সংবাদ

যুগ্ম সচিবের মায়ের পচন ধরা লাশ, ছেলেকে প্রত্যাহার


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩ জুন ২০২৬, ০৮:২৩ পিএম

যুগ্ম সচিবের মায়ের পচন ধরা লাশ, ছেলেকে প্রত্যাহার
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুরের একটি বাসায় ৭৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধার মরদেহ পচনশীল অবস্থায় উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার মধ্যেই তার ছেলে যুগ্ম সচিব ড. এ কে এম আনিসুর রহমানকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করেছে সরকার।

বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।

এর আগে গত ৩১ মে মিরপুর-১১ এলাকার একটি বাসা থেকে যুগ্ম সচিব ড. এ কে এম আনিসুর রহমানের মা নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, মরদেহটি দীর্ঘ সময় পড়ে থাকায় পচন ধরে।তাতে পোকার উপস্থিতি দেখা যায়। বাসাটির পরিবেশ ছিল অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা। স্থানীয় বাসিন্দারা দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশকে খবর দেন।

সূত্রমতে, নূর জাহান বেগমের তিন সন্তান। ছেলে ড. এ কে এম আনিসুর রহমান যুগ্ম সচিব (মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য), আরেক ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক আর মেয়ে স্থানীয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেন।

ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমজুড়ে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, নূর জাহান বেগমের কক্ষসহ পুরো ফ্ল্যাটের পরিবেশ ছিল নোংরা ও অবহেলিত। প্রতিবেশীরা বলছেন, সন্তানরা এত প্রতিষ্ঠিত হয়েও মায়ের এমন পরিণতি- এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

ঘটনা সামনে আসার পরই শুরু হয় ব্যাপক সমালোচনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভের ঝড় ওঠে। এর প্রায় দু’দিন পরই বুধবার সরকারি দায়িত্ব থেকে তাকে সরানোর নির্দেশ দেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আনিসুর রহমানকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তর না করলে তাকে ‘তাৎক্ষণিক অবমুক্ত’ গণ্য করা হবে।

এদিকে, পচনধরা অবস্থায় মায়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাটি সামনে আসার পর আবারও আলোচনায় এসেছে ২০১৩ সালের পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন। আইন অনুযায়ী, প্রত্যেক সন্তানের ওপর পিতা-মাতার ভরণপোষণ, স্বাস্থ্যসেবা, নিয়মিত খোঁজখবর ও প্রয়োজনীয় পরিচর্যার দায়িত্ব বর্তায়।

আইনে আরও বলা হয়েছে, পিতা-মাতার একাধিক সন্তান থাকলে পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে এসব দায়িত্ব পালন করবেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬


যুগ্ম সচিবের মায়ের পচন ধরা লাশ, ছেলেকে প্রত্যাহার

প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুন ২০২৬

featured Image

রাজধানীর মিরপুরের একটি বাসায় ৭৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধার মরদেহ পচনশীল অবস্থায় উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার মধ্যেই তার ছেলে যুগ্ম সচিব ড. এ কে এম আনিসুর রহমানকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করেছে সরকার।

বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।

এর আগে গত ৩১ মে মিরপুর-১১ এলাকার একটি বাসা থেকে যুগ্ম সচিব ড. এ কে এম আনিসুর রহমানের মা নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, মরদেহটি দীর্ঘ সময় পড়ে থাকায় পচন ধরে।তাতে পোকার উপস্থিতি দেখা যায়। বাসাটির পরিবেশ ছিল অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা। স্থানীয় বাসিন্দারা দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশকে খবর দেন।

সূত্রমতে, নূর জাহান বেগমের তিন সন্তান। ছেলে ড. এ কে এম আনিসুর রহমান যুগ্ম সচিব (মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য), আরেক ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক আর মেয়ে স্থানীয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেন।

ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমজুড়ে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, নূর জাহান বেগমের কক্ষসহ পুরো ফ্ল্যাটের পরিবেশ ছিল নোংরা ও অবহেলিত। প্রতিবেশীরা বলছেন, সন্তানরা এত প্রতিষ্ঠিত হয়েও মায়ের এমন পরিণতি- এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

ঘটনা সামনে আসার পরই শুরু হয় ব্যাপক সমালোচনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভের ঝড় ওঠে। এর প্রায় দু’দিন পরই বুধবার সরকারি দায়িত্ব থেকে তাকে সরানোর নির্দেশ দেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আনিসুর রহমানকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তর না করলে তাকে ‘তাৎক্ষণিক অবমুক্ত’ গণ্য করা হবে।

এদিকে, পচনধরা অবস্থায় মায়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাটি সামনে আসার পর আবারও আলোচনায় এসেছে ২০১৩ সালের পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন। আইন অনুযায়ী, প্রত্যেক সন্তানের ওপর পিতা-মাতার ভরণপোষণ, স্বাস্থ্যসেবা, নিয়মিত খোঁজখবর ও প্রয়োজনীয় পরিচর্যার দায়িত্ব বর্তায়।

আইনে আরও বলা হয়েছে, পিতা-মাতার একাধিক সন্তান থাকলে পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে এসব দায়িত্ব পালন করবেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত