সংবাদ

সোনাগাজীতে শিক্ষক ও কর্মকর্তার পদ দীর্ঘদিনের শূন্য


প্রতিনিধি, ফেনী
প্রতিনিধি, ফেনী
প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ১২:২০ পিএম

সোনাগাজীতে শিক্ষক ও কর্মকর্তার পদ দীর্ঘদিনের শূন্য
উপজেলা শিক্ষা অফিস। ছবিঃ সংবাদ

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার ১১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫০টিতেই কোনো প্রধান শিক্ষক নেই। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে খালি রয়েছে ৬২ জন সহকারী শিক্ষকের পদ। প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়গুলোর দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তীব্র জনবলসংকটে খোদ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কার্যক্রমেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ৩৬টিতে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক আছেন। বাকি বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ২৪টিতে শিক্ষকেরা চলতি দায়িত্বে রয়েছেন এবং ৫০টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ সম্পূর্ণ শূন্য। অর্থাৎ, ৬.২৭ শতাংশ বিদ্যালয়ে কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকেরা ভারপ্রাপ্ত হিসেবে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করায় তাদের নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া সহকারী শিক্ষকের ৬৭২টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৬১০ জন।

জনবলসংকটের চিত্র আরও করুণ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে। শিক্ষা কর্মকর্তাসহ ১১টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র তিনজন। পাঁচটি ক্লাস্টারের জন্য পাঁচজন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিইও) থাকার কথা থাকলেও আছেন মাত্র একজন। এ ছাড়া তিনজন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর এবং উচ্চমান সহকারীর পদটি দীর্ঘ সাত বছর ধরে শূন্য রয়েছে।

উপজেলার দক্ষিণ পূর্ব চর চান্দিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ছয়টি শ্রেণির বিপরীতে শিক্ষক আছেন মাত্র তিনজন। তিনটি পদই শূন্য। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইউনুস আলী বলেন, বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে তাকে প্রায়ই শিক্ষা অফিসে যেতে হয়। তখন মাত্র দুজন নারী শিক্ষককে পুরো বিদ্যালয়ের সব শ্রেণির পাঠদান ও শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, যা অত্যন্ত কষ্টকর। একই অবস্থা দক্ষিণ পূর্ব চর চান্দিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ উপজেলার অন্তত ৭০টি বিদ্যালয়ের, যেখানে এমনকি দপ্তরির পদও খালি রয়েছে।

উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম বলেন, পূর্ণকালীন প্রধান শিক্ষক ছাড়া বিদ্যালয় চালানো কঠিন। পদোন্নতিসংক্রান্ত জটিলতায় উচ্চ আদালতে মামলা চলমান থাকায় নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে আছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম তাহেরুল ইসলাম বলেন, প্রধান শিক্ষক পদের ৬৫ শতাংশ পদোন্নতি এবং ৩৫ শতাংশ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ হয়। পদোন্নতিপ্রত্যাশীদের তালিকার নথি মন্ত্রণালয়ে জমা আছে। অনুমোদন হলে শূন্য পদগুলো পূরণ হবে। ২০১৩ সালে নিবন্ধিত বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণ হওয়ায় শূন্য পদের সংখ্যা বেড়েছে। শিক্ষা অফিসেও চরম কর্মীসংকট থাকায় ১১০টি বিদ্যালয়ের তদারকি করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

জানতে চাইলে সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিগ্যান চাকমা বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ প্রয়োজনীয় জনবলসংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। শিক্ষা অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

/

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ১০ জুন ২০২৬


সোনাগাজীতে শিক্ষক ও কর্মকর্তার পদ দীর্ঘদিনের শূন্য

প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৬

featured Image

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার ১১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫০টিতেই কোনো প্রধান শিক্ষক নেই। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে খালি রয়েছে ৬২ জন সহকারী শিক্ষকের পদ। প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়গুলোর দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তীব্র জনবলসংকটে খোদ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কার্যক্রমেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ৩৬টিতে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক আছেন। বাকি বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ২৪টিতে শিক্ষকেরা চলতি দায়িত্বে রয়েছেন এবং ৫০টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ সম্পূর্ণ শূন্য। অর্থাৎ, ৬.২৭ শতাংশ বিদ্যালয়ে কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকেরা ভারপ্রাপ্ত হিসেবে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করায় তাদের নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া সহকারী শিক্ষকের ৬৭২টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৬১০ জন।

জনবলসংকটের চিত্র আরও করুণ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে। শিক্ষা কর্মকর্তাসহ ১১টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র তিনজন। পাঁচটি ক্লাস্টারের জন্য পাঁচজন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিইও) থাকার কথা থাকলেও আছেন মাত্র একজন। এ ছাড়া তিনজন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর এবং উচ্চমান সহকারীর পদটি দীর্ঘ সাত বছর ধরে শূন্য রয়েছে।

উপজেলার দক্ষিণ পূর্ব চর চান্দিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ছয়টি শ্রেণির বিপরীতে শিক্ষক আছেন মাত্র তিনজন। তিনটি পদই শূন্য। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইউনুস আলী বলেন, বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে তাকে প্রায়ই শিক্ষা অফিসে যেতে হয়। তখন মাত্র দুজন নারী শিক্ষককে পুরো বিদ্যালয়ের সব শ্রেণির পাঠদান ও শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, যা অত্যন্ত কষ্টকর। একই অবস্থা দক্ষিণ পূর্ব চর চান্দিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ উপজেলার অন্তত ৭০টি বিদ্যালয়ের, যেখানে এমনকি দপ্তরির পদও খালি রয়েছে।

উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম বলেন, পূর্ণকালীন প্রধান শিক্ষক ছাড়া বিদ্যালয় চালানো কঠিন। পদোন্নতিসংক্রান্ত জটিলতায় উচ্চ আদালতে মামলা চলমান থাকায় নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে আছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম তাহেরুল ইসলাম বলেন, প্রধান শিক্ষক পদের ৬৫ শতাংশ পদোন্নতি এবং ৩৫ শতাংশ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ হয়। পদোন্নতিপ্রত্যাশীদের তালিকার নথি মন্ত্রণালয়ে জমা আছে। অনুমোদন হলে শূন্য পদগুলো পূরণ হবে। ২০১৩ সালে নিবন্ধিত বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণ হওয়ায় শূন্য পদের সংখ্যা বেড়েছে। শিক্ষা অফিসেও চরম কর্মীসংকট থাকায় ১১০টি বিদ্যালয়ের তদারকি করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

জানতে চাইলে সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিগ্যান চাকমা বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ প্রয়োজনীয় জনবলসংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। শিক্ষা অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

/


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত