দেশের শিল্পোদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবির মুখে অবশেষে বড় স্বস্তির খবর আসছে। বিনিয়োগের গতি ফেরানো, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ব্যাবসায়িক পরিবেশকে সহজ ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছর করপোরেট করের হার অপরিবর্তিত রাখার পরিকল্পনা করছে সরকার।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করার সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেবেন।
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে করপোরেট করের হার আগের মতোই বহাল রাখা হচ্ছে। তবে এবার কিছু নতুন শর্ত ও সুযোগ যুক্ত করা হয়েছে:
সরাসরি তালিকাভুক্ত কোম্পানি: আইপিওর (IPO) পাশাপাশি কোনো কোম্পানি যদি সরাসরি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে পরিশোধিত মূলধনের ন্যূনতম ১০ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করে, তবে তার করহার হবে সাড়ে ২২ শতাংশ।
ব্যাংকিং লেনদেনে ছাড়: এই ধরনের কোম্পানির সব ধরনের আয়-ব্যয় যদি ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন করা হয়, তবে করহার আরও কমে দাঁড়াবে ২০ শতাংশে।
অতালিকাভুক্ত কোম্পানি: অতালিকাভুক্ত কোম্পানির সাধারণ করহার হবে সাড়ে ২৭ শতাংশ। তবে সব লেনদেন ব্যাংকিং চ্যানেলে করলে এই হার কমে হবে ২৫ শতাংশ।
ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান
আর্থিক খাতের করপোরেট কর হারে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক, বীমা ও ফিন্যান্স কোম্পানির করহার থাকছে সাড়ে ৩৭ শতাংশ। তালিকাভুক্ত নয় এমন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের করহার আগের মতোই ৪০ শতাংশ বহাল রাখা হয়েছে।
মোবাইল অপারেটর কোম্পানিগুলোর জন্য সাধারণ করহার ৪৫ শতাংশ অপরিবর্তিত থাকছে। তবে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তি ও শেয়ার ছাড়ার ওপর ভিত্তি করে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে:
কোনো মোবাইল কোম্পানি পরিশোধিত মূলধনের ন্যূনতম ১০ শতাংশ শেয়ার স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত করলে করহার কমে হবে ৪০ শতাংশ।
মোবাইল কোম্পানিগুলোকে বাজারে আরও বেশি শেয়ার ছাড়তে উৎসাহিত করতে কর রেয়াতের প্রস্তাব করা হচ্ছে। খসড়া পরিকল্পনা অনুযায়ী, কোনো কোম্পানি যদি আইপিওর মাধ্যমে কমপক্ষে ২০ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করে, তবে সংশ্লিষ্ট বছরে প্রযোজ্য আয়করের ওপর ১০ শতাংশ হারে রেয়াত (ছাড়) দেওয়া হবে।
সিগারেট, বিড়ি, জর্দা, গুলসহ সব ধরনের তামাকজাত পণ্য প্রস্তুতকারী কোম্পানির ক্ষেত্রে সরকারের কঠোর অবস্থান বজায় রয়েছে। এই খাতের জন্য আগের মতোই সর্বোচ্চ ৪৫ শতাংশ করহার বহাল থাকছে। এর পাশাপাশি কোম্পানিগুলোকে অতিরিক্ত আড়াই (২.৫) শতাংশ সারচার্জ দিতে হবে।
ব্যবসায়িক খাতের অংশীজনরা সরকারের এই দীর্ঘমেয়াদি নীতিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, করহার পাঁচ বছরের জন্য অপরিবর্তিত রাখার এই সিদ্ধান্ত দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করবে এবং দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা আনবে।

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ জুন ২০২৬
দেশের শিল্পোদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবির মুখে অবশেষে বড় স্বস্তির খবর আসছে। বিনিয়োগের গতি ফেরানো, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ব্যাবসায়িক পরিবেশকে সহজ ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছর করপোরেট করের হার অপরিবর্তিত রাখার পরিকল্পনা করছে সরকার।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করার সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেবেন।
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে করপোরেট করের হার আগের মতোই বহাল রাখা হচ্ছে। তবে এবার কিছু নতুন শর্ত ও সুযোগ যুক্ত করা হয়েছে:
সরাসরি তালিকাভুক্ত কোম্পানি: আইপিওর (IPO) পাশাপাশি কোনো কোম্পানি যদি সরাসরি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে পরিশোধিত মূলধনের ন্যূনতম ১০ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করে, তবে তার করহার হবে সাড়ে ২২ শতাংশ।
ব্যাংকিং লেনদেনে ছাড়: এই ধরনের কোম্পানির সব ধরনের আয়-ব্যয় যদি ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন করা হয়, তবে করহার আরও কমে দাঁড়াবে ২০ শতাংশে।
অতালিকাভুক্ত কোম্পানি: অতালিকাভুক্ত কোম্পানির সাধারণ করহার হবে সাড়ে ২৭ শতাংশ। তবে সব লেনদেন ব্যাংকিং চ্যানেলে করলে এই হার কমে হবে ২৫ শতাংশ।
ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান
আর্থিক খাতের করপোরেট কর হারে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক, বীমা ও ফিন্যান্স কোম্পানির করহার থাকছে সাড়ে ৩৭ শতাংশ। তালিকাভুক্ত নয় এমন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের করহার আগের মতোই ৪০ শতাংশ বহাল রাখা হয়েছে।
মোবাইল অপারেটর কোম্পানিগুলোর জন্য সাধারণ করহার ৪৫ শতাংশ অপরিবর্তিত থাকছে। তবে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তি ও শেয়ার ছাড়ার ওপর ভিত্তি করে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে:
কোনো মোবাইল কোম্পানি পরিশোধিত মূলধনের ন্যূনতম ১০ শতাংশ শেয়ার স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত করলে করহার কমে হবে ৪০ শতাংশ।
মোবাইল কোম্পানিগুলোকে বাজারে আরও বেশি শেয়ার ছাড়তে উৎসাহিত করতে কর রেয়াতের প্রস্তাব করা হচ্ছে। খসড়া পরিকল্পনা অনুযায়ী, কোনো কোম্পানি যদি আইপিওর মাধ্যমে কমপক্ষে ২০ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করে, তবে সংশ্লিষ্ট বছরে প্রযোজ্য আয়করের ওপর ১০ শতাংশ হারে রেয়াত (ছাড়) দেওয়া হবে।
সিগারেট, বিড়ি, জর্দা, গুলসহ সব ধরনের তামাকজাত পণ্য প্রস্তুতকারী কোম্পানির ক্ষেত্রে সরকারের কঠোর অবস্থান বজায় রয়েছে। এই খাতের জন্য আগের মতোই সর্বোচ্চ ৪৫ শতাংশ করহার বহাল থাকছে। এর পাশাপাশি কোম্পানিগুলোকে অতিরিক্ত আড়াই (২.৫) শতাংশ সারচার্জ দিতে হবে।
ব্যবসায়িক খাতের অংশীজনরা সরকারের এই দীর্ঘমেয়াদি নীতিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, করহার পাঁচ বছরের জন্য অপরিবর্তিত রাখার এই সিদ্ধান্ত দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করবে এবং দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা আনবে।

আপনার মতামত লিখুন