সংবাদ

মন্ত্রীদের চ্যালেঞ্জ গ্রহণে জানপ্রিয় মঞ্চ যন্তর মন্ত্রে সিজিপি-র শক্তিপ্রদর্শন


দীপক মুখার্জী, কলকাতা
দীপক মুখার্জী, কলকাতা
প্রকাশ: ৬ জুন ২০২৬, ১২:০৯ পিএম

মন্ত্রীদের চ্যালেঞ্জ গ্রহণে জানপ্রিয় মঞ্চ যন্তর মন্ত্রে সিজিপি-র শক্তিপ্রদর্শন

“ডিজিটাল আরশোলারা ল্যাপটপ আর মোবাইলের পর্দা ভেদ করে কোনোদিন রাস্তায় নেমে আন্দোলন করতে পারবে না”-শাসকদলের একাধিক মন্ত্রীর এই কটাক্ষ এখন কার্যত চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। আর সেই চ্যালেঞ্জই যেন সরাসরি গ্রহণ করল সিজেপি।

শনিবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরেই এই আন্দোলনের মুখ হয়ে ওঠেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ। তিনি দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল ৩-এ অবতরণ করেন। বিমানবন্দরে পৌঁছনোর পরই দিল্লি পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে তাঁর সংক্ষিপ্ত বৈঠক হয়। সমস্ত নিরাপত্তা প্রোটোকল মেনে তিনি বিমানবন্দর এলাকা অতিক্রম করেন।

দলটি ইতিমধ্যেই তাদের সমর্থকদের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। কোনও বিচ্ছিন্ন জমায়েত নয়, সরাসরি জন্তরমন্ত্রে পৌঁছাতে হবে। প্রত্যেকের হাতে একটি বই এবং জাতীয় পতাকা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে আন্দোলনের বার্তা হয় ‘জ্ঞান ও সংবিধানের পক্ষে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে’।

এই প্রতিবাদের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা। একের পর এক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং তার পরবর্তী সময়ে প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে ক্ষোভ তীব্র হয়েছে যুবসমাজের মধ্যে। সিজেপি-র দাবি, এই পরিস্থিতির সম্পূর্ণ দায় নিতে হবে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে এবং তাঁর অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত।

সংগঠনের এক শীর্ষ সদস্যের দাবি, গত ২০ বছরে দেশে অন্তত ৪৫টি বড় পরীক্ষা পেপার লিক হয়েছে, অথচ মাত্র ২টি ক্ষেত্রে দোষীদের শাস্তি হয়েছে। তার মধ্যে একজনকে শাস্তি না দিয়ে অন্য মন্ত্রকে স্থানান্তর করা হয়েছে-যা কার্যত ‘দায় এড়ানোর কৌশল’, শাস্তি নয়। এই তথ্যই এখন আন্দোলনের অন্যতম হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।

এদিকে, পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দিল্লি জুড়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রীর বাসভবনের আশেপাশে বাড়ানো হয়েছে পুলিশ মোতায়েন। গোটা রাজধানী কার্যত নজরদারির আওতায়।

উল্লেখযোগ্যভাবে, এই প্রতিবাদ ঠেকাতে দায়ের হওয়া একটি জনস্বার্থ মামলায় দিল্লি হাইকোর্ট জরুরি শুনানির আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। ফলে প্রশাসনিকভাবে এই আন্দোলনের পথে বড় কোনও বাধা আপাতত নেই।

এই আন্দোলনের সূচনা এক বিতর্কিত মন্তব্য থেকে। দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এক শুনানিতে কিছু বেকার যুবককে ‘ককরোচ’-এর সঙ্গে তুলনা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। সেই মন্তব্য ঘিরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ ছড়ায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আন্দোলন শুধুমাত্র প্রতীকী নয়। এটি যুবসমাজের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ। “ডিজিটাল আরশোলা” বলে যাদের খাটো করা হয়েছিল, তারাই আজ দিল্লির রাস্তায় নেমে দেখিয়ে দিচ্ছে—ভারতের রাজনীতিতে নতুন ধরনের প্রতিবাদের সূচনা হতে পারে।

সব মিলিয়ে, আজকের 'জন্তরমন্ত্র'র শুধু একটি প্রতিবাদের মঞ্চ নয়—এটি হয়ে উঠেছে সেই জায়গা, যেখানে ডিজিটাল ক্ষোভ বাস্তব রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জে পরিণত হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬


মন্ত্রীদের চ্যালেঞ্জ গ্রহণে জানপ্রিয় মঞ্চ যন্তর মন্ত্রে সিজিপি-র শক্তিপ্রদর্শন

প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুন ২০২৬

featured Image

“ডিজিটাল আরশোলারা ল্যাপটপ আর মোবাইলের পর্দা ভেদ করে কোনোদিন রাস্তায় নেমে আন্দোলন করতে পারবে না”-শাসকদলের একাধিক মন্ত্রীর এই কটাক্ষ এখন কার্যত চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। আর সেই চ্যালেঞ্জই যেন সরাসরি গ্রহণ করল সিজেপি।

শনিবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরেই এই আন্দোলনের মুখ হয়ে ওঠেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ। তিনি দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল ৩-এ অবতরণ করেন। বিমানবন্দরে পৌঁছনোর পরই দিল্লি পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে তাঁর সংক্ষিপ্ত বৈঠক হয়। সমস্ত নিরাপত্তা প্রোটোকল মেনে তিনি বিমানবন্দর এলাকা অতিক্রম করেন।

দলটি ইতিমধ্যেই তাদের সমর্থকদের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। কোনও বিচ্ছিন্ন জমায়েত নয়, সরাসরি জন্তরমন্ত্রে পৌঁছাতে হবে। প্রত্যেকের হাতে একটি বই এবং জাতীয় পতাকা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে আন্দোলনের বার্তা হয় ‘জ্ঞান ও সংবিধানের পক্ষে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে’।

এই প্রতিবাদের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা। একের পর এক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং তার পরবর্তী সময়ে প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে ক্ষোভ তীব্র হয়েছে যুবসমাজের মধ্যে। সিজেপি-র দাবি, এই পরিস্থিতির সম্পূর্ণ দায় নিতে হবে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে এবং তাঁর অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত।

সংগঠনের এক শীর্ষ সদস্যের দাবি, গত ২০ বছরে দেশে অন্তত ৪৫টি বড় পরীক্ষা পেপার লিক হয়েছে, অথচ মাত্র ২টি ক্ষেত্রে দোষীদের শাস্তি হয়েছে। তার মধ্যে একজনকে শাস্তি না দিয়ে অন্য মন্ত্রকে স্থানান্তর করা হয়েছে-যা কার্যত ‘দায় এড়ানোর কৌশল’, শাস্তি নয়। এই তথ্যই এখন আন্দোলনের অন্যতম হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।

এদিকে, পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দিল্লি জুড়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রীর বাসভবনের আশেপাশে বাড়ানো হয়েছে পুলিশ মোতায়েন। গোটা রাজধানী কার্যত নজরদারির আওতায়।

উল্লেখযোগ্যভাবে, এই প্রতিবাদ ঠেকাতে দায়ের হওয়া একটি জনস্বার্থ মামলায় দিল্লি হাইকোর্ট জরুরি শুনানির আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। ফলে প্রশাসনিকভাবে এই আন্দোলনের পথে বড় কোনও বাধা আপাতত নেই।

এই আন্দোলনের সূচনা এক বিতর্কিত মন্তব্য থেকে। দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এক শুনানিতে কিছু বেকার যুবককে ‘ককরোচ’-এর সঙ্গে তুলনা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। সেই মন্তব্য ঘিরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ ছড়ায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আন্দোলন শুধুমাত্র প্রতীকী নয়। এটি যুবসমাজের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ। “ডিজিটাল আরশোলা” বলে যাদের খাটো করা হয়েছিল, তারাই আজ দিল্লির রাস্তায় নেমে দেখিয়ে দিচ্ছে—ভারতের রাজনীতিতে নতুন ধরনের প্রতিবাদের সূচনা হতে পারে।

সব মিলিয়ে, আজকের 'জন্তরমন্ত্র'র শুধু একটি প্রতিবাদের মঞ্চ নয়—এটি হয়ে উঠেছে সেই জায়গা, যেখানে ডিজিটাল ক্ষোভ বাস্তব রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জে পরিণত হচ্ছে।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত