রাজ্যের রাজনীতিতে আবারও রহস্যের ঘনঘটা। জল্পনা উড়িয়েও জল্পনা বাড়ালেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। ৫০ জন বিধায়ক নিয়ে স্পিকারের দ্বারস্থ হওয়ার খবর অস্বীকার করলেন ঠিকই, কিন্তু বেরোনোর সময় একটাই কথা “কাল কী হবে জানি না!” আর তাতেই নতুন করে চাপে ঘাসফুল শিবির।
গত কয়েকদিন ধরেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছিল, দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বড়সড় পদক্ষেপ নিতে চলেছেন। এমনকি শোনা যাচ্ছিল, একাধিক তৃণমূল বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে তিনি বিধানসভার স্পিকারের কাছে যেতে পারেন। মঙ্গলবার সেই জল্পনাকে প্রকাশ্যে উড়িয়ে দেন তিনি।
বিধানসভায় ঢোকার মুখে সরাসরি জানান, কোনও হোটেলে গোপন বৈঠকের খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এমনকি নিজের মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন পরীক্ষা করার চ্যালেঞ্জও ছুঁড়ে দেন।
তবে এখানেই শেষ নয়। জল্পনা উড়িয়ে দিলেও, বেরোনোর সময় তাঁর মন্তব্য-“কাল কী হবে জানি না!” রাজনৈতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। এটা কি শুধুই কাকতালীয় মন্তব্য, নাকি চাপ তৈরির কৌশল?
দলের অন্দরেই ‘নতুন কর্পোরেট স্টাইল’ নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানান ঋতব্রত। নাম না করেই নিশানা করেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ও নির্বাচনী কৌশল সংস্থাকে। সাম্প্রতিক ‘সই-কাণ্ড’ নিয়েও কটাক্ষ করে বলেন, জোর করে সই করানো এখন দলের ডিএনএ-র অংশ হয়ে উঠছে।
তবে এই তীব্র সমালোচনার মাঝেও একটি বিষয় স্পষ্ট—দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও, তিনি এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই নিজের নেত্রী হিসেবে মানছেন। এই দ্বৈত অবস্থানই আরও রহস্য বাড়াচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ঋতব্রতের এই অবস্থান মোটেই হঠাৎ নয়। একসময় সিপিএম থেকে বহিষ্কৃত হয়ে তৃণমূলে যোগ, তারপর সাংসদ থেকে বিধায়ক-তাঁর রাজনৈতিক যাত্রাপথে একাধিক বাঁক রয়েছে।
এখন প্রশ্ন উঠছে-তৃতীয় দফার এই দিগবাজি কি আরও বড় কোনও রাজনৈতিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত?
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, রাজ্যে তৃণমূলের সংগঠনগত দুর্বলতা এবং নির্বাচনী ফলাফল খারাপ হওয়ার প্রেক্ষাপটে, বিরোধী শিবির—বিশেষ করে বিজেপি- এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগাতে চাইছে। এমনও জল্পনা, ঋতব্রত নিজে এবং আরও কয়েকজন বিধায়ক ভবিষ্যতে দলবদলের পথে হাঁটতে পারেন।
যদিও এখনও সবটাই জল্পনা, কিন্তু একথা নিশ্চিত—“কাল কী হবে জানি না”-এই একটি বাক্যই আপাতত রাজ্য রাজনীতির তাপমাত্রা অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে।
জল্পনা, অস্বীকার, আবার ইঙ্গিত-এই তিনের মিশ্রণেই তৈরি হয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘তৃতীয় অধ্যায়’। এখন নজর একটাই-সত্যিই কি আগামীকাল কিছু বড় হতে চলেছে, নাকি এও শুধুই রাজনৈতিক চাপানউতোরের আরেক পর্ব?

বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুন ২০২৬
রাজ্যের রাজনীতিতে আবারও রহস্যের ঘনঘটা। জল্পনা উড়িয়েও জল্পনা বাড়ালেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। ৫০ জন বিধায়ক নিয়ে স্পিকারের দ্বারস্থ হওয়ার খবর অস্বীকার করলেন ঠিকই, কিন্তু বেরোনোর সময় একটাই কথা “কাল কী হবে জানি না!” আর তাতেই নতুন করে চাপে ঘাসফুল শিবির।
গত কয়েকদিন ধরেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছিল, দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বড়সড় পদক্ষেপ নিতে চলেছেন। এমনকি শোনা যাচ্ছিল, একাধিক তৃণমূল বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে তিনি বিধানসভার স্পিকারের কাছে যেতে পারেন। মঙ্গলবার সেই জল্পনাকে প্রকাশ্যে উড়িয়ে দেন তিনি।
বিধানসভায় ঢোকার মুখে সরাসরি জানান, কোনও হোটেলে গোপন বৈঠকের খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এমনকি নিজের মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন পরীক্ষা করার চ্যালেঞ্জও ছুঁড়ে দেন।
তবে এখানেই শেষ নয়। জল্পনা উড়িয়ে দিলেও, বেরোনোর সময় তাঁর মন্তব্য-“কাল কী হবে জানি না!” রাজনৈতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। এটা কি শুধুই কাকতালীয় মন্তব্য, নাকি চাপ তৈরির কৌশল?
দলের অন্দরেই ‘নতুন কর্পোরেট স্টাইল’ নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানান ঋতব্রত। নাম না করেই নিশানা করেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ও নির্বাচনী কৌশল সংস্থাকে। সাম্প্রতিক ‘সই-কাণ্ড’ নিয়েও কটাক্ষ করে বলেন, জোর করে সই করানো এখন দলের ডিএনএ-র অংশ হয়ে উঠছে।
তবে এই তীব্র সমালোচনার মাঝেও একটি বিষয় স্পষ্ট—দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও, তিনি এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই নিজের নেত্রী হিসেবে মানছেন। এই দ্বৈত অবস্থানই আরও রহস্য বাড়াচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ঋতব্রতের এই অবস্থান মোটেই হঠাৎ নয়। একসময় সিপিএম থেকে বহিষ্কৃত হয়ে তৃণমূলে যোগ, তারপর সাংসদ থেকে বিধায়ক-তাঁর রাজনৈতিক যাত্রাপথে একাধিক বাঁক রয়েছে।
এখন প্রশ্ন উঠছে-তৃতীয় দফার এই দিগবাজি কি আরও বড় কোনও রাজনৈতিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত?
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, রাজ্যে তৃণমূলের সংগঠনগত দুর্বলতা এবং নির্বাচনী ফলাফল খারাপ হওয়ার প্রেক্ষাপটে, বিরোধী শিবির—বিশেষ করে বিজেপি- এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগাতে চাইছে। এমনও জল্পনা, ঋতব্রত নিজে এবং আরও কয়েকজন বিধায়ক ভবিষ্যতে দলবদলের পথে হাঁটতে পারেন।
যদিও এখনও সবটাই জল্পনা, কিন্তু একথা নিশ্চিত—“কাল কী হবে জানি না”-এই একটি বাক্যই আপাতত রাজ্য রাজনীতির তাপমাত্রা অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে।
জল্পনা, অস্বীকার, আবার ইঙ্গিত-এই তিনের মিশ্রণেই তৈরি হয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘তৃতীয় অধ্যায়’। এখন নজর একটাই-সত্যিই কি আগামীকাল কিছু বড় হতে চলেছে, নাকি এও শুধুই রাজনৈতিক চাপানউতোরের আরেক পর্ব?

আপনার মতামত লিখুন