সংবাদ

জনবলসংকটে ধুঁকছে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল


প্রতিনিধি, মেহেরপুর
প্রতিনিধি, মেহেরপুর
প্রকাশ: ৩ জুন ২০২৬, ১০:১৩ এএম

জনবলসংকটে ধুঁকছে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল
মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে শয্যা না পেয়ে মেঝেতে রোগীরা। ছবি : সংবাদ

জনবলসংকট, চিকিৎসক স্বল্পতা আর অপর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার মধ্যে জোড়াতালি দিয়ে চলছে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা। কাগজে-কলমে এটি ২৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও বাস্তবে এর জনবল কাঠামো এখনো ১০০ শয্যারই রয়ে গেছে। ফলে প্রতিদিন ৪০০ এর বেশি রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন সীমিত সংখ্যক স্বাস্থ্যকর্মী।

সোমবার (১ জুন) মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, ২৫০টি শয্যা থাকলেও রোগীদের ঠাঁই হয়েছে হাসপাতালের মেঝে ও বারান্দায়। ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি রোগী ভর্তি থাকায় তিল ধারণের জায়গা নেই। ২৫০ শয্যার বিপরীতে বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৪০০ রোগী। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন রোগীদের স্বজনরা। সব মিলিয়ে হাসপাতালটি এখন জনারণ্য।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রবিবার (৩১ মে) রাত ১২টা পর্যন্ত হাসপাতালে ৩২৭ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। এর মধ্যে শুধু পুরুষ ওয়ার্ডেই ছিলেন ১৩৪ জন। হাসপাতালটিতে বর্তমানে ১০০ শয্যার বিপরীতে চিকিৎসকের পদ রয়েছে ৪১টি, যার মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ২৯ জন।

গুরুত্বপূর্ণ পদে চিকিৎসক না থাকায় মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। সিনিয়র মেডিসিন কনসালটেন্টের পদটি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। একমাত্র অ্যানেসথেসিস্টের বদলি হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে সব ধরনের বড় অস্ত্রোপচার (মেজর অপারেশন) বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া দু’জন শিশু কনসালটেন্টের জায়গায় রয়েছেন মাত্র একজন জুনিয়র কনসালটেন্ট। ৭ জন মেডিকেল অফিসারের বিপরীতে আছেন মাত্র ২ জন। অফিস সহায়কের ৪টি পদই শূন্য। হাসপাতালের তিনটি অ্যাম্বুলেন্সের বিপরীতে চালক আছেন মাত্র একজন। ৫ শয্যার একটি আইসিইউ ইউনিট থাকলেও প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে তা চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।

দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন উজুলপুর গ্রামের আবদুর রহিম। তিনি বলেন, ‘ঈদের ছুটির কারণে ঠিকমতো ডাক্তার পাইনি। তবে আজ সকালে ডাক্তার দেখে গেছেন।’

হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডের সেবিকা স্বপ্না খাতুন জানান, ঈদের দিন রাত থেকে রোগীর চাপ বেড়েছে। শ্বাসকষ্ট, বুকব্যথা ও পেটব্যথাসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে রোগীরা বেশি ভর্তি হচ্ছেন।

পুরুষ ওয়ার্ডে রোগী দেখছিলেন কার্ডিওলজিস্ট ডা. কাজল আলী। তিনি বলেন, ‘অধিকাংশ রোগী শ্বাসকষ্ট ও জ্বর নিয়ে আসছেন। তাদের মধ্যে বয়োজ্যেষ্ঠ ও ধূমপায়ীর সংখ্যাই বেশি। সাধ্যমতো চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সাজ্জাৎ হোসেন বলেন, ‘আমি এখানে আসার পর জনবলসংকটের বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। নতুন পদায়ন তো হচ্ছেই না, উল্টো এখান থেকে চিকিৎসক বদলি করা হচ্ছে। জনবল ও পর্যাপ্ত চিকিৎসক পেলে মেহেরপুরবাসীকে আরও উন্নত সেবা দেওয়া সম্ভব হতো।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬


জনবলসংকটে ধুঁকছে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল

প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুন ২০২৬

featured Image

জনবলসংকট, চিকিৎসক স্বল্পতা আর অপর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার মধ্যে জোড়াতালি দিয়ে চলছে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা। কাগজে-কলমে এটি ২৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও বাস্তবে এর জনবল কাঠামো এখনো ১০০ শয্যারই রয়ে গেছে। ফলে প্রতিদিন ৪০০ এর বেশি রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন সীমিত সংখ্যক স্বাস্থ্যকর্মী।

সোমবার (১ জুন) মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, ২৫০টি শয্যা থাকলেও রোগীদের ঠাঁই হয়েছে হাসপাতালের মেঝে ও বারান্দায়। ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি রোগী ভর্তি থাকায় তিল ধারণের জায়গা নেই। ২৫০ শয্যার বিপরীতে বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৪০০ রোগী। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন রোগীদের স্বজনরা। সব মিলিয়ে হাসপাতালটি এখন জনারণ্য।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রবিবার (৩১ মে) রাত ১২টা পর্যন্ত হাসপাতালে ৩২৭ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। এর মধ্যে শুধু পুরুষ ওয়ার্ডেই ছিলেন ১৩৪ জন। হাসপাতালটিতে বর্তমানে ১০০ শয্যার বিপরীতে চিকিৎসকের পদ রয়েছে ৪১টি, যার মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ২৯ জন।

গুরুত্বপূর্ণ পদে চিকিৎসক না থাকায় মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। সিনিয়র মেডিসিন কনসালটেন্টের পদটি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। একমাত্র অ্যানেসথেসিস্টের বদলি হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে সব ধরনের বড় অস্ত্রোপচার (মেজর অপারেশন) বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া দু’জন শিশু কনসালটেন্টের জায়গায় রয়েছেন মাত্র একজন জুনিয়র কনসালটেন্ট। ৭ জন মেডিকেল অফিসারের বিপরীতে আছেন মাত্র ২ জন। অফিস সহায়কের ৪টি পদই শূন্য। হাসপাতালের তিনটি অ্যাম্বুলেন্সের বিপরীতে চালক আছেন মাত্র একজন। ৫ শয্যার একটি আইসিইউ ইউনিট থাকলেও প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে তা চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।

দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন উজুলপুর গ্রামের আবদুর রহিম। তিনি বলেন, ‘ঈদের ছুটির কারণে ঠিকমতো ডাক্তার পাইনি। তবে আজ সকালে ডাক্তার দেখে গেছেন।’

হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডের সেবিকা স্বপ্না খাতুন জানান, ঈদের দিন রাত থেকে রোগীর চাপ বেড়েছে। শ্বাসকষ্ট, বুকব্যথা ও পেটব্যথাসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে রোগীরা বেশি ভর্তি হচ্ছেন।

পুরুষ ওয়ার্ডে রোগী দেখছিলেন কার্ডিওলজিস্ট ডা. কাজল আলী। তিনি বলেন, ‘অধিকাংশ রোগী শ্বাসকষ্ট ও জ্বর নিয়ে আসছেন। তাদের মধ্যে বয়োজ্যেষ্ঠ ও ধূমপায়ীর সংখ্যাই বেশি। সাধ্যমতো চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সাজ্জাৎ হোসেন বলেন, ‘আমি এখানে আসার পর জনবলসংকটের বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। নতুন পদায়ন তো হচ্ছেই না, উল্টো এখান থেকে চিকিৎসক বদলি করা হচ্ছে। জনবল ও পর্যাপ্ত চিকিৎসক পেলে মেহেরপুরবাসীকে আরও উন্নত সেবা দেওয়া সম্ভব হতো।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত