সংবাদ

ভবিষ্যৎ শান্তিরক্ষা মিশন হবে আধুনিক ও প্রযুক্তি-নির্ভর: প্রধানমন্ত্রী


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৯:১৭ পিএম

ভবিষ্যৎ শান্তিরক্ষা মিশন হবে আধুনিক ও প্রযুক্তি-নির্ভর: প্রধানমন্ত্রী

বিশ্বে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের মিশনগুলোকে আরও আধুনিক, দূরদর্শী ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (১০ জুন) ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে ‘আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী ২৯ মে দিবসটি পালিত হলেও এবার বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি থাকায় ১০ জুন দিবসটি উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে আত্মোৎসর্গকারী ১৭৫ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং তাদের মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

তিনি শহীদ ও আহত শান্তিরক্ষীদের আত্মত্যাগকে ‘যুদ্ধবিরোধী শান্তিকামী মানুষের জন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং তাদের পরিবারের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন। 

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের দীর্ঘ যাত্রার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৮৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের ২ লাখের বেশি শান্তিরক্ষী বিশ্বের ৪৩টি দেশের প্রায় ৬৩টি মিশনে সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ১০টি মিশনে প্রায় ৫ হাজার ৮৬০ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন এবং হাইতিতে নতুন একটি মিশনে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

বিশেষভাবে নারী শান্তিরক্ষীদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে সরকারপ্রধান জানান, সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর প্রায় ১১ শতাংশ নারী সদস্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং পরিবেশে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন, যা বৈশ্বিক শান্তিরক্ষায় এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

বর্তমান বিশ্বের জটিল ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ এবং প্রযুক্তির দ্রুত বিবর্তনের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের চ্যালেঞ্জগুলো এখন অনেক বেশি বহুমুখী ও ঝুঁকিপূর্ণ। প্রথাগত যুদ্ধের পাশাপাশি সাইবার যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহার, গণমাধ্যমে অপপ্রচার এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নিরাপত্তা সংকট বিশ্বশান্তির নতুন অন্তরায় হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভবিষ্যৎ মিশনগুলোকে আরও আধুনিক ও দূরদর্শী করার লক্ষ্যে সরকার সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়নে পর্যায়ক্রমিকভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বলে তিনি জানান।

শৃঙ্খলা ও চেইন অব কমান্ডসদস্যদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি দেশের সশস্ত্র বাহিনী দেশের স্বাধীনতা, সম্মান ও সাহসের প্রতীক।

মহান মুক্তিযুদ্ধে সেনাবাহিনীর ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনীর একজন মেজর বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন। এই গৌরব ও অহংকার আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য চিরন্তন অনুপ্রেরণার উৎস।’

বাহিনীগুলোর ঐক্য ও চেইন অব কমান্ড বজায় রাখার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রফেশনালিজম, ইউনিটি, ডিসিপ্লিন এবং চেইন অফ কমান্ড ছাড়া সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে টিকে থাকা কঠিন।’

তিনি অতীতে বিভিন্ন সময়ে বাহিনীর ভাবমূর্তি নষ্ট করার অপতৎপরতা এবং ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিডিআর বিদ্রোহের সময় সশস্ত্র বাহিনীর ওপর আসা ‘সর্বগ্রাসী আঘাতের’ কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, ‘ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে এখন প্রতিটি রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সামনে পূর্ণ সততা ও মর্যাদার সঙ্গে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।’  প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান পরিষ্কার করে পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সব সময় স্বাধীন রাষ্ট্রগুলোর স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং পারস্পরিক রাষ্ট্রীয় মর্যাদার নীতিতে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে। যেকোনো আগ্রাসন ও সংঘাতের বিরুদ্ধে একটি নিরাপদ ও শান্তিময় পৃথিবী গড়ে তুলতে বাংলাদেশ বহুপক্ষীয় কূটনীতি ও জাতিসংঘ সনদের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর অবদান তুলে ধরা হয়। সেনাকুঞ্জের এই অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম এবং সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা, নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রধান, সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ১০ জুন ২০২৬


ভবিষ্যৎ শান্তিরক্ষা মিশন হবে আধুনিক ও প্রযুক্তি-নির্ভর: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ১০ জুন ২০২৬

featured Image

বিশ্বে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের মিশনগুলোকে আরও আধুনিক, দূরদর্শী ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (১০ জুন) ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে ‘আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী ২৯ মে দিবসটি পালিত হলেও এবার বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি থাকায় ১০ জুন দিবসটি উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে আত্মোৎসর্গকারী ১৭৫ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং তাদের মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

তিনি শহীদ ও আহত শান্তিরক্ষীদের আত্মত্যাগকে ‘যুদ্ধবিরোধী শান্তিকামী মানুষের জন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং তাদের পরিবারের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন। 

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের দীর্ঘ যাত্রার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৮৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের ২ লাখের বেশি শান্তিরক্ষী বিশ্বের ৪৩টি দেশের প্রায় ৬৩টি মিশনে সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ১০টি মিশনে প্রায় ৫ হাজার ৮৬০ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন এবং হাইতিতে নতুন একটি মিশনে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

বিশেষভাবে নারী শান্তিরক্ষীদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে সরকারপ্রধান জানান, সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর প্রায় ১১ শতাংশ নারী সদস্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং পরিবেশে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন, যা বৈশ্বিক শান্তিরক্ষায় এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

বর্তমান বিশ্বের জটিল ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ এবং প্রযুক্তির দ্রুত বিবর্তনের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের চ্যালেঞ্জগুলো এখন অনেক বেশি বহুমুখী ও ঝুঁকিপূর্ণ। প্রথাগত যুদ্ধের পাশাপাশি সাইবার যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহার, গণমাধ্যমে অপপ্রচার এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নিরাপত্তা সংকট বিশ্বশান্তির নতুন অন্তরায় হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভবিষ্যৎ মিশনগুলোকে আরও আধুনিক ও দূরদর্শী করার লক্ষ্যে সরকার সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়নে পর্যায়ক্রমিকভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বলে তিনি জানান।

শৃঙ্খলা ও চেইন অব কমান্ডসদস্যদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি দেশের সশস্ত্র বাহিনী দেশের স্বাধীনতা, সম্মান ও সাহসের প্রতীক।

মহান মুক্তিযুদ্ধে সেনাবাহিনীর ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনীর একজন মেজর বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন। এই গৌরব ও অহংকার আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য চিরন্তন অনুপ্রেরণার উৎস।’

বাহিনীগুলোর ঐক্য ও চেইন অব কমান্ড বজায় রাখার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রফেশনালিজম, ইউনিটি, ডিসিপ্লিন এবং চেইন অফ কমান্ড ছাড়া সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে টিকে থাকা কঠিন।’

তিনি অতীতে বিভিন্ন সময়ে বাহিনীর ভাবমূর্তি নষ্ট করার অপতৎপরতা এবং ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিডিআর বিদ্রোহের সময় সশস্ত্র বাহিনীর ওপর আসা ‘সর্বগ্রাসী আঘাতের’ কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, ‘ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে এখন প্রতিটি রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সামনে পূর্ণ সততা ও মর্যাদার সঙ্গে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।’  প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান পরিষ্কার করে পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সব সময় স্বাধীন রাষ্ট্রগুলোর স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং পারস্পরিক রাষ্ট্রীয় মর্যাদার নীতিতে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে। যেকোনো আগ্রাসন ও সংঘাতের বিরুদ্ধে একটি নিরাপদ ও শান্তিময় পৃথিবী গড়ে তুলতে বাংলাদেশ বহুপক্ষীয় কূটনীতি ও জাতিসংঘ সনদের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর অবদান তুলে ধরা হয়। সেনাকুঞ্জের এই অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম এবং সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা, নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রধান, সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত