সংবাদ

কুমারখালীতে বাল্যবিয়ের আসরে হাজির ইউএনও


জেলা বার্তা পরিবেশক,কুষ্টিয়া
জেলা বার্তা পরিবেশক,কুষ্টিয়া
প্রকাশ: ৩ জুন ২০২৬, ১২:২৫ পিএম

কুমারখালীতে বাল্যবিয়ের আসরে হাজির ইউএনও
কুমারখালীতে বাল্যবিয়ে বন্ধে অভিযান পরিচালনা করছেন ইউএনও ফারজানা আখতার। ছবি : সংবাদ

এক কক্ষে কনে সাজিয়ে রাখা হয়েছে দশম শ্রেণির এক মাদ্রাসাছাত্রীকে। পাশের কক্ষে বসা এসএসসি পরীক্ষার্থী বর আর বরযাত্রীরা। বাড়িতে চলছে রান্নাবান্না। কাজি আসার অপেক্ষা। ঠিক সেই মুহূর্তে হুট করে হাজির হলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। মুহূর্তেই উৎসবের আমেজ রূপ নিল আতঙ্কে। জেল-জরিমানার ভয়ে পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে গেলেন বরযাত্রী ও কনের স্বজনরা। পণ্ড হয়ে গেল বাল্যবিয়ের আসর।

মঙ্গলবার (২ জুন) দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের খোর্দবন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযান পরিচালনা করেন কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা আখতার। তাকে সহযোগিতা করে পুলিশ।

স্বজনদের ভাষ্য, কনে কুমারখালী ফাজিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্রী। আর বর একই প্রতিষ্ঠান থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। প্রায় দেড় বছর ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক। পরিবারের দাবি, বিয়ে না দিলে দুজনই আত্মহত্যার হুমকি দেওয়ায় তারা এই বাল্যবিয়ের আয়োজন করেছিলেন।

ছাত্রীর বাবা বলেন, ‘অবুঝ বয়সে দুজন আত্মহত্যার হুমকি দেওয়ায় আমরা অনেকটা বাধ্য হয়েই বিয়ের ব্যবস্থা করেছিলাম। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে আমাদের ভুল ভেঙেছে। প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত মেয়েকে আর বিয়ে দেব না।’

ইউএনও ফারজানা আখতার বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আমরা বাল্যবিয়েটি বন্ধ করেছি। পরে বর ও কনের অভিভাবকদের কাছ থেকে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে বিয়ে দেবেন না বলে মৌখিক স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়েছে। বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে প্রশাসনের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬


কুমারখালীতে বাল্যবিয়ের আসরে হাজির ইউএনও

প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুন ২০২৬

featured Image

এক কক্ষে কনে সাজিয়ে রাখা হয়েছে দশম শ্রেণির এক মাদ্রাসাছাত্রীকে। পাশের কক্ষে বসা এসএসসি পরীক্ষার্থী বর আর বরযাত্রীরা। বাড়িতে চলছে রান্নাবান্না। কাজি আসার অপেক্ষা। ঠিক সেই মুহূর্তে হুট করে হাজির হলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। মুহূর্তেই উৎসবের আমেজ রূপ নিল আতঙ্কে। জেল-জরিমানার ভয়ে পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে গেলেন বরযাত্রী ও কনের স্বজনরা। পণ্ড হয়ে গেল বাল্যবিয়ের আসর।

মঙ্গলবার (২ জুন) দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের খোর্দবন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযান পরিচালনা করেন কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা আখতার। তাকে সহযোগিতা করে পুলিশ।

স্বজনদের ভাষ্য, কনে কুমারখালী ফাজিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্রী। আর বর একই প্রতিষ্ঠান থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। প্রায় দেড় বছর ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক। পরিবারের দাবি, বিয়ে না দিলে দুজনই আত্মহত্যার হুমকি দেওয়ায় তারা এই বাল্যবিয়ের আয়োজন করেছিলেন।

ছাত্রীর বাবা বলেন, ‘অবুঝ বয়সে দুজন আত্মহত্যার হুমকি দেওয়ায় আমরা অনেকটা বাধ্য হয়েই বিয়ের ব্যবস্থা করেছিলাম। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে আমাদের ভুল ভেঙেছে। প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত মেয়েকে আর বিয়ে দেব না।’

ইউএনও ফারজানা আখতার বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আমরা বাল্যবিয়েটি বন্ধ করেছি। পরে বর ও কনের অভিভাবকদের কাছ থেকে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে বিয়ে দেবেন না বলে মৌখিক স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়েছে। বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে প্রশাসনের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত