যে বয়সে শিশুদের হাতে থাকার কথা বই-খাতা, সেই বয়সে জীবিকার তাগিদে রাস্তায় রাস্তায় মাস্ক বিক্রি করছে দুই শিশু। তাদের সঙ্গে আছেন এক অসহায় মা, কোলে আরেকটি দুধের শিশু। স্বামীর পরিত্যাগ আর দারিদ্র্যের নির্মম বাস্তবতায় তিন সন্তানকে নিয়ে প্রতিদিন বেঁচে থাকার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
কয়েক বছর আগে ৪১ দিনের শিশুসন্তানকে রেখে সংসার ছেড়ে চলে যান তার স্বামী। এরপর থেকেই তিন সন্তানকে নিয়ে অনিশ্চয়তা আর কষ্টের জীবন শুরু হয় এই মায়ের। স্বামীর কোনো খোঁজ নেই, নেই কোনো আর্থিক সহায়তাও। ফলে সন্তানদের নিয়ে পথে নেমেই জীবিকা খুঁজতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।
প্রতিদিন সকালে কোলের শিশুকে নিয়ে বের হন রাস্তায়। পাশে থাকে আট বছরের ছেলে ও ছয় বছরের মেয়ে। তাদের হাতে থাকে কিছু মাস্ক। পথচারীদের সামনে দাঁড়িয়ে তারা আকুতি জানায় ‘মাস্ক নিবেন, মাস্ক নিবেন?’ কিন্তু শত মানুষের ভিড়েও খুব একটা বিক্রি হয় না তাদের পণ্য।
সারাদিন ঘুরে কোনো দিন ১০০ টাকা, কোনো দিন ১৫০ টাকা আয় হয়। সেই সামান্য টাকাতেই চালাতে হয় পুরো সংসার। অনেক দিন সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেও পরিবারের কারও পেটে জোটে না একমুঠো খাবার। না খেয়েই জীবিকার সন্ধানে বের হতে হয় তাদের।
শিশুর মা বলেন, সন্তানরা প্রায়ই বাবার খোঁজ জানতে চায়। তারা জিজ্ঞেস করে, ‘বাবা কোথায়?’ কিন্তু আমি কোনো উত্তর দিতে পারিনা। সন্তানদের প্রশ্ন আর নিজের অসহায়ত্বের কাছে নীরবে চোখের জল ফেলাই যেন তার প্রতিদিনের নিয়তি।
ছয় বছর বয়সি মেয়ের নাম সুমাইয়া আক্তার তিনি বলেন, আমি মায়ের সঙ্গে থাকি এবং মাস্ক বিক্রি করতে সাহায্য করি। ছোট ভাইকে কোলে নিই, মায়ের কাজে সাহায্য করি। অনেক সময় ক্ষুধা লাগে, কিন্তু আমাদের কাজ করতে হয়।
আমি স্কুলে যেতে চাই, বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে চাই। বাবাকে দেখতে ইচ্ছে করে। মা কাঁদলে আমারও কষ্ট লাগে। আমি চাই আমাদের আর কষ্ট না হোক। আমার স্বপ্ন পড়ালেখা করে ডাক্তার হবো ।
আট বছর বয়সি ছোট ছেলের নাম মিরাজুল ইসলাম, তিনি বলেন, আমি মায়ের সঙ্গে রাস্তায় রাস্তায় মাস্ক বিক্রি করি। অনেক সময় মানুষ মাস্ক কিনে, আবার অনেক সময় কেউ কিনতে চায় না। তখন খুব কষ্ট লাগে। আমি চাই মাকে সাহায্য করতে, যাতে আমরা খাবার খেতে পারি। আমি স্কুলে যেতে চাই, পড়াশোনা করে বড় মানুষ হতে চাই। বাবাকে খুব মনে পড়ে। বাবা কোথায় আছে জানি না। আমি চাই বাবা ফিরে আসুক।
সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে গিয়ে হারিয়ে যাচ্ছে তাদের শৈশব। স্কুলে যাওয়ার বয়সে তারা এখন রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে মাস্ক বিক্রি করছে। মায়ের কষ্ট কমাতে ছোট্ট হাতগুলোও জড়িয়ে পড়েছে উপার্জনের সংগ্রামে।
তবে এত কষ্টের মধ্যেও স্বপ্ন দেখতে ভোলেননি এই মা। তিনি চান, তার সন্তানরা যেন দুবেলা পেট ভরে খেতে পারে, পড়াশোনা করতে পারে এবং সমাজে প্রতিষ্ঠিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
স্বামীর পরিত্যাগ, দারিদ্র্য আর অনিশ্চয়তার বিরুদ্ধে প্রতিদিন লড়াই করে চলা এই পরিবারের গল্প সমাজের বিবেককে নাড়া দেয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সমাজের বিত্তবানদের সহায়তা পেলে হয়তো বদলে যেতে পারে এই অসহায় মা ও তার তিন সন্তানের জীবন।

শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ জুন ২০২৬
যে বয়সে শিশুদের হাতে থাকার কথা বই-খাতা, সেই বয়সে জীবিকার তাগিদে রাস্তায় রাস্তায় মাস্ক বিক্রি করছে দুই শিশু। তাদের সঙ্গে আছেন এক অসহায় মা, কোলে আরেকটি দুধের শিশু। স্বামীর পরিত্যাগ আর দারিদ্র্যের নির্মম বাস্তবতায় তিন সন্তানকে নিয়ে প্রতিদিন বেঁচে থাকার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
কয়েক বছর আগে ৪১ দিনের শিশুসন্তানকে রেখে সংসার ছেড়ে চলে যান তার স্বামী। এরপর থেকেই তিন সন্তানকে নিয়ে অনিশ্চয়তা আর কষ্টের জীবন শুরু হয় এই মায়ের। স্বামীর কোনো খোঁজ নেই, নেই কোনো আর্থিক সহায়তাও। ফলে সন্তানদের নিয়ে পথে নেমেই জীবিকা খুঁজতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।
প্রতিদিন সকালে কোলের শিশুকে নিয়ে বের হন রাস্তায়। পাশে থাকে আট বছরের ছেলে ও ছয় বছরের মেয়ে। তাদের হাতে থাকে কিছু মাস্ক। পথচারীদের সামনে দাঁড়িয়ে তারা আকুতি জানায় ‘মাস্ক নিবেন, মাস্ক নিবেন?’ কিন্তু শত মানুষের ভিড়েও খুব একটা বিক্রি হয় না তাদের পণ্য।
সারাদিন ঘুরে কোনো দিন ১০০ টাকা, কোনো দিন ১৫০ টাকা আয় হয়। সেই সামান্য টাকাতেই চালাতে হয় পুরো সংসার। অনেক দিন সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেও পরিবারের কারও পেটে জোটে না একমুঠো খাবার। না খেয়েই জীবিকার সন্ধানে বের হতে হয় তাদের।
শিশুর মা বলেন, সন্তানরা প্রায়ই বাবার খোঁজ জানতে চায়। তারা জিজ্ঞেস করে, ‘বাবা কোথায়?’ কিন্তু আমি কোনো উত্তর দিতে পারিনা। সন্তানদের প্রশ্ন আর নিজের অসহায়ত্বের কাছে নীরবে চোখের জল ফেলাই যেন তার প্রতিদিনের নিয়তি।
ছয় বছর বয়সি মেয়ের নাম সুমাইয়া আক্তার তিনি বলেন, আমি মায়ের সঙ্গে থাকি এবং মাস্ক বিক্রি করতে সাহায্য করি। ছোট ভাইকে কোলে নিই, মায়ের কাজে সাহায্য করি। অনেক সময় ক্ষুধা লাগে, কিন্তু আমাদের কাজ করতে হয়।
আমি স্কুলে যেতে চাই, বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে চাই। বাবাকে দেখতে ইচ্ছে করে। মা কাঁদলে আমারও কষ্ট লাগে। আমি চাই আমাদের আর কষ্ট না হোক। আমার স্বপ্ন পড়ালেখা করে ডাক্তার হবো ।
আট বছর বয়সি ছোট ছেলের নাম মিরাজুল ইসলাম, তিনি বলেন, আমি মায়ের সঙ্গে রাস্তায় রাস্তায় মাস্ক বিক্রি করি। অনেক সময় মানুষ মাস্ক কিনে, আবার অনেক সময় কেউ কিনতে চায় না। তখন খুব কষ্ট লাগে। আমি চাই মাকে সাহায্য করতে, যাতে আমরা খাবার খেতে পারি। আমি স্কুলে যেতে চাই, পড়াশোনা করে বড় মানুষ হতে চাই। বাবাকে খুব মনে পড়ে। বাবা কোথায় আছে জানি না। আমি চাই বাবা ফিরে আসুক।
সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে গিয়ে হারিয়ে যাচ্ছে তাদের শৈশব। স্কুলে যাওয়ার বয়সে তারা এখন রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে মাস্ক বিক্রি করছে। মায়ের কষ্ট কমাতে ছোট্ট হাতগুলোও জড়িয়ে পড়েছে উপার্জনের সংগ্রামে।
তবে এত কষ্টের মধ্যেও স্বপ্ন দেখতে ভোলেননি এই মা। তিনি চান, তার সন্তানরা যেন দুবেলা পেট ভরে খেতে পারে, পড়াশোনা করতে পারে এবং সমাজে প্রতিষ্ঠিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
স্বামীর পরিত্যাগ, দারিদ্র্য আর অনিশ্চয়তার বিরুদ্ধে প্রতিদিন লড়াই করে চলা এই পরিবারের গল্প সমাজের বিবেককে নাড়া দেয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সমাজের বিত্তবানদের সহায়তা পেলে হয়তো বদলে যেতে পারে এই অসহায় মা ও তার তিন সন্তানের জীবন।

আপনার মতামত লিখুন