সংবাদ

ডুমুরিয়ায় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অর্থ লোপাটের অভিযোগ


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, খুলনা
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, খুলনা
প্রকাশ: ৩ জুন ২০২৬, ১০:৩১ এএম

ডুমুরিয়ায় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অর্থ লোপাটের অভিযোগ
চুকনগর বাজারের এই সড়কেই উন্নয়নের নামে অনিয়মের অভিযোগ। ছবি : সংবাদ

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সাতটি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রায় সাড়ে ১৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, চুকনগর বাজার এলাকায় এসব প্রকল্পের কাজ নথিপত্রে সম্পন্ন দেখিয়ে বিল তোলা হলেও বাস্তবে অধিকাংশ কাজেরই অস্তিত্ব নেই।

পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ২০২২-২৩ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন তহবিল থেকে চুকনগর বাজার এলাকায় সাতটি পৃথক প্রকল্পের জন্য ১৭ লাখ ৪০ হাজার ৭০০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে, একই স্থানে ভিন্ন ভিন্ন নামে একাধিক প্রকল্প দেখিয়ে এবং কাজ না করেই ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে এই অর্থ লোপাট করা হয়েছে।

চুকনগর বাজারের ক্ষুদ্র মাছ ব্যবসায়ী ইমান আলী শেখ বলেন, ‘কাগজে-কলমে রাস্তা ও নালার উন্নয়নের কথা বলা হলেও বাস্তবে কোনো পরিবর্তন হয়নি। প্রকল্পের টাকা লুটপাট করা হয়েছে।’ চা-দোকানি সুকুমার দত্তের অভিযোগ, লোকদেখানো সামান্য কিছু কাজ করে অধিকাংশ টাকাই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। চেয়ারম্যানের ভয়ে অনেকে এ নিয়ে মুখ খুলতে সাহস পান না।

৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলাউদ্দিন মালি বলেন, ‘আমার এলাকায় এসব প্রকল্প হলেও আমি কিছুই জানি না। চেয়ারম্যান নিজেই সব তদারকি করেছেন।’

চুকনগর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সরদার বিল্লাল হোসেন জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুটি ভুয়া প্রকল্প দেখানো হয়েছে। প্রতিটি প্রকল্পে ২ লাখ টাকা করে ব্যয় দেখানো হলেও বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি। স্থানীয় বিএনপি নেতা দৌলত হোসেন বলেন, চুকনগর বাজার তহশিল অফিস থেকে শেখ শামিমের বাড়ি পর্যন্ত নালা নির্মাণে ৫ লাখ ৪০ হাজার ৭০০ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে, অথচ সেখানে সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার টাকার কাজ হয়েছে। খুলনা, সাতক্ষীরা ও যশোরের সংযোগস্থল হওয়ায় চুকনগর একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র। কিন্তু উন্নয়ন না হওয়ায় জনদুর্ভোগ রয়েই গেছে।

অভিযোগের বিষয়ে আটলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান শেখ হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘প্রকল্পের কিছু কাজ ঠিকাদার ও কিছু কাজ পিআইসির মাধ্যমে করা হয়েছে। কোনো অনিয়ম হয়নি।’ তবে কাজ দৃশ্যমান না হওয়ার বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবিতা সরকার বলেন, ‘উন্নয়ন প্রকল্পের সরকারি অর্থ আত্মসাতের সুযোগ নেই। বিষয়টি সরেজমিন তদন্ত করা হবে। কোনো অসংগতি পাওয়া গেলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬


ডুমুরিয়ায় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অর্থ লোপাটের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুন ২০২৬

featured Image

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সাতটি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রায় সাড়ে ১৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, চুকনগর বাজার এলাকায় এসব প্রকল্পের কাজ নথিপত্রে সম্পন্ন দেখিয়ে বিল তোলা হলেও বাস্তবে অধিকাংশ কাজেরই অস্তিত্ব নেই।

পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ২০২২-২৩ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন তহবিল থেকে চুকনগর বাজার এলাকায় সাতটি পৃথক প্রকল্পের জন্য ১৭ লাখ ৪০ হাজার ৭০০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে, একই স্থানে ভিন্ন ভিন্ন নামে একাধিক প্রকল্প দেখিয়ে এবং কাজ না করেই ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে এই অর্থ লোপাট করা হয়েছে।

চুকনগর বাজারের ক্ষুদ্র মাছ ব্যবসায়ী ইমান আলী শেখ বলেন, ‘কাগজে-কলমে রাস্তা ও নালার উন্নয়নের কথা বলা হলেও বাস্তবে কোনো পরিবর্তন হয়নি। প্রকল্পের টাকা লুটপাট করা হয়েছে।’ চা-দোকানি সুকুমার দত্তের অভিযোগ, লোকদেখানো সামান্য কিছু কাজ করে অধিকাংশ টাকাই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। চেয়ারম্যানের ভয়ে অনেকে এ নিয়ে মুখ খুলতে সাহস পান না।

৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলাউদ্দিন মালি বলেন, ‘আমার এলাকায় এসব প্রকল্প হলেও আমি কিছুই জানি না। চেয়ারম্যান নিজেই সব তদারকি করেছেন।’

চুকনগর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সরদার বিল্লাল হোসেন জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুটি ভুয়া প্রকল্প দেখানো হয়েছে। প্রতিটি প্রকল্পে ২ লাখ টাকা করে ব্যয় দেখানো হলেও বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি। স্থানীয় বিএনপি নেতা দৌলত হোসেন বলেন, চুকনগর বাজার তহশিল অফিস থেকে শেখ শামিমের বাড়ি পর্যন্ত নালা নির্মাণে ৫ লাখ ৪০ হাজার ৭০০ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে, অথচ সেখানে সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার টাকার কাজ হয়েছে। খুলনা, সাতক্ষীরা ও যশোরের সংযোগস্থল হওয়ায় চুকনগর একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র। কিন্তু উন্নয়ন না হওয়ায় জনদুর্ভোগ রয়েই গেছে।

অভিযোগের বিষয়ে আটলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান শেখ হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘প্রকল্পের কিছু কাজ ঠিকাদার ও কিছু কাজ পিআইসির মাধ্যমে করা হয়েছে। কোনো অনিয়ম হয়নি।’ তবে কাজ দৃশ্যমান না হওয়ার বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবিতা সরকার বলেন, ‘উন্নয়ন প্রকল্পের সরকারি অর্থ আত্মসাতের সুযোগ নেই। বিষয়টি সরেজমিন তদন্ত করা হবে। কোনো অসংগতি পাওয়া গেলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত