, তবে বিএনপি তাদের পাশে দাঁড়াবে। শহীদ শ্রমিকদের সন্তানরা যেন পড়াশোনা করতে পারে এবং কোনো পরিবার যেন না খেয়ে থাকে, তার সার্বিক দায়িত্ব বিএনপি নেবে।

 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ০১ জুন ২০২৬


ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঘটলে কেউ রক্ষা পাবেন না: রিজভী

প্রকাশের তারিখ : ০১ জুন ২০২৬

featured Image

কোনো ছিদ্রপথে দেশে আবার ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঘটলে কেউ রক্ষা পাবেন না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটলে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব যেমন বিপন্ন হবে, তেমনি গণতন্ত্র চলে যাবে গোরস্থানে। তাই সময় থাকতে সবাইকে সাবধান হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সোমবার (১ জুন) রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী রিক্সা, ভ্যান ও অটো চালক দল কেন্দ্রীয় কমিটি এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত বিএনপি সবসময়ই কর্মসংস্থানের জন্য কাজ করেছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার সবসময়ই কর্মসংস্থানের সরকার, বেকার তৈরি করার সরকার নয়। আগামীতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে কোনো মানুষ বেকার থাকবে না। নানা উদ্যোগে বিভিন্ন সেক্টরে কর্মের প্রসার ঘটবে।

জিয়াউর  রহমানকে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও পোশাক শিল্পের নায়ক আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন: "আজকে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিদেশে কোটিরও বেশি লোক কাজ করছেন। এই বৈদেশিক কর্মসংস্থানের মূল নায়ক ছিলেন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি দেশে গার্মেন্টস শিল্পের সূচনা করেছিলেন, যেখানে ৫০ ভাগের বেশি নারী কাজ করছেন। নারীদের ক্ষমতায়ন ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান খাত এই তৈরি পোশাক শিল্প শহীদ জিয়ারই অবদান।"

তিনি আরও বলেন, শুকনো মৌসুমে পানির অভাব দূর করতে এবং পার্শ্ববর্তী দেশের পানি আগ্রাসন মোকাবিলায় শহীদ জিয়া দেশজুড়ে ১ হাজার ৬০০ মাইল খাল খনন করেছিলেন। এর মাধ্যমে কৃষি ও খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছিল। তিনি ফাঁকা আওয়াজ বা বড় বড় কথা না বলে কাজে বিশ্বাসী ছিলেন।

তারেক রহমানের মানবিক ও পুনর্বাসনমুখী রাজনীতির কথা উল্লেখ করে রিজভী আহমেদ বলেন, পূর্ববর্তী সরকার হকারদের কথা ভাবেনি। কিন্তু তারেক রহমানের সরকার বলেছে, হকারদের সরাতে হলে আগে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।

পানির নিরাপত্তা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য তারেক রহমানের 'পদ্মা ব্যারেজ' প্রকল্পের পরিকল্পনা তুলে ধরে রিজভী বলেন, এই ব্যারেজ হলে ১১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে নদীগুলো আবার জেগে উঠবে এবং মৎস্য ও কৃষি চাষের বিপ্লব ঘটবে। এটি একটি অনন্য দেশপ্রেমিক প্রকল্প।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, আওয়ামী লীগের রক্তের মধ্যেই রয়েছে গণতন্ত্র হত্যা ও একদলীয় কর্তৃত্ববাদ। তারা ক্ষমতা গ্রাস করে প্রথম যে কাজটি করে, তা হলো নিজেদের পরিবারের আর্থিক উন্নয়ন। গত ১৬ বছরে শেখ হাসিনা, তার সঙ্গপাঙ্গ ও আত্মীয়-স্বজনরা দেশ থেকে ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচার করেছে।

দেশে বর্তমান ‘মব কালচার’ ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে রিজভী বলেন, নাগরিক স্বাধীনতার নামে সমাজে অপসংস্কৃতি ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। অপপ্রচারের মাধ্যমে মব কালচার তৈরি করা হচ্ছে। গত মে মাসেই এই মবের কারণে দেশে প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ জন মানুষ মারা গেছে। পাড়ার বখাটে ছেলেদের মতো কিছু দলের গডফাদাররা এই মব কালচার ও অপসংস্কৃতিকে ধারণ করছে, যা দেশের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।

রিজভী বলেন, যারা আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন, সরকারিভাবে তাদের পরিবারকে ভাতা দেওয়ার কথা। যদি কোনো কারণে তা না হয়, তবে বিএনপি তাদের পাশে দাঁড়াবে। শহীদ শ্রমিকদের সন্তানরা যেন পড়াশোনা করতে পারে এবং কোনো পরিবার যেন না খেয়ে থাকে, তার সার্বিক দায়িত্ব বিএনপি নেবে।

 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত