গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার যমুনা নদীর বুকে জেগে ওঠা ধূ-ধূ বালুচরে এখন সবুজের সমারোহ। শুষ্ক মৌসুমে যে চরে একসময় শুধু বালুর রাজত্ব ছিল, সেখানে এখন বাতাসে দুলছে উন্নত জাতের ‘বারি তিল-৬’-এর সবুজ গাছ। ভুট্টা ঘরে তোলার পর অলস পড়ে থাকা অনাবাদি জমিতে এবার তিলের বাম্পার ফলন হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএআরআই) সরেজমিন গবেষণা বিভাগের সহায়তায় উন্নত জাতের এই তিল চাষ করে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন স্থানীয় চরাঞ্চলের কৃষকেরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চলতি খরিপ-১ মৌসুমে সাঘাটার কুমারপাড়া, কালুরপাড়া, কানাইপাড়া, বেড়া, বুগারপটল ও হাটবাড়ি চরের পতিত জমিতে তিল চাষ করা হয়েছে। আগে এই সময়ে ভুট্টা কাটার পর জমিগুলো অনাবাদি পড়ে থাকত। এবার ‘পার্টনার প্রোগ্রাম-বারি অঙ্গ’-এর আওতায় কৃষকদের উদ্বুদ্ধ ও সহায়তা করার মাধ্যমে প্রায় ৬০০ বিঘা জমিতে তিলের পরীক্ষামূলক চাষ সফল হয়েছে। চরের বুকে তিলের ফলন দেখে উচ্ছ্বসিত চাষিরা।
চরের কৃষকেরা জানান, আগে ভুট্টা কাটার পর বালুচরে কীভাবে তিল চাষ করতে হয়, তা তাদের জানা ছিল না। ফলে জমিগুলো পড়ে থাকত। কিন্তু এবার কৃষি গবেষণা বিভাগ থেকে উন্নত জাতের বীজ ও সঠিক পরামর্শ পাওয়ায় তারা তিল চাষে আগ্রহী হন। ফলন আশাতীত ভালো হয়েছে।
সরেজমিন গবেষণা বিভাগের মাঠকর্মীরা জানান, গাইবান্ধা বিএআরআইয়ের তত্ত্বাবধানে ৬০০ বিঘা জমিতে বারি তিল-৪ ও বারি তিল-৬ চাষের এই প্রকল্প সফল হয়েছে। কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পাওয়ায় আগামী মৌসুমে চাষাবাদের পরিধি দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সরেজমিন গবেষণা বিভাগের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘চরাঞ্চলের পতিত জমিতে উন্নত জাতের এই তিল চাষে সার, সেচ ও কীটনাশক খুবই কম লাগে। খরচ নামমাত্র হলেও সাধারণ তিলের তুলনায় ফলন প্রায় দ্বিগুণ। কম খরচে অধিক লাভজনক হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে।’
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, পরিবেশ ও মাটির অনুকূল অবস্থাকে কাজে লাগিয়ে তিল চাষের এই সাফল্য চরাঞ্চলের অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনবে।

বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুন ২০২৬
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার যমুনা নদীর বুকে জেগে ওঠা ধূ-ধূ বালুচরে এখন সবুজের সমারোহ। শুষ্ক মৌসুমে যে চরে একসময় শুধু বালুর রাজত্ব ছিল, সেখানে এখন বাতাসে দুলছে উন্নত জাতের ‘বারি তিল-৬’-এর সবুজ গাছ। ভুট্টা ঘরে তোলার পর অলস পড়ে থাকা অনাবাদি জমিতে এবার তিলের বাম্পার ফলন হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএআরআই) সরেজমিন গবেষণা বিভাগের সহায়তায় উন্নত জাতের এই তিল চাষ করে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন স্থানীয় চরাঞ্চলের কৃষকেরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চলতি খরিপ-১ মৌসুমে সাঘাটার কুমারপাড়া, কালুরপাড়া, কানাইপাড়া, বেড়া, বুগারপটল ও হাটবাড়ি চরের পতিত জমিতে তিল চাষ করা হয়েছে। আগে এই সময়ে ভুট্টা কাটার পর জমিগুলো অনাবাদি পড়ে থাকত। এবার ‘পার্টনার প্রোগ্রাম-বারি অঙ্গ’-এর আওতায় কৃষকদের উদ্বুদ্ধ ও সহায়তা করার মাধ্যমে প্রায় ৬০০ বিঘা জমিতে তিলের পরীক্ষামূলক চাষ সফল হয়েছে। চরের বুকে তিলের ফলন দেখে উচ্ছ্বসিত চাষিরা।
চরের কৃষকেরা জানান, আগে ভুট্টা কাটার পর বালুচরে কীভাবে তিল চাষ করতে হয়, তা তাদের জানা ছিল না। ফলে জমিগুলো পড়ে থাকত। কিন্তু এবার কৃষি গবেষণা বিভাগ থেকে উন্নত জাতের বীজ ও সঠিক পরামর্শ পাওয়ায় তারা তিল চাষে আগ্রহী হন। ফলন আশাতীত ভালো হয়েছে।
সরেজমিন গবেষণা বিভাগের মাঠকর্মীরা জানান, গাইবান্ধা বিএআরআইয়ের তত্ত্বাবধানে ৬০০ বিঘা জমিতে বারি তিল-৪ ও বারি তিল-৬ চাষের এই প্রকল্প সফল হয়েছে। কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পাওয়ায় আগামী মৌসুমে চাষাবাদের পরিধি দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সরেজমিন গবেষণা বিভাগের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘চরাঞ্চলের পতিত জমিতে উন্নত জাতের এই তিল চাষে সার, সেচ ও কীটনাশক খুবই কম লাগে। খরচ নামমাত্র হলেও সাধারণ তিলের তুলনায় ফলন প্রায় দ্বিগুণ। কম খরচে অধিক লাভজনক হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে।’
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, পরিবেশ ও মাটির অনুকূল অবস্থাকে কাজে লাগিয়ে তিল চাষের এই সাফল্য চরাঞ্চলের অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনবে।

আপনার মতামত লিখুন