নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশালের রসালো ও সুমিষ্ট আনারসের দেশজুড়ে সুনাম রয়েছে। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এলাকায় আনারসের বাম্পার ফলন হয়েছে। ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় বাগানমালিক ও চাষিদের মুখে চওড়া হাসি ফুটেছে। উপজেলার প্রতিটি বাজার এখন পাকা আনারসের মিষ্টি সুবাসে মুখরিত।
স্থানীয়ভাবে একটি প্রবাদ প্রচলিত আছে,‘ঘোড়াশালের রাবানের আনারস, রসে ভরা টসটস।’ ঘোড়াশাল পৌর এলাকা ও জিনারদী ইউনিয়নের প্রায় ৭০ শতাংশ জমি আনারস চাষের উপযোগী। আম, কাঁঠাল ও লটকনের পাশাপাশি এলাকার কৃষকদের প্রধান অর্থকরী ফসল এটি। এই অঞ্চলের বহু মানুষ আনারস চাষের সঙ্গে জড়িত।
ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, প্রায় ১৫০ বছর আগে স্থানীয় এক ব্যক্তি সিলেট থেকে আনারসের চারা এনে এখানে রোপণ করেন। ফলন ভালো হওয়ায় ধীরে ধীরে এর চাষ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে দেশীয় জাতটি বিলুপ্ত হয়ে গেলেও সিলেট থেকে আসা জাতটি ঘোড়াশালের মাটি ও আবহাওয়ার সঙ্গে চমৎকারভাবে খাপ খাইয়ে নেয়।
ঘোড়াশাল ও জিনারদীতে চাষ করা এই জাতটি স্থানীয়ভাবে ‘জলডুবি’ নামে পরিচিত, যার বৈজ্ঞানিক নাম ‘হানিকুইন’। মূলত টিলা ও টেক এলাকার জমিতে এই আনারসের ফলন সবচেয়ে ভালো হয়। বর্তমানে উপজেলার রাবান, কুড়াইতলী, লাখেরাজ, খাগৈর, বড়িবাড়ি, কাটাবের, বরাব, ধলাদিয়া, গুপিরাই পাড়া, লেবুপাড়া ও সাতটিকাসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে এর চাষ হচ্ছে।
চাষিরা জানান, প্রতি বিঘায় আনারস চাষে খরচ হয় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। আর ফলন ভালো হলে তা ৬০ থেকে ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করা সম্ভব। প্রতি একরে প্রায় ১৭ থেকে ১৮ হাজার চারা রোপণ করা যায়। উপজেলায় প্রায় ১৫০ হেক্টর জমিতে আনারসের চাষ হয়, যেখান থেকে প্রতিবছর প্রায় ৭-৮ কোটি টাকার আনারস বিক্রি হয়।
রাবান ভালুকাপাড়ার প্রকৌশলী প্রান্ত মিত্র ও কুড়াইতলীর জ্ঞানাঞ্জলী গণগ্রন্থাগারের সম্পাদক অপু সেন জানান, তাদের উভয়েরই চারটি করে আনারস বাগান রয়েছে। এবার আনারসের আকৃতি গতবারের চেয়ে বেশ বড় এবং ফলনও ভালো। প্রতিদিন ট্রাক ও বিভিন্ন যানবাহনে করে এখান থেকে আনারস যাচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।
বাজারে ১০-১২ দিন হলো নতুন আনারস উঠতে শুরু করেছে। বর্তমানে আকারভেদে প্রতি হালি আনারস ১০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে কৃষকদের মূল দুশ্চিন্তা এই ফলের স্থায়িত্ব নিয়ে।
আনারস পচনশীল ফল হলেও পলাশ-ঘোড়াশাল অঞ্চলে কোনো হিমাগার নেই। ফলে বাধ্য হয়ে দ্রুত ও কম দামে ফল বিক্রি করে দিতে হয়। কৃষকেরা জরুরি ভিত্তিতে এখানে একটি হিমাগার স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি এখনো সনাতন পদ্ধতিতে চাষ করায় উৎপাদন কিছুটা সীমিত। কৃষকদের মতে, আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করলে ফলন আরও বাড়ানো সম্ভব।
পলাশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আয়েশা আক্তার জানান, গত বছর অনাবৃষ্টি ও খরার কারণে আনারসের আকার ছোট ছিল। তবে এবার সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় ফলন ও আকার দুটোই ভালো হয়েছে। প্রতি হেক্টরে এবার ১৮ থেকে ২০ টন আনারস উৎপাদিত হয়েছে। গত বছর যেখানে মোট উৎপাদন ছিল ১ হাজার ৬৫০ মেট্রিক টন, এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭২৫ মেট্রিক টনে। অর্থাৎ গত বছরের চেয়ে এবার ৭৫ মেট্রিক টন আনারস বেশি উৎপাদিত হয়েছে। কৃষি অফিসের মাঠকর্মীরাও নিয়মিত চাষিদের পরামর্শ দিয়ে পাশে ছিলেন।
/

শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ জুন ২০২৬
নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশালের রসালো ও সুমিষ্ট আনারসের দেশজুড়ে সুনাম রয়েছে। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এলাকায় আনারসের বাম্পার ফলন হয়েছে। ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় বাগানমালিক ও চাষিদের মুখে চওড়া হাসি ফুটেছে। উপজেলার প্রতিটি বাজার এখন পাকা আনারসের মিষ্টি সুবাসে মুখরিত।
স্থানীয়ভাবে একটি প্রবাদ প্রচলিত আছে,‘ঘোড়াশালের রাবানের আনারস, রসে ভরা টসটস।’ ঘোড়াশাল পৌর এলাকা ও জিনারদী ইউনিয়নের প্রায় ৭০ শতাংশ জমি আনারস চাষের উপযোগী। আম, কাঁঠাল ও লটকনের পাশাপাশি এলাকার কৃষকদের প্রধান অর্থকরী ফসল এটি। এই অঞ্চলের বহু মানুষ আনারস চাষের সঙ্গে জড়িত।
ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, প্রায় ১৫০ বছর আগে স্থানীয় এক ব্যক্তি সিলেট থেকে আনারসের চারা এনে এখানে রোপণ করেন। ফলন ভালো হওয়ায় ধীরে ধীরে এর চাষ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে দেশীয় জাতটি বিলুপ্ত হয়ে গেলেও সিলেট থেকে আসা জাতটি ঘোড়াশালের মাটি ও আবহাওয়ার সঙ্গে চমৎকারভাবে খাপ খাইয়ে নেয়।
ঘোড়াশাল ও জিনারদীতে চাষ করা এই জাতটি স্থানীয়ভাবে ‘জলডুবি’ নামে পরিচিত, যার বৈজ্ঞানিক নাম ‘হানিকুইন’। মূলত টিলা ও টেক এলাকার জমিতে এই আনারসের ফলন সবচেয়ে ভালো হয়। বর্তমানে উপজেলার রাবান, কুড়াইতলী, লাখেরাজ, খাগৈর, বড়িবাড়ি, কাটাবের, বরাব, ধলাদিয়া, গুপিরাই পাড়া, লেবুপাড়া ও সাতটিকাসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে এর চাষ হচ্ছে।
চাষিরা জানান, প্রতি বিঘায় আনারস চাষে খরচ হয় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। আর ফলন ভালো হলে তা ৬০ থেকে ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করা সম্ভব। প্রতি একরে প্রায় ১৭ থেকে ১৮ হাজার চারা রোপণ করা যায়। উপজেলায় প্রায় ১৫০ হেক্টর জমিতে আনারসের চাষ হয়, যেখান থেকে প্রতিবছর প্রায় ৭-৮ কোটি টাকার আনারস বিক্রি হয়।
রাবান ভালুকাপাড়ার প্রকৌশলী প্রান্ত মিত্র ও কুড়াইতলীর জ্ঞানাঞ্জলী গণগ্রন্থাগারের সম্পাদক অপু সেন জানান, তাদের উভয়েরই চারটি করে আনারস বাগান রয়েছে। এবার আনারসের আকৃতি গতবারের চেয়ে বেশ বড় এবং ফলনও ভালো। প্রতিদিন ট্রাক ও বিভিন্ন যানবাহনে করে এখান থেকে আনারস যাচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।
বাজারে ১০-১২ দিন হলো নতুন আনারস উঠতে শুরু করেছে। বর্তমানে আকারভেদে প্রতি হালি আনারস ১০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে কৃষকদের মূল দুশ্চিন্তা এই ফলের স্থায়িত্ব নিয়ে।
আনারস পচনশীল ফল হলেও পলাশ-ঘোড়াশাল অঞ্চলে কোনো হিমাগার নেই। ফলে বাধ্য হয়ে দ্রুত ও কম দামে ফল বিক্রি করে দিতে হয়। কৃষকেরা জরুরি ভিত্তিতে এখানে একটি হিমাগার স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি এখনো সনাতন পদ্ধতিতে চাষ করায় উৎপাদন কিছুটা সীমিত। কৃষকদের মতে, আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করলে ফলন আরও বাড়ানো সম্ভব।
পলাশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আয়েশা আক্তার জানান, গত বছর অনাবৃষ্টি ও খরার কারণে আনারসের আকার ছোট ছিল। তবে এবার সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় ফলন ও আকার দুটোই ভালো হয়েছে। প্রতি হেক্টরে এবার ১৮ থেকে ২০ টন আনারস উৎপাদিত হয়েছে। গত বছর যেখানে মোট উৎপাদন ছিল ১ হাজার ৬৫০ মেট্রিক টন, এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭২৫ মেট্রিক টনে। অর্থাৎ গত বছরের চেয়ে এবার ৭৫ মেট্রিক টন আনারস বেশি উৎপাদিত হয়েছে। কৃষি অফিসের মাঠকর্মীরাও নিয়মিত চাষিদের পরামর্শ দিয়ে পাশে ছিলেন।
/

আপনার মতামত লিখুন