মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা শহরের ভানুগাছ বাজারে সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে আলহাজ কেরামত আলী জামে মসজিদ। মোগল স্থাপত্যশৈলীর আদলে নির্মিত এই মসজিদটি এখন কেবল উপাসনালয় নয়, বরং এ অঞ্চলের ইতিহাস ও নান্দনিকতার এক উজ্জ্বল প্রতীক।
১৯৬৭ সালের ১২ ডিসেম্বর মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ ও দানবীর আলহাজ মো. কেরামত আলী। তিনি ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের হয়ে এমএলএ এবং ১৯৬৫ সালে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য (এমএনএ) নির্বাচিত হয়েছিলেন। রাজনৈতিক জীবনের একপর্যায়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে কারাবরণও করেছিলেন এই সমাজসেবক। তারই অবদানের স্মারক হিসেবে মসজিদটি আজও স্বমহিমায় টিকে আছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, তিন গম্বুজবিশিষ্ট এই মসজিদের স্থাপত্য দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। মাঝখানে বড় গম্বুজ এবং দুই পাশে দুটি ছোট গম্বুজের সমন্বয়ে এটি নির্মিত। ইরান থেকে আনা পাথর, মার্বেল ও টেরাকোটার নিপুণ কারুকাজে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ইসলামী জ্যামিতিক নকশা। ভেতরের প্রশস্ত নামাজঘরের প্যান্ডেল আকৃতির ছাদ এমনভাবে তৈরি, যা প্রচণ্ড গরমেও পরিবেশকে শীতল রাখে। প্রায় এক হাজার মুসল্লি এখানে একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন। মসজিদ প্রাঙ্গণে রয়েছে বড় একটি পুকুর, আধুনিক অজুখানা এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের আবাসন সুবিধা।
স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম কিবরিয়া শফি বলেন, “এই মসজিদের পরিবেশ ও স্থাপত্য আমাদের গর্বিত করে। সরকারি উদ্যোগে এটি সংরক্ষণ করা জরুরি।” সাবেক কাউন্সিলর মোহিত কামাল মিয়া জানান, মসজিদের ভেতরে এমন এক প্রশান্তি অনুভূত হয় যা সচরাচর দেখা যায় না। তবে জুমার দিনে স্থানসংকুলান না হওয়ায় নিয়মিত মুসল্লিরা মসজিদটি সম্প্রসারণের দাবি জানিয়েছেন।
১৯৬৯ সালে আলহাজ মো. কেরামত আলীর মৃত্যুর পর তাকে তারই প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসার পাশে সমাহিত করা হয়। স্থানীয়দের মতে, সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি দেশের অন্যতম ধর্মীয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃতি পেতে পারে।

মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ জুন ২০২৬
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা শহরের ভানুগাছ বাজারে সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে আলহাজ কেরামত আলী জামে মসজিদ। মোগল স্থাপত্যশৈলীর আদলে নির্মিত এই মসজিদটি এখন কেবল উপাসনালয় নয়, বরং এ অঞ্চলের ইতিহাস ও নান্দনিকতার এক উজ্জ্বল প্রতীক।
১৯৬৭ সালের ১২ ডিসেম্বর মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ ও দানবীর আলহাজ মো. কেরামত আলী। তিনি ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের হয়ে এমএলএ এবং ১৯৬৫ সালে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য (এমএনএ) নির্বাচিত হয়েছিলেন। রাজনৈতিক জীবনের একপর্যায়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে কারাবরণও করেছিলেন এই সমাজসেবক। তারই অবদানের স্মারক হিসেবে মসজিদটি আজও স্বমহিমায় টিকে আছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, তিন গম্বুজবিশিষ্ট এই মসজিদের স্থাপত্য দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। মাঝখানে বড় গম্বুজ এবং দুই পাশে দুটি ছোট গম্বুজের সমন্বয়ে এটি নির্মিত। ইরান থেকে আনা পাথর, মার্বেল ও টেরাকোটার নিপুণ কারুকাজে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ইসলামী জ্যামিতিক নকশা। ভেতরের প্রশস্ত নামাজঘরের প্যান্ডেল আকৃতির ছাদ এমনভাবে তৈরি, যা প্রচণ্ড গরমেও পরিবেশকে শীতল রাখে। প্রায় এক হাজার মুসল্লি এখানে একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন। মসজিদ প্রাঙ্গণে রয়েছে বড় একটি পুকুর, আধুনিক অজুখানা এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের আবাসন সুবিধা।
স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম কিবরিয়া শফি বলেন, “এই মসজিদের পরিবেশ ও স্থাপত্য আমাদের গর্বিত করে। সরকারি উদ্যোগে এটি সংরক্ষণ করা জরুরি।” সাবেক কাউন্সিলর মোহিত কামাল মিয়া জানান, মসজিদের ভেতরে এমন এক প্রশান্তি অনুভূত হয় যা সচরাচর দেখা যায় না। তবে জুমার দিনে স্থানসংকুলান না হওয়ায় নিয়মিত মুসল্লিরা মসজিদটি সম্প্রসারণের দাবি জানিয়েছেন।
১৯৬৯ সালে আলহাজ মো. কেরামত আলীর মৃত্যুর পর তাকে তারই প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসার পাশে সমাহিত করা হয়। স্থানীয়দের মতে, সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি দেশের অন্যতম ধর্মীয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃতি পেতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন